একাত্তরের গণহত্যার জন্য এখনও ক্ষমা চায়নি পাকিস্তান। উলটো দেশটি বাংলাদেশে মিডিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতে চায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে বাছাই করা ১০ সাংবাদিককে সরকারি আতিথেয়তায় নিয়ে যাওয়া হয় ইসলামাবাদে। অভিযোগ, পাকিস্তান সরকারের ভাবমূর্তি বাংলাদেশের মানুষদের কাছে উজ্জ্বল করে তোলা।
পাকিস্তান বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত থেকে শুরু করে গণহত্যা। রাজাকার আর আল-বাদরদের সঙ্গে নিয়ে বাঙালি জাতিস্বত্ত্বাকেই সেদিন মুছে দিতে চেয়েছিল পাকিস্তান। তাদের বর্বরতার হাত থেকে শিশু, নারী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা কেউ রক্ষা পায়নি।
এক কোটিরও বেশি মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। বিভিন্ন পেশার মানুষদের হত্যা করে বাঙালির মেরুদণ্ডটাকেই ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল পাকিস্তান।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে মহান মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে অর্জন করেন দেশের স্বাধীনতা।
কিন্তু সেই অর্জিত স্বাধীনতাও বিসর্জন দেওয়ার চেষ্টা কম হয়নি। স্বাধীনতা লাভের পর যখন জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু ‘সোনার বাংলা’ গড়ার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছিলেন, তখনই তাকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
বিদেশে থাকায় তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রাণে বেঁচে যান। এই ঘটনায় বাংলাদেশি ঘাতকদের সঙ্গে পাকিস্তানি যোগসূত্র প্রমাণিত সত্য। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরও ষড়যন্ত্র কিন্তু থামেনি। তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ফের ‘সোনার বাংলার’ স্বপ্নকে সফল করতে চাইলেও বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এমনকী, শেখ হাসিনাকেও হত্যা করার ষড়যন্ত্র হয়েছে বেশ কয়েকবার।
বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার খোয়াব এখনও দেখে চলেছে পাকিস্তান। মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চায় তারা। এখনও গণহত্যার জন্য ক্ষমা চায়নি। বরং ইতিহাসকে বিকৃত করে চলেছে। এতোকাল সেই প্রক্রিয়াটি সীমাবদ্ধ ছিল অনলাইন জগতে। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে তারা একাত্তরের বর্বরতাকে ভুলিয়ে দিতে চাইছিল। ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে তাদের প্রচারের অভিমুখ ছিল ভারতের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে নিজেদের পছন্দের ১০ সাংবাদিককে পাকিস্তান উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। দলটি পাকিস্তান সরকারের প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেয়।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব মুহাম্মদ সাইরাস সাজ্জাদ কাজিও দেখা করেন তাদের সঙ্গে। বাংলাদেশ-পাকিস্তান বন্ধুত্ব বাড়ানোর বিষয়টি বিভিন্ন বৈঠকে গুরুত্ব পায়। তারা ইসলামাবাদের পাশাপাশি লাহোরে গিয়েছিলেন।
লাহোরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির সঙ্গেও তাদের কথা হয়।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতিতে পাকিস্তানের তরফে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের এগিয়ে আসতে বলা হয়।
