আশরাফুলের কলাম

ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা ফেভারিট

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৪, ০১:১২

‘ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা ফেভারিট’ শিরোনামটা পড়েই ভারতীয় সমর্থকরা আমার ওপর রাগ করবেন না প্লিজ। আমি আমার কথা বলছি। কেন বলছি সেটিও ব্যাখ্যা করব। তার আগে বলি প্রথমেই বলব, দুটি সেরা দল ফাইনালে উঠেছে। যদিও ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়ার মতো দলও যথেষ্ট ভালো ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা এবার এইডেন মার্করামকে অধিনায়ক করাটা দারুণ কাজে দিয়েছে। মাঠে ওর সিদ্ধান্তগুলো অসাধারণ ছিল। আসলে দক্ষিণ আফ্রিকার বেশির ভাগ ক্রিকেটারই এবার আইপিএলে খেলেছেন। কমবেশি সবাই কিন্তু পারফর্ম করেছে। বিশেষ করে বলতে হয় রাবাদা, ইয়ানসেন, নর্কিয়ে, শামসি, মহারাজ ওদের বোলিং অ্যাটাক এত শক্তিশালী, যা যে কোনো দলের জন্য ভয়ংকর। ভারতের বোলিং অ্যাটাকও অসাধারণ। বুমরাহ তো সেরা ছন্দে আছে। কুলদীপ, অক্ষর ও প্যাটেলরাও চমৎকার পারফরম করছে। আসলে দুটিই সময়ের সেরা দল।

প্রথম বার বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলছে দক্ষিণ আফ্রিকা এটা তাদের অনেক বড় অর্জন। আমরা আগে দেখতাম বিশ্বকাপে ওরা অনেক ক্লোজ ম্যাচ হেরে যেত। ভাগ্যও অনেক সময় তাদের পক্ষে থাকত না। এবার কিন্তু সব ক্লোজ ম্যাচ তারা জিতেছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের সঙ্গে। ওরা সব সময় চোক করত, এবার ওদের সঙ্গে অন্যরা চোক করছে। এবার ওদের দলটাও ভালো।

ভারত বরাবর ফেভারিট থাকে। তবে ২০১১ সালের পর বিশ্বকাপে আর ট্রফি জেতেনি। ওদের জন্য বাড়তি একটা চাপও থাকবে। বিশেষ করে, রাহুল দ্রাবিড় ও রোহিত শর্মার জন্য। বিরাট কোহলি ভালো ফর্মে নেই। তবে বড় খেলোয়াড় বড় ম্যাচের জন্য হয়তো সেরাটা রেখে দিয়েছেন, এটাই ধরে নেওয়া যায়। আমার মনে হয়, ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা একটু হলেও বাড়তি সুবিধা পাবে। কারণ বার্বাডোজের উইকেটে গতি আছে। বাড়তি বাউন্সও পাবে। ভারতের স্পিনাররা ভালো। তবে এদের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা কিন্তু আইপিএলে খেলে এসেছে।

ভারত ছাড়া বেশির ভাগ মানুষই হয়তো চায় দক্ষিণ আফ্রিকা একটা ট্রফি জিতুক। আমার ফেভারিটও দক্ষিণ আফ্রিকা। গেম চেঞ্জার হিসেবে আমি ক্লাসেনকে বলব। তার পারফরম্যান্সটা খুব গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য। কুলদীপ, অক্ষর প্যাটেল, বুমরাহরা যদি ভালোমতো খেলতে পারেন তাহলে চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা সহজ হবে।

রোহিত শর্মা যদি আগে আউট হয়ে যায় তাহলে কিন্তু ভারত বিপদে পড়বে। রোহিত রান করা মানে ভারত শিরোপার পথে অনেকটাই এগিয়ে থাকবে। রোহিতকে দ্রুত আউট করাটাও জরুরি। হয়তো দক্ষিণ আফ্রিকাও এমন কিছু পরিকল্পনা করবে। সবকিছু মিলিয়ে আমি বলতে পারি খুব রোমাঞ্চর একটা ফাইনাল হবে, এমন প্রত্যাশা করছি। আমাদের দেশের ক্রিকেটভক্তরা দুঃখ পেয়েছেন বাংলাদেশের খেলায়। তাদের মনে কষ্ট রয়েছে। এখনো ভুলতে পারছেন না টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ব্যর্থতা। তার পরও বলব খেলাটা যারা ভালোবাসেন তারা দুঃখের মধ্যেই ফাইনাল দেখতে বসবেন আজ। একটা উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল উপভোগ করুক সবাই, অন্য সবার মতো আমারও একই প্রত্যাশা। অনুলিখন: আশরিক রুদ্র

ইত্তেফাক/এসটিএম