লালমনিরহাটের পাটগ্রামে এক মুদি দোকানদারের মৃত্যুর পর মারা গেলেন তার স্ত্রী। শুক্রবার (১৩ জুন) দিবাগত রাত তিনটার দিকে মুদি দোকানি হোসেন আলীর (৫২) মৃত্যুর প্রায় ৫ ঘণ্টার মাথায় শনিবার (১৫ জুন) সকাল ১০ টার দিকে স্ত্রী মনজুরা বেগম (৪৩) মারা যান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান মানিক তাদের দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অপরদিকে মনজুরা বেগমের মৃত্যু নিশ্চিত হতে শনিবার সকাল থেকে পল্লী চিকিৎসক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং সবশেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দফায় দফায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ইসিজি করানো হয়। নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে হাতীবান্ধা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইসিজির পর মনজুরা বেগমের মৃত্যু নিশ্চিত করে চিকিৎসক।
নিহত দম্পতির পরিবারের সদস্য এবং প্রতিবেশীরা জানান, মুদি দোকানের কাজ শেষ করে শুক্রবার দিবাগত রাতে বাড়ি ফিরে বাড়ির গাছের আম কুড়িয়ে ঘরে ঢোকেন হোসেন আলী। তার স্ত্রী মনজুরা বেগম সেই আম কেটে খেতে দেন তাকে। আম খাওয়ার কিছুক্ষণ পর রাত তিনটার দিকে হোসেন আলী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর কান্নাকাটির আওয়াজ পেয়ে বাউরা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনিছুর রহমান মানিক এবং অন্যান্য প্রতিবেশীরা সেখানে ছুটে গিয়ে দেখতে পান হোসেন আলী মারা গেছেন। স্বামীর মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে কান্নাকাটি শুরু করেন মনজুরা বেগম। এরপর সকাল ৯টার দিকে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান মানিক ভ্যানে করে পাশের বাউরা বাজারের পল্লী চিকিৎসক মাহির লাবিব মোনেমের কাছে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা শেষে মনজুরা বেগমের মৃত্যু নিশ্চিত করেন পল্লী চিকিৎসক মোনেম। পরে তাকে বাড়িতে আনা হলে উপস্থিত কয়েকজন মনজুরা বেগমের মৃত্যু নিশ্চিত হতে অধিকতর পরীক্ষার কথা বলেন। পরে বাউরা বাজারের আপডেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে খবর দেওয়া হলে ইসিজি মেশিন নিয়ে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আয়া শিউলি রাণী আসেন। তিনি ইসিজি করে দেখতে পান মনজুরা বেগমের পালস নেই। পরে তিনিও মৃত ঘোষণা করেন মনজুরা বেগমকে। কিন্তু উপস্থিত কয়েকজন প্রতিবেশী শিউলি রাণীর সিদ্ধান্তে ভরসা না পেয়ে মনজুরা বেগমকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পথে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে পূণরায় ইসিজি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পল্লী চিকিৎসক মোনেম বলেন, আমি পালস না পেয়ে মৃত ঘোষণা করি, তবে অধিকতর পরীক্ষার জন্য ইসিজি করাতে বলেছিলাম।
আপডেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আয়া শিউলি রাণী বলেন, আমি ইসিজি করে নিশ্চিত হই মনজুরা বেগম মারা গেছেন, কিন্তু উপস্থিত কয়েকজন নিজেরাই মেশিনে হৃৎস্পন্দন দেখার দাবী করেন। সে অনুযায়ী তারা রংপুরে নিয়ে যান। কিন্তু ‘আপনি কেন ইসিজি করলেন, আপনাদের টেকনিশিয়ান নেই’- এমন প্রশ্নের উত্তর তিনি দিতে পারেননি।
বাউরা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনিছুর রহমান মানিক বলেন, স্বামীর মৃত্যুর ৫ ঘণ্টার মধ্যেই মনজুরা বেগমের মৃত্যু হয়েছে। আবেগের বশবর্তী হয়ে পরিবারের সদস্যরা রংপুরে নিতে চেয়েছিলেন। মনজুরা বেগম খুবই স্বামীভক্ত নারী ছিলেন, স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে তিনিও স্ট্রোক করে মারা গেলেন। তাদের মৃত্যুতে আমরা প্রতিবেশীরা মর্মাহত।
পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. রায়হান আলী বলেন, একজন আয়ার রোগীর অবস্থা কমেন্ট করার এখতিয়ার নেই। তিনি কোন পরিস্থিতিতে এ রকম করেছেন বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখব।
