পবিত্র কোরবানি ও অনভিপ্রেত বিভ্রান্তি

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৪, ১১:১৪

পবিত্র কুরআনের সুরা হজ ২৭-৩৭, বাকারা ১৯৬, আল ইমরান ৯২, মায়েদা ০২, ২৭-৩১, ৯৫-৯৭, আনআম ১৬১-১৬৩, আস্ সাফ্ফাত ১০০-১০৮, ফাতহ্ ২৫, আল কাওসারের ০২ নম্বর আয়াত এবং পবিত্র হাদিসের বিশ্লেষণে কোরবানির তাত্পর্য সুপ্রমাণিত। কোরবানি প্রসঙ্গে কতিপয় বিভ্রান্তি দূর হওয়া জরুরি :

১. কোরবানি হবে আল্লাহর নামে :বলা হয় ‘অমুক অমুকের নামে, আব্বার নামে, শাশুড়ির নামে....’! অথচ কোরবানি একটি আর্থিক ইবাদত। ব্যক্তির নামে নয়, কোরবানি হতে হবে আল্লাহর নামে। বলতে হবে ‘অমুকের পক্ষ থেকে আল্লাহর নামে...’। পবিত্র কুরআনের নির্দেশ ‘তোমরা তা ভক্ষণ কোরো না, যেগুলো আল্লাহর নাম ছাড়া অন্যের নামে জবাই করা হয়’ (সুরা আনআম, আয়াত :১২১)।

২. জিলহজের শুরুতে জবাই ও গোশত খাওয়া বন্ধ এমন নয় :জিলহজের চাঁদ ওঠার পর থেকে ঈদের দিন পর্যন্ত হাঁস-মুরগি ইত্যাদি জবাই না করা, গোশত না খাওয়া এবং স্ত্রী সন্তানসম্ভাবা হলে জবাইয়ের কাজ থেকে বিরত থাকার প্রচলিত রীতির কোনোই ধর্মীয় ভিত্তি নেই।

৩. মৌসুমি ব্যবসায় গরু, গরু থাকে না :গরু মোটাতাজাকরণে হয় টাইগার, লায়ন, আদুরী, বাহাদুর, বীর বাহাদুর, পঙ্খীরাজ, সম্রাট, যুবরাজ ইত্যাদি। মানুষের নাম, পরিভাষা পশুর ক্ষেত্রে ব্যবহারে মনুষ্যত্বেরই অবমাননা ঘটে। সুরা বনি ইসরাইলের ৭০ নম্বর আয়াতে মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা এবং সুরা হুজুরাতের শিক্ষা—সব উপহাসমূলক কাজ ত্যাগ এবং অপরকে মন্দ নামে ডাকা পরিহার করা।

৪. বড় গরুর বড়াই :চর্বিবহুল বড় গরুর গোশত স্বাস্থ্যঝুঁকি বা স্থূলতার শঙ্কা, লোক দেখানোর উপায় ও অপচয়ের বাহন। সাত জনের পক্ষ থেকে একটি গরু কোরবানির বিধান, বাহুল্য ব্যয় পরিহারের শিক্ষা দেয়। প্রতিযোগিতার হীন মানসিকতা প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ স্মরণ করাচ্ছেন, ‘জেনে রাখো, পার্থিব জীবন তো ক্রীড়া-কৌতুক, জাঁকজমক, পারস্পরিক সংঘাত ও ধনে-জনে প্রাচুর্য লাভের প্রতিযোগিতা ছাড়া আর কিছুই নয়...’ (সুরা হাদিদ, আয়াত :২০)।

৫. এছাড়া কোরবানিতে অনভিপ্রেত বিভ্রান্তি :পশুকে  লালসালু, ঘণ্টা, পুষ্পমাল্য দিয়ে সাজানো এবং এদিক-ওদিক ঘোরানো নিতান্তই কুসংস্কার। পশুর দাঁত ওঠা নয়, পশুর সঠিক বয়সটা জরুরি। পশুর খাদ্যনালি, হাড়, মাথার খুলি, শিং ইত্যাদি বাড়ির সমানে বা জঙ্গলে গাছে ঝোলানোর মাধ্যমে অপশক্তির হাত থেকে রক্ষা অথবা বরকতের মনে করা অবান্তর কর্ম।

লেখক : বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর

ইত্তেফাক/এসকে