গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জেও গতকাল রবিবার আধাবেলা হরতাল পালন করছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। তবে ঘোষণা দিয়েও বিএনপি মাঠে নামেনি। গতকাল রবিবার সকাল ৬টা থেকে মূলত নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কেই কয়েকটি ধাপে হরতাল পালন করে কমিউনিস্ট পার্টি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলনসহ বাম ঘরানার দলগুলো। তবে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ হরতাল চলার কথা থাকলেও, সকাল ১০টার পরই শহরে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসে। এর আগে শহরের বিভিন্ন অলিগলি থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশের সরব উপস্থিতি এবং বেশকিছু সাঁজোয়া যান প্রথমে উত্তেজনার আভাস সৃষ্টি করে। তবে হরতালের সময় কোনোরকম বিশৃঙ্খলা এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ততটা সক্রিয় হতে হয়নি। অবশ্য বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সামনে টায়ারে আগুন দিয়ে রাস্তা বন্ধের চেষ্টা করা হলে পুলিশ এসে হরতালকারীদের সরিয়ে দেয়। এসময় রাস্তায় গাড়ি চলাচলও স্বাভাবিক ছিল।
এদিকে দুপুর ১২টার দিকে ২ নম্বর রেলগেটে বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা সমম্বয়ক নিখিল দাসের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ফোরামের সদস্য আবু নাঈম খান বিপ্লব, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মাহমুদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান টিপু, গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, জাহিদুল আলম আল জাহিদ, সিপিবি সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্ত্তী, বিমল কান্তি দাস, দুলাল সাহা, ইকবাল হোসেন, বাসদ নেতা সেলিম মাহমুদ, এস এম কাদির, জাহাঙ্গীর আলম গোলক, গণসংহতি আন্দোলনের নেতা অঞ্জন দাস, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি নেতা সাইফুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সুলতানা আক্তার, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সুমাইয়া সেতু, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস জামান প্রমুখ। এ সময় নেতৃবৃন্দ বলেন, জনমত উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে গ্যাসের দাম গড়ে ৩২.৮০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। বাসাবাড়িতে সিঙ্গেল চুলার বিল ৭৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২৫ টাকা এবং ডবল চুলা ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৭৫ টাকা করা হয়েছে। সবরকম গ্যাসের ব্যবহারে দাম বাড়ানো হয়েছে। আসলে লুটপাটকারী ব্যবসায়ীদের স্বার্থে এলএনজি আমদানির ঘাটতি পোষাতে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। আইনে আছে, গ্যাস ও বিদ্যুত্ কোম্পানিগুলো লাভজনক অবস্থায় থাকলে দাম বাড়ানো যাবে না। যদিও প্রতিটি কোম্পানি লাভজনক অবস্থায় রয়েছে তারপরও আইন লঙ্ঘন করে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। সরকারের দুর্নীতি ও লুটপাটের দায় জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, বিইআরসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাদের দায়িত্ব হলো জ্বালানি বিষয়ে জনগণের ওপর সরকার বা অন্য কেউ যাতে অযৌক্তিক অন্যায় কিছু চাপিয়ে দিতে না পারে সে বিষয়টি দেখা। অথচ বিইআরসি বর্তমানে সরকারের হুকুম মানা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। একদিকে পরোক্ষ কর বাড়ানোর মধ্যদিয়ে জনগণের ওপর দুর্ভোগ চাপিয়ে দিয়েছে সরকার, এর সঙ্গে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে জনগণের নাভিশ্বাস ওঠবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম ৫০ ভাগ কমেছে। এতে ভারতে গ্যাসের দাম ১০১ রুপি কমেছে। কিন্তু আমাদের সরকারের জনগণের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। বক্তাগণ হরতালে সর্বস্তরের জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে অবিলম্বে গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, সিলিন্ডার গ্যাসের দাম কমানোর দাবিতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
