বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

বাজেট ২০২৪-২০২৫: কতিপয় চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ১০ জুন ২০২৪, ০৬:৩০

অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জাতীয় সংসদে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের জন্য বাজেট উপস্থাপন করেছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে আগামী অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রণয়ন নিশ্চিতভাবেই ছিল খুবই দুরূহ একটি কাজ। এটি অর্থমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম বাজেট উপস্থাপনা। 

আগামী অর্থবছরের জন্য জাতীয় বাজেটে সবচেয়ে জটিল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে এনে গণদুর্ভোগ হ্রাস করা। প্রস্তাবিত বাজেটে উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে ঠিকই কিন্তু এসব পদক্ষেপ বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে কতটা সহায়ক হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে সাড়ে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে। এটা কীভাবে সম্ভব হবে, তা বোধগম্য হচ্ছে না। বর্তমানে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার  ডাবল ডিজিটের কাছাকাছি রয়েছে। এর মধ্যে খাদ্যমূল্যস্ফীতির হার ডাবল ডিজিট অতিক্রম করে গেছে। মূল্যস্ফীতি কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রবণতা প্রত্যক্ষ করা যায়। বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ব্যাপকভাবে বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপী দেশে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখা দেয়। এমনকি বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়, যা ছিল দেশটির বিগত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি। সেই অবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব আমেরিকা (ফেড) বারবার পলিসি রেট বৃদ্ধি করে বাজারে অর্থের জোগান কমিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করে। একই সঙ্গে আরো কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এসব ব্যবস্থার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যস্ফীতির হার বর্তমানে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে বিশ্বের অন্তত ৭৭টি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পলিসি রেট বৃদ্ধি এবং অন্যান্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে তাদের অর্থনীতিতে সৃষ্ট উচ্চ মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েক বার পলিসি রেট বৃদ্ধি করেছে। আগে যেখানে পলিসি রেট ছিল ৫ শতাংশ, এখন তা সাড়ে ৮ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু তার পরও উচ্চ মূল্যস্ফীতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসছে না। বর্তমান পর্যায়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনাটাই সবচেয়ে জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্য সাধারণ দরিদ্র মানুষকে বিপদে ফেলে দিয়েছে। মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ডাবল ডিজিটের ওপর রয়েছে।

আগামী অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এটা অর্জনযোগ্য বলেই মনে হয়। কিন্তু এই মুহূর্তে উচ্চ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের চেয়ে মূল্যস্ফীতিকে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে কম প্রবৃদ্ধিও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। কিন্তু মূল্যস্ফীতি কমাতেই হবে। এজন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।  অন্যদিকে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। তাই ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের হার বাড়ানোর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত না করা গেলে স্থানীয় ও বিদেশি কোনো বিনিয়োগই কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় আহরিত হবে না। অনেক দিন ধরেই ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে। দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নেই কিন্তু একধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে অনেক দিন ধরেই। জিডিপি যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ ঠিক সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পাচ্ছে না। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের হার ছিল জিডিপির ২৪ দশমিক ৫২ শতাংশ। পরবর্তী বছরে এটা কিছুটা হ্রাস পেয়ে ২৪ দশমিক ১৮ শতাংশে নেমে আসে। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ হতে পারে জিডিপির ২৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি হ্রাসের কারণে দেশে নতুন নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে না। এতে নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। কর্মসংস্থানের নতুন নতুন সুযোগ না হলে দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আমরা দীর্ঘ দিনেও দেশে ব্যবসায়-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারিনি। স্থানীয় একটি বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান তাদের সাম্প্রতিক জরিপে উল্লেখ করেছে, দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যির পরিবেশের অবনতি ঘটেছে। কয়েক বছর আগে বিশ্বব্যাংকের ইজ অব ডুয়িং বিজনেস সূচকে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৭৬তম; অর্থাং আমাদের দেশে ব্যবসায়-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ নেই। ফলে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখানে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে খুব একটা আগ্রহী হচ্ছে না। ব্যবসায়-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত ও সহজীকরণ ব্যতীত স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় আহরণ করা যাবে না। দেশে যদি বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ না থাকে, তাহলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সংকটের সৃষ্টি হবে। দারিদ্র্য বিমোচনে জাতীয় অঙ্গীকার বিঘ্নিত হবে।   

প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রেরিত রেমিট্যান্সে আসা কমে গেছে। যদিও মে মাসে এ খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। কিন্তু সার্বিকভাবে এই খাতের অবস্থা মোটেও ভালো নয়। বিশ্বব্যাংক তাদের এক পরিসংখ্যানে উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশ ২০২৩ সালে ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স  আহরণ করেছে। রেমিট্যান্স আহরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম স্থানে ছিল। গত বছর নতুন করে রেকর্ড-সংখ্যক ১৩ লাখ শ্রমিক বিদেশে গিয়েছেন কর্মসংস্থানের জন্য। তাহলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ তো আরো বেশি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। এর কারণ অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। অনেকেই বলেন, ব্যাংকিং চ্যানেল এবং কার্ব মার্কেটে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের মধ্যে বিস্তর ব্যবধানের কারণে স্থানীয় মুদ্রায় বেশি অর্থ পাওয়ার প্রত্যাশায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই এখন হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রেরণ করছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা যেতে পারে। আর ভবিষ্যতে সাধারণ অদক্ষ বা আধাদক্ষ শ্রমিকের পরিবর্তে দক্ষ ও পেশাজীবী অধিক হারে বিদেশে প্রেরণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। জনশক্তি রপ্তানি খাত হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং আনুপাতিক হারে বেশি অধিক মূল্য সংযোজনকারী খাত। তাই এই খাতের সুষ্ঠু বিকাশের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

ব্যাংকিং সেক্টরের অবস্থা এখন খুব একটা ভালো নেই। খেলাপি ঋণের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ডিসেম্বর মাসে ব্যাংকিং সেক্টরের প্রদর্শিত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে মার্চ মাসে এসে তা ১ লাখ ৮২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। কিছু কিছু ব্যাংক তারল্য সংকটে ভুগছে। ব্যাংকিং সেক্টরের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কিছুটা হলেও কমে গেছে। সাধারণ মানুষ যাতে ব্যাংকিং সেক্টরের ওপর থেকে আস্থা না হারায়, তা নিশ্চিত করার জন্য উপযুক্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর থেকে মানুষ আস্থা হারালে তা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত মারাত্মক হতে পারে।

আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। বাজেটে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে সেটা কতটা পর্যাপ্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বাজেটে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুনির্দিষ্ট এবং বিশেষ উদ্যোগ না থাকায় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা কঠিন হবে। রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রতি বছর রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তা অর্জন করতে পারছে না। দেশে টিআইএনধারীদের অর্ধেকও আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন না। যারা টিআইএনধারী, তারা যাতে আয়কর রিটার্ন দাখিল করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। অভ্যন্তরীণভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণ রাজস্ব আদায় করতে না পারার কারণে উন্নয়ন অর্থায়নের জন্য অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি সূত্র থেকে বর্ধিত হারে ঋণ গ্রহণ করতে হচ্ছে। একটি দেশ বছরের পর বছর ঋণের ওপর নির্ভর করে চলতে পারে না। এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও ৭ দশমিক ৬ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন এবং বিশ্বের নিম্নতম কিছু দেশের মধ্যে অন্যতম।  

দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের যে অবস্থা, তাতে বিনিয়োগকারীগণ ব্যাংকঋণের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছেন না। উন্নত দেশগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগকারীগণ পুঁজিবাজারের ওপর নির্ভর করে থাকেন। কিন্তু আমাদের দেশের পুঁজিবাজার এখনো সঠিকভাবে বিকশিত হতে পারেনি। অনেক দিন ধরেই পুঁজিবাজারে মন্দাবস্থা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারে গতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রস্তাবিত বাজেটে তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। পুঁজিবাজারে প্রতি বিনিয়োগকারীর মধ্যে আস্থা ফেরানোর জন্য বাজেটে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ থাকা প্রয়োজন ছিল। কারণ পুঁজিবাজার স্বাভাবিক গতিতে না ফিরলে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি গতিশীল হতে পারে না। প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজার কোনো প্রণোদনা পায়নি, বরং উলটো ক্যাপিটাল গেইনের ওপর কর বসানো হয়েছে। বাজেট পেশের আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট মহল থেকে বিভিন্ন দাবিদাওয়া উত্থাপন  করা হয়েছিল। যদিও তাদের সেই দাবির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হয়নি। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এবং তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির কর হারের বিদ্যমান ব্যবধান বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উত্থাপন করা হলেও তা রক্ষিত হয়নি। নন-লিস্টেড  কোম্পানির ওপর আরোপিত ট্যাক্স আড়াই শতাংশ করে কমানো হয়েছে। নন-লিস্টেড কোম্পানির করহার সাড়ে ২৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। আর লিস্টেড কোম্পানির করহার আগের মতোই ২০ শতাংশ রাখা হয়েছে। তবে তারা যদি নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পরিপালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে সাড়ে ২২ শতাংশ ট্যাক্স প্রদান করতে হবে; অর্থাত্ লিস্টেড ও নন-লিস্টেড কোম্পানির করহারের ব্যবধান আরো কমেছে।

পুঁজিবাজারকে দীর্ঘ মেয়াদে আরো গতিশীল করার জন্য ভালো এবং খ্যাতিমান কোম্পানিকে অধিকহারে বাজারে তালিকাভুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। আমি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা থাকাকালে দেশের বেশকিছু খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠানকে আলোচনার মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করাতে সক্ষম হয়েছিলাম। ভালো মৌল ভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি বাজারে না এলে শেয়ার মার্কেট কোনোভাবেই চাঙ্গা হয়ে উঠবে না। তাই উচিত হবে, এ ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়ার।

লেখক: অর্থনীতিবিদ ও  সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা

 (অনুলিখন: এম এ খালেক)

ইত্তেফাক/এমএএম