ঢাকার দুই সিটির ভোটের প্রস্তুতি ইসির

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৪, ০৮:৫৮

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভোট নিয়ে তোড়জোড় শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এই দুই সিটির। তার আগে জুলাই মাসেই ভোট আয়োজনে কোনো বাধা আছে কি না—তা জানতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে চিঠি দেবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। আগামী বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ অথবা ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত হতে পারে দুই সিটির ভোট। তপশিল ঘোষণা করা হতে পারে ডিসেম্বরেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভোটের জন্য এখনো পর্যাপ্ত সময় আছে। সময়মতো নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

ইসি সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা প্রস্তুতিসহ নির্বাচনের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজ শুরু করেছে ইসি। জুলাই মাসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিতে পারে নির্বাচন কমিশন। দুই সিটি ভোটে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের জন্য কিছু কর্মকর্তাকে এখনই সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। উপজেলা ভোটে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ায় ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ভোটার বাড়ানোর জন্য আগে থেকে উদ্যোগ নেবে সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটি।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির সর্বশেষ ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দুই সিটি করপোরেশনে ভোটগ্রহণ হয় ইভিএমে। ঢাকা উত্তরে ২৫ শতাংশ এবং দক্ষিণে ২৯ শতাংশ ভোট পড়ে। সেবার রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি ভোটে অংশ নেয়নি। এবারও রাজপথের বিরোধী দল বিএনপির অংশগ্রহণ করার সম্ভাবনা কম। তাই দলগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে ইসি। কী উপায়ে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো যায়, সেই পন্থা বের করার চেষ্টা করছে ইসি।

ইসির সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। এরপর এইচএসসি পরীক্ষা আছে। ফলে এসএসসি পরীক্ষার আগেই নির্বাচন আয়োজন করতে হবে ইসির। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে নির্বাচন আয়োজনের সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সেই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দুই সিটিতে ভোটার সংখ্যা ৫৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৬৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৮ লাখ ৪৩ হাজার ৮ ও নারী ভোটার ২৬ লাখ ২০ হাজার ৪৫৯ জন। সিটি করপোরেশন হিসাবে ঢাকা উত্তর সিটিতে ভোটার রয়েছেন ৩০ লাখ ১০ হাজার ২৭৩ জন; যার মধ্যে পুরুষ ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ ও নারী ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৭০৬ জন। তবে তপসিল ঘোষণার আগে ভোটার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ইত্তেফাক/এমএএম