প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সালনা-মারিয়ালি হয়ে বিলাসপুর বটতলা জয়দেবপুর সড়কটি (হাবিবুল্লাহ সড়ক) যানবাহন চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজার হাজার যাত্রীকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ এ সড়ক দিয়ে মারিয়ালি এলাকায় গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্সে ভবনে যাতায়াতকারী সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তির শেষ নেই।
জানা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সালনাবাজার ফুটওভার ব্রিজসংলগ্ন মোড় থেকে বিলাসপুর বটতলা পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কটি নগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তায় ভয়াবহ দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হলে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকামুখী যানবাহনগুলো বিকল্প হিসেবে এ সড়কটি ব্যবহার করে থাকে। মহাসড়কের যানবাহন এ সড়ক দিয়ে গাজীপুর শহর হয়ে জয়দেবপুর রোড অথবা ধীরাশ্রম রোড হয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করে। এছাড়াও নগরীর অন্যান্য শাখা রোডে যেতে হলে এ সড়কটিই ব্যবহার করতে হয়। গাজীপুর নগর কর্তৃপক্ষ তিন বছর আগে জাইকার প্রকল্পের মাধ্যমে পুরো সড়কটি কার্পেটিং করে। এরপর থেকে ঐ সড়কে আর কোনো উন্নয়ন হয়নি। নগরীর আটটি অঞ্চলের মধ্যে সালনা অঞ্চলটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সালনা অঞ্চল ছাড়ও আশপাশের কয়েকটি ওয়ার্ডেও হাজার হাজার লোকজন সিটি করপোরেশন বা নগরীর হেডকোয়ার্টারে এ সড়ক দিয়েই যাতায়াত করে থাকেন। ঐ সড়কের পাশে মারিয়ালি এলাকায় গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্স স্থাপন হওয়ায় সড়কটির গুরুত্ব যেমন বেড়েছে তেমনি সড়কে যানবাহনের চাপও বহুলাংশে বেড়েছে।
ব্যস্ততম সড়কটিতে প্রতিদিন ট্রাক, বাস, প্রাইভেটকার, সিএনজি, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাসহ অসংখ্য যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং অনেক আগেই উঠে গিয়ে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। সালনা ফুটওভার ব্রিজ মোড় থেকে শুরু করে মারিয়ালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কটির অনেক জায়গায় ভেঙেচুরে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে মারিয়ালি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসংলগ্ন পশ্চিম পাশের মোড়ে, দেশিপাড়া নতুন বাজার, দক্ষিণ সালনা মুন্সিবাড়ি, ফ্রেন্ডস নিটিং কারখানার সামনের অংশসহ বিভিন্ন পয়েন্টে রাস্তার অবস্থা খুবই নাজুক। খানাখন্দে পড়ে যানবাহন উলটে পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। কোনো যানবাহন গর্তে আটকে দীর্ঘ যানজটেরও সৃষ্টি হয়ে থাকে। সড়কের এ দুর্দশার কারণে সেখানে যানবাহন চলাচলও হ্রাস পাচ্ছে। এতে প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ছাড়াও এলাকার সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। সড়কটি মেরামতের জন্য নগর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেও কোন সাড়া মিলছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দা আলহাজ মোবারক হোসেন বলেন, মারিয়ালিতে গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্স এবং সদর ও যুগ্ম-সাবরেজিস্ট্রি অফিস চালুর পর থেকে এ সড়কে যানবাহন ও মানুষের চাপ অত্যধিক বেড়েছে। সড়কটি বেহাল থাকায় প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষ বহু কষ্টে সাবরেজিস্ট্রি অফিসসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকেন। সড়কটিতে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় রেজিস্ট্রি অফিসে টাকা পরিবহনের ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে সড়কটির পাশে কোনো ড্রেন না থাকায় বিভিন্ন স্থানে আশপাশের বাসাবাড়ি ও কলকারখানারসহ উঁচু জায়গার পানি সড়কের ওপর দিয়েই প্রবাহিত হয়। এতে অনেক জায়গায় পানি জমে সড়কটি দেবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ছে। সড়কটি অবিলম্বে সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি এলাকাবাসীর।
সালনা এলাকার বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম বলেন, আমরা সড়কটির বেহাল দশার বিষয়টি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়রের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে অবহিত করলে তাত্ক্ষণিক তিনি জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি মেরামতের আশ্বাস দেন।
এ ব্যাপারে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম সফিউল আজম বলেন, যেসব রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গাসিকের নিয়মিত মিটিংয়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, শিগিগরই এ সড়কের সংস্কার কাজও শুরু হবে।
