শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

বিমানে ওঠার আগে বাদ মেহেদী 

২৩ সদস্যের ফুটবল দল কাতার গেল

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৪, ০৫:৪৮

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এবং এশিয়ান কাপ ২০২৭-এর বাছাইয়ের শেষ ম্যাচ খেলতে গতকাল কাতার পৌঁছেছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। আগামী মঙ্গলবার কাতারের দোহায় লেবাননের বিপক্ষে নিজের আই গ্রুপের শেষ ম্যাচ। লেবাননের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা হোম ভেন্যু করেছে ২০২২ বিশ্বকাপের শহর কাতারের দোহায়।

বাংলাদেশ ফুটবল দল পরশু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঢাকায় ২-০ গোলে হেরেছে। সেই স্কোয়াডের ২৬ জন থেকে ২৩ জনকে নিয়ে শেষ ম্যাচটি খেলতে গেছেন জাতীয় দলের স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরা। বাদ দিয়ে গেছেন মেহেদী হাসান, রাহুল, এবং আব্দুল্লাহকে। এদের মধ্যে মেহেদী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একাদশে ছিলেন। লিগেরও অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার তিনি। মোহামেডানের জার্সি গায়ে রক্ষণ সামাল দিয়ে সবার নজর কেড়েছেন। হ্যাভিয়ের মেহেদীকে এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামিয়েছেন এবং গতকাল দুপুরে তাকে বাদ দিয়েছেন। কেন বাদ দিয়েছেন সেই প্রশ্ন করার সুযোগ দেননি কোচ।

জাতীয় দল বাইরে যাওয়ার আগে একটা সংবাদ সম্মেলন হয়নি। চূড়ান্ত দল নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন করেনি বাফুফে। আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে, কী পরিকল্পনা, কারা যাবেন, কারা যেতে পারবেন না, কেন পারবেন না, যাদের রাখা হলো তাদেরকে কোন বিবেচনায় জায়গা দেওয়া হলো—তার কোনো কিছুই জানা হলো না। আনুষ্ঠানিক আয়োজনের প্রয়োজনও মনে করল না বাফুফে। গতকাল বিকালে ২৩ সদস্যের জাতীয় দল যখন সিটবেল্ট বেঁধে রানওয়েতে প্লেন, তখন অনুগ্রহ করে বাফুফে একটা তালিকা প্রকাশ করল। এভাবেই চলছে বাফুফের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো।

মেহেদী রক্ষণে আত্নবিশ্বাসী একজন ফুটবলার। তাকে কাল দুপুরে কোচ হ্যাভিয়ের বলে দিয়েছেন, ‘যাও তুমি বিশ্রাম নাও।’  বুঝতে বাকি থাকল না, কাতার নেওয়া হচ্ছে না মেহেদীর। মন খারাপ করে নিজ ক্লাব মোহামেডান টেন্টে চলে গেলেন।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আত্মঘাতী গোল হজম করেছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলাররের পাওয়ারফুল শট ব্লক করতে গিয়ে পা বাড়িয়ে ছিলেন মেহেদী। তীব্র গতির বল মিঠুর পায়ে চুমু খেয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিজেদের পোষ্টের দিকে ঘুরে যায়। তারপরও আত্মবিশ্বাসী এই ফুটবলারের ওপর কোচ হ্যাভিয়েরও আস্থা রেখেছিলেন, শেষ বাঁশি পর্যন্ত খেলিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হার ঠেকানোর অন্যতম কাণ্ডারি মেহেদী লেবাননের বিপক্ষে আরো উজ্জীবিত থাকবেন এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু উলটো কপাল পুড়ল তার। অথচ ২৩ জনের দলের এমন ফুটবলারও রয়েছেন যারা ক্লাব ফুটবলে বেঞ্চে বসে ছিলেন।

ল্যাগেজ নিয়ে ক্লাবে ফেরা মেহেদীকে দেখে ব্যথিত মোহামেডানের কোচ আলফাজ আহমেদ এবং ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকিব। এই দুই সাবেক তারকা স্ট্রাইকার একবাক্যে বলছিলেন, ‘রিমন হোসেন বেঞ্চে কাটিয়েছেন, চেঞ্জিংয়ে খেলেছেন, মজিবর রহমান জনি, রফিকুল ইসলামরা বেঞ্চে সময় কাটিয়েছেন। মোরসালিন ইনজুরিতে ছিলেন, খুব কমই ক্লাবের ম্যাচ খেলেছেন। তারিক কাজী ইনজুরিতে ছিলেন, কয়টা ম্যাচ খেলেছেন? সাদ উদ্দিন আছে, জুনিয়র সোহেল রানা তো যেতেই চাননি। তিনি নিজেই নাকি কোচকে জানিয়েছেন কাতারে যেতে চান না ইনজুরি আছে। এরা সবাই বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলার। সুশান্ত ত্রিপুরা নতুন করে জাতীয় দলে ফিরেছেন। জামাল ভুঁইয়া লিগের এক দুইটা ম্যাচ খেলেছেন। তারা থাকলে একাদশের ফুটবলারকে বাদ দেন কীভাবে।’ আলফাজ-নকিবের কথা হচ্ছে ‘অন্যদের তুলনায় মেহেদী হাসান মিঠুর পারফরম্যান্স অনেক ভালো। অন্যদেরকে দলে রাখার বাধ্যবাধকতায় মিঠুকে ছেটে ফেলেছেন কোচ।’

জাতীয় দলের ম্যানেজার আমের খান বিমানে ওঠার আগে মেহেদী প্রশ্নে জানালেন, ‘কেন বাদ দেওয়া হয়েছে আমি জানি না, এটা কোচ বলতে পারবেন। আমার মনে হয় অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচের পর ড্রেসিং রুমে একটু অসুস্থ বোধ করছিলেন মেহেদী, শরীর দুর্বল লাগছিল বলে অ্যাম্বুলেন্স এনে হাসপাতালে পাঠানো হয়। শরীর দুর্বল বলে কি না, নাকি অন্য কোনো কারণ, আমি শিওর না, আসলে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে।’ 

হাসপাতালের বিষয়ে মেহেদীর কাছে জানতে চাইলে মিঠু বলেন, ‘একটা স্যালাইন দেওয়া হয়েছে আমি চলে এসেছি। শরীরে পানির ঘাটতি হলে একটু দুর্বল লাগে। পানি বা স্যালাইন খেলে ঠিক হয়ে যায়। আমি তো গতকাল দলের সঙ্গে সুইমিং করেছি, সোনাবাথ করেছি। ডাক্তারও আমাকে দেখেছেন। উনি তো বলেননি তুমি দুর্বল, অসুস্থ।’ আলফাজ-নকিবের প্রশ্ন মেহেদী মিঠুকে বাদ দেওয়ার আগে মেডিক্যাল রিপোর্ট নেওয়া হয়েছিল কি না।

বাংলাদেশের স্কোয়াড: 

গোলরক্ষক: মেহেদী হাসান শ্রাবণ, মিতুল মারমা, সুজন হোসেন। 

রক্ষণে: বিশ্বনাথ, শাকিল হোসেন, রহমত মিয়া, তপু বর্মন, তারিক কাজী, সাদ উদ্দিন, ইসা ফয়সাল, সুশান্ত ত্রিপুরা, রিমন হোসেন। 

আক্রমণে: হৃদয়, সোহেল রানা সিনিয়র, সোহেল রানা, জামাল ভূঁইয়া, শেখ মোরসালিন, চন্দন রায়, শাহরিয়ার ইমন, শাহ কাজেম কিরমানি, মজিবর রহমান জনি, রাকিব হোসেন, রফিকুল ইসলাম।     

ইত্তেফাক/জেডএইউচ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন