জার্মান হকি কোচ গেরহার্ড রাক পিটারের সঙ্গে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের চুক্তি হবে জুন থেকে জুন, এক বছরের জন্য। পিটারকে টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে গতকাল দুপুরে ফেডারেশন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়, যেখানে পিটার নিজেই উপস্থিত ছিলেন।
২০০৯ সালে পিটার জাতীয় দলের কোচ ছিলেন। ক্লাব কোচিং করিয়েছেন মেরিনার ইয়াংসে,মোহামেডানে। বাংলাদেশে যখন এসেছিলেন তখন ফেডারেশন সম্পাদক খোন্দকার জামিল, তিনি পিটারের সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশের হকি খেলোয়াড়দেরকে ইউরোপে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। সেই সূত্রে ধরে এখনো ইউরোপে যাচ্ছেন খেলোয়াড়রা। পিটার ঢাকায় এসে সংবাদ সম্মেলনে জামিলের কথা স্মরণ করলেন।
পিটার এখন কেনিয়া হকিতে কাজ করছেন। সেখান থেকে বাংলাদেশে চলে আসবেন। কেনিয়ায় পিটারের আইটি বিজনেস রয়েছে। পিটার বাংলাদেশের হেড কোচ হতে চেয়েছিলেন। সেটা দেয়নি ফেডারেশন। হেড কোচ হওয়ার জন্য আরো একজন ইউরোপীয়ান কোচ আনার কথা ভাবছে ফেডারেশন। কাকে নেওয়া যায় সেটা ঠিক করবেন পিটার। পিটার বাংলাদেশের হকি সম্পর্কে জানেন। এখানকার ক্লাব, জাতীয় দল, খেলোয়াড়দের মন মানসিকতা সবই জানেন তিনি।
এ কারণে তাকে পছন্দ। সহজে মানিয়ে নিতে পারবেন পিটার। নতুন কাউকে আনা হলে সবকিছু চিনতে, বুঝতে অনেকটা সময় চলে যাবে। তার চেয়ে চেনা মানুষ পিটারের নামটাই তুলে নিয়েছেন বলে জানালেন ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল এহসান রানা। পিটার সংবাদ সম্মেলনে এসে সাহসের সঙ্গে বলে দিলেন, ‘আমি এখানকার ভালো মানুষ, খারাপ মানুষগুলোকে চিনি। নতুন করে জানার কিছু নেই।’ পিটার বাংলাদেশের হকিকে দেখছেন। ইউটিউবে খেলা দেখেছেন। ‘একটুও আগায়নি। খেলোয়াড়রা এমন কিছু ভুল করে বসেন যেখানে জয়ের সম্ভাবনা থাকার পরও ম্যাচ জেতা হয় না-বললেন পিটার।
পিটার দেশীয় কোচদেরকে প্রশিক্ষণ দেবেন। বাংলাদেশ থেকে বাছাই করা খেলোয়াড়দের নিয়ে যাবেন ইউরোপে। সেখানে এপ্রিল, মে, জুন পর্যন্ত অবস্থান করবেন। সেখানে ইউরোপের ক্লাব হকিতে খেলবেন, সপ্তাহে দুই-তিন দিন জাতীয় দলের অনুশীলনে যোগ দেবেন। এর ফাঁকে ফাঁকে ইউরোপের অন্যান্য দেশে গিয়ে ম্যাচ খেলবেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। বছরের শেষ দিকে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ইউরোপে অবস্থান করবেন খেলোয়াড়রা। ঢাকায় লিগ, ফ্রাঞ্চাইজি হকি অন্য খেলাগুলো হবে ইউরোপের প্রশিক্ষণের মাঝের সময়টাতে।
ইউরোপে থাকাকালীন খেলোয়াড়রা মাসে ৫০০ ইউরো বেতন পাবেন। থাকা, খাওয়া এবং ট্রান্সপোর্ট সুবিধা দেবে নিজ নিজ ক্লাব। আশা করি, এতো সুন্দর জীবন পেয়ে তারা অন্য কোনো পথে যাবে না- জানিয়েছেন পিটার। পিটারকে ঢাকার বাইরেও পাঠাতে চায় ফেডারেশন। প্রতিভা বাছাই করতে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল হক সাঈদ বললেন, ‘লোকাল কোচ নিয়ে কাজ করবে পিটার, এক সেকেন্ড ছাড় দেওয়া হবে না। টাকা দিয়ে রাখব, পুরোটা আদায় করব।’
পিটারকে বড় অঙ্কের টাকা দিতে হবে, সেটা সংগ্রহ করতে হকি ফেডারেশন ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপনের কাছে যাবেন। জার্মানির সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক চুক্তির আওতায় পিটারকে নেওয়ার প্রস্তাব দেবে ফেডারেশন।
