বাঘায় নির্বাচনে কারচুপি ও সহিংসতার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৪, ১৭:২৩

রাজশাহীর বাঘা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফল প্রকাশে কারচুপি এবং নির্বাচন পরবর্তী ১৯টি পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা আওয়াম লীগ। 

শনিবার (১৫ জুন) দুপুরে বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ সব অভিযোগ করেন তারা। 

সংবাদ সম্মেলনে বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল একটি লিখিত অভিযোগে জানান, ৫ জুন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। এর মধ্যে আমরা উপজেলা আওয়ামী লীগ রোকনুজ্জামান রিন্টুর আনারস প্রতীকে ভোট করেছি। ঐ দিন রাতে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে আনারস প্রতীক ১ হাজার ৫৭১ ভোটে এগিয়ে ছিল। কিন্তু শেষপর্যায় এসে উপজেলা প্রশাসন ফলাফল প্রকাশে প্রতিপক্ষ প্রার্থী আইনজীবী লায়েব উদ্দিন লাভলুর মোটরসাইকেল প্রতীককে ১০৬ ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

এই বিজয় ঘোষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল ৬টি কেন্দ্রের পিজাইডিং অফিসার। তারা প্রথমত কেন্দ্রভিত্তিক আমাদের এজেন্টদের হাতে ফলাফল সিট দেননি। দ্বিতীয়ত, চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যানরা এর সঙ্গে ফলাফল সিটের শতকরা হার অনেকটায় গড়মিল। 

তিনি আরও বলেন, খুব শিগগিরই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের গেজেট অনুমোদন হবে। এরপর আমরা নির্বাচনী ট্রাইবুনালে ফল প্রকাশে কারচুপির অভিযোগ এনে পুনঃরায় ভোট গণনার দাবি জানাব। এতে করে প্রকৃত রহস্যর উন্মোচন হবে।

আশরাফুর ইসলাম বাবুল বলেন, এই ভোটে অনৈতিকভাবে বিজয়ের পর প্রার্থী আইনজীবী লায়েব উদ্দিন লাভলু, বাঘা পৌর মেয়র আক্কাছ আলী, পাকুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলাম মেরাজ ও আব্দুল মোকাদ্দেস তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে উপজেলার বাউসা, মনিগ্রাম, পাকুড়িয়া, নারায়নপুর ও চকরাজাপুর এলাকা মিলে ১৯ টি পরিবারের ওপর হামলা,ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে। এ সব ঘটনায় আমাদের কর্মী সনেট তার ভাঙা হাত নিয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। আর এ সব ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদদ এবং সহযোগিতা করেছে স্বাধীনতাবিরোর্ধী চক্র জামাত-বিএনপি।  

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে আশরাফুল ইসলাম বাবুল বলেন, আমরা প্রতিপক্ষদের তাণ্ডবলীলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করিনি। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রতিটি ঘটনার পর থানা এবং উপজেলা সহকারী রির্টানিং অফিসারের কাছে একটি করে লিখিত অভিযোগ করেছি। এ সব অভিযোগেরভিত্তিতে এ পর্যন্ত ৫টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে থানা পুলিশের খুব একটা তৎপরতা নেই। আমরা অচিরেই এ বিষয়ে পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণ করব। 

এই সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহেদ সাদিক কবির, বাঘা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস সরকার, সাবেক বাঘা পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান পিন্টু, আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুল ইসলাম মনি, আব্দুল মমিনসহ অনেকে।

ইত্তেফাক/পিও