কোরবানিতে বাংলাদেশ ও গাজাবাসীদের পাশে মাস্তুল ফাউন্ডেশন

আপডেট : ১২ জুন ২০২৪, ১৫:৫৮

কোরবানির আমেজকে সবার মাঝে ধরে রাখতে এ বছর দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে এবং ফিলিস্তিনি গাজাবাসীদের মাঝে কোরবানির গোশত বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন। 

মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দু’টি- ঈদুল ফিতর আর ঈদুল আজহা। আর এই ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে মাস্তুল ফাউন্ডেশন এ বছর ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল বিশেষত রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম এবং রেমাল ঘূর্ণিঝড় আক্রান্ত অঞ্চলে অসহায় ২০ হাজার পরিবারকে গোশত বিতরণ করার কার্যক্রম শুরু করেছে। এরই সাথে ফিলিস্তিনের গাজায় ১০০০ পরিবারকে কোরবানির গোশত দিয়ে সহযোগিতা করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও শরিয়াহ মোতাবেক কোরবানি ও কোরবানির গোশত বিতরণ করা হবে। 

মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কাজী রিয়াজ রহমান বলেন, আমাদের সমাজে এমন অনেক নিম্নবিত্ত পরিবার আছে যারা বছরের এই দিনটির অপেক্ষায় থাকে গোশতের স্বাদ নেওয়ার জন্য। এ পরিবারের মানুষেরা আত্মসম্মানের ভয়ে কারো কাছে চাইতে পারে না যদি না তাদের কেউ গোশত দেই। আর এ সকল পরিবারের মধ্যে কোরবানির গোশত খাওয়ার আমেজকে ধরে রাখতে আমাদের এই ক্ষুদ্র চেষ্টা ।

কোরবানির প্রকল্প পরিচালনার প্রধান রায়হান রহমান সকল সামর্থবানদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আত্মত্যাগের অনন্য ইবাদত কোরবানি। আমাদের উপকারভোগী নিম্ন আয়ের সাধারন মানুষেরা যারা সারা বছর এই কোরবানির গোশতের জন্য অপেক্ষা করে। তাই আমরা কোরবানির এই কার্যক্রম চালু ৩ দিন পর্যন্ত চালু রাখব। আমরা চেষ্টা করছি ২০০০০ পরিবারকে কোরবানির গোশত বিতরন করা, আপনাদের সহযোগিতা আমাদের একান্ত প্রয়োজন।  

উল্লেখ্য, মাস্তুল ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত দাতব্য প্রতিষ্ঠান। মাস্তুলের প্রধান কাজের মধ্যে রয়েছে দাফন-কাফন সেবা প্রজেক্ট, যার মাধ্যমে করোনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৩০০০ এর অধিক লাশ দাফন হয়েছে। মাস্তুলের রয়েছে নিজস্ব স্কুল, মাদ্রাসা এবং শেল্টারহোম যেখানে আবাসিক/অনাবাসিক মিলে শতাধিক পিতামাতাহীন/ অনাথ/ এয়াতিম শিক্ষার্থী রয়েছে । এর বাহিরে কয়েক জেলায় প্রজেক্ট স্কুলগুলোতে হাজারের অধিক সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের সকল শিক্ষার উপকরন দেয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, পুষ্টিকর খাবার, শিশু অধিকার, মৌলিক চাহিদা নিশ্চয়তা করা হচ্ছে। মাস্তুল ফাউন্ডেশনের রয়েছে সেলাই প্রশিক্ষন কেন্দ্র, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র যার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে কর্মক্ষম করে তোলা হচ্ছে। এর বাহিরে যাকাত স্বাবলম্বী প্রজেক্টের মাধ্যমে ১০০০ জনের বেশি মানুষকে স্বাবলম্বী করা হয়েছে। এছাড়া রয়েছে ।মাস্তুল মেহমানখানা, যেখান থেকে শতাধিক অসহায় নিম্ন আয়ের মানুষের একবেলা পেট পুড়ে খাওয়ার ব্যাবস্থা হয়। এছাড়াও গাজার পরিস্থিতি উন্নয়নে যে সকল কাজগুলো করার পরিকল্পনা রয়েছে তার মধ্যে রয়েছে - চিকিৎসা সেবায় পর্যাপ্ত মেডিকেল লজিস্টিকসের ব্যবস্থা, এতিম শিশুদের জন্য পড়াশোনার ব্যবস্থা, বিধবাদের স্বাবলম্বী করা, ল্যাট্রিন সুবিধা, পানি সুবিধা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সেবা, ল্যাট্রিন নির্মান, ফিলিস্তিনী শরণার্থীদের অস্থায়ী গৃহ নির্মাণে সহযোগিতা ও অনান্য । 

ইত্তেফাক/এআই