কৃষক বেঁচে থাকলে খাদ্যের অভাব হবে না: খাদ্যমন্ত্রী 

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৪, ১৭:৪৫

কৃষকেরাই দেশের প্রাণ। কৃষিই মূল চালিকা শক্তি। কৃষিতেই আমাদের সমৃদ্ধি। কৃষক বেঁচে থাকলে এদেশে খাদ্যের অভাব হবে না, দুর্ভিক্ষও হবে না বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

সোমবার(২৪ জুন) দুপুরে নিয়ামতপুর সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, সরকার কৃষিতে যান্ত্রীকিকরণের পদক্ষেপ নেওয়ায় ফসল উৎপাদনে বিপ্লব ঘটেছে। এখন স্বল্প সময়ে সীমিত জমিতে অধিক ফসল ফলাতে সক্ষম হচ্ছে কৃষক।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষি ও প্রযুক্তি মেলা আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি ও উচ্চফলনশীল জাতের সাথে কৃষককে পরিচিত করা হচ্ছে। কৃষকও সাদরে প্রযুক্তি ব্যবহারের সুফল গ্রহণ করছে। ধান উৎপাদন ও ভোগে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয়। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনেও তৃতীয় স্থানে আমরা।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ কৃষকবান্ধব সরকার। শেখ হাসিনা কৃষকের বন্ধু। কৃষি প্রণোদনা দিয়ে- ভর্তূকি দিয়ে কৃষকের পাশে আছেন তিনি। সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদ হলে কৃষির জমি বাড়বে, উৎপাদনও বাড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে মডেল হিসেবে অনেক স্থানে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদ হচ্ছে। এই পদ্ধতি জনপ্রিয় হচ্ছে দিন দিন।

ধানের দাম কম বলে অভিযোগ ছিল সরকার ধানের দাম বাড়িয়েছে। ৩০ টাকার ধানের দাম ৩২ টাকা করেছে সরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিনিকেট নামে ধান নাই, চালও নাই। নতুন আইনে বস্তার গায়ে দাম লেখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

স্বাধীনতার সময় সাত কোটি মানুষ পান্তার পানি খেয়ে পার করেছি। দেশের মানুষ ১৭ কোটি পার হয়ে গেছে, এখন খাদ্যের অভাব নেই। প্রযুক্তি ও কৃষির সমন্বয়ের ফলে গতবছর এক কেজি চালও বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়নি। এ বছরও হবে না বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

সরকারের ধারাবাহিকতা আছে বলেই দেশে এত উন্নয়ন: খাদ্যমন্ত্রী 

সরকারের ধারাবাহিকতা আছে বলেই দেশে এত উন্নয়ন হচ্ছে এমন মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। সোমবার (২৪ জুন) নওগাঁর নিয়ামতপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি শিক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। 

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হাত দিয়েই ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে দেশ এখন স্মার্ট বাংলাদেশের পথে। স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে দেশকে গড়ে তুলতে হলে স্মার্ট নাগরিক হতে হবে, স্মার্ট সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, স্মার্ট সেবা প্রস্তুত করতে হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সেই স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। 

নিয়ামতপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মমতাজ হোসেনর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমতিয়াজ মোরশেদ, নিয়ামতপুর থানার ওসি কওছার আলম, নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক আবেদ হোসেন মিলন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান বিপ্লব।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান রায়হান কবির রাজু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমিন আরা খাতুন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি বাবু ঈশ্বর চন্দ্র বর্মন, সরকার কামাল উদ্দিন, আব্দুস সামাদসহ অনেকে।

অনুষ্ঠান শেষে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে প্রবেশপত্র তুলে দেন।

ইত্তেফাক/এসএ/পিও