শনিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর রোববারই ঘরে ফেরার কথা ছিল ভারতের। কিন্তু বার্বাডোজে ঘূর্ণিঝড় হারিকেনের কারণে দেশে ফিরতে পারেনি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশেষ বিমান পাঠিয়ে বার্বাডোজ থেকে চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটারদের উড়িয়ে আনেন। গতকাল সকালে দিল্লিতে পা রাখেন রোহিত-কোহলি-হার্দিকরা। ভারতের মাটিতে পা রেখেই খেলোয়াড়রা বিমানবন্দরে কেক কেটে উদযাপন করেন।
বিমানবন্দরে রোহিত ও তার দলকে স্বাগত জানাতে হাজির হয় হাজার হাজার সমর্থক। তখন ভক্তদের বাঁধভাঙা উল্লাস যেন ভিন্ন মাত্রা পায়। সবাই ‘চ্যাম্পিয়ন, চ্যাম্পিয়ন’ বলে রব তুলতে থাকে। এরপর শেষ বিকালে ওয়াংখেড়েতে ট্রফি নিয়ে প্রবেশ করে টিম ইন্ডিয়া। রোহিতের হাতে ছিল শিরোপা। তখন স্টেডিয়ামে থাকা সমর্থকেরা স্লোগান তোলে ‘ইন্ডিয়া কা রাজা রোহিত শর্মা’।
দিল্লি বিমানবন্দর থেকে সকাল সাড়ে ১০টায় ক্রিকেটারদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় হোটেলে। সেখানে ক্রিকেটাররা কিছুটা বিশ্রাম নেন। তারপরই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে ফাঁকা রাস্তায় ১৫ মিনিটের মধ্যে নরেন্দ্র মোদীর বাসভবন ৭, লোক কল্যাণ মার্গে পৌঁছান ক্রিকেটাররা। বেলা ১১টায় অপেক্ষমাণ ক্রিকেটারদের কাছে আসেন মোদি। ইংরেজিতে ‘ইন্ডিয়া চ্যাম্পিয়ন’ লেখা বিশেষ জার্সি গায়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। ট্রফি তুলে দেন মোদির হাতের। ট্রফি হাতে মোদির সঙ্গে ছবিও তোলেন ভারতীয় দলের সদস্যরা।
মোদি এবং ক্রিকেটাররা রেইনবো ডিজাইনে বসে মাইক্রোফোন হাতে কথা বলেন। একটি মাইক্রোফোন ছিল মোদির হাতে একটি ক্রিকেটারদের হাতে। বিশ্বকাপের বিভিন্ন খেলা নিয়ে কৌতুহল ছিল প্রধানমন্ত্রীর। তিনি খেলা দেখেছেন। যেসব ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা ছিল সেইসব মুহূর্তগুলো নিয়ে নানা প্রশ্ন করে কৌতুহল মিটিয়েছেন মোদি। তিনি জানতে চেয়েছেন বিশেষ কিছু শট, নজরকাড়া কয়েকটি ক্যাচ নিয়ে। এমনকি কোন ক্রিকেটার কোন শট ভালো খেলেন সেটাও জানেন প্রধানমন্ত্রী।
ক্যারিবিয়ান মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে কেমন বাউন্সার সামলাতে হয়েছে, সেটা নিয়েও জিজ্ঞাসা করেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই বিশ্বকাপ জয় আগামী দিনে আরও সাফল্যের পথে এগিয়ে দেবে ভারতীয় দলকে। হাসি আনন্দ আর ছবি তোলার পর্ব শেষ করে দুপুর ১টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে বেরিয়ে দিল্লি বিমানবন্দরে চলে যান বিরাট কোহলিরা। সেখান থেকে মুম্বাই পৌঁছান। সেখানে ছাদ খোলা বাসে করে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে যান রোহিত-কোহলিরা।
বৃষ্টির মধ্যেও বিমনবন্দরে রোহিত-কোহলিদের একনজর দেখতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে লাখ লাখ মানুষ। কারো কারো হাতে ছিল রোহিত-কোহলি-পান্ডেদের ছবিসহ ব্যানার-পোস্টার। এই স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয় বিজয়ী সংবর্ধনা। বিশ্বকাপ ট্রফিটা দর্শকদের দেখানোর জন্য উঁচিয়ে ধরেছেন। তখন ভক্তদের বাঁধভাঙা উল্লাস যেন ভিন্ন মাত্রা পায়। সবাই ‘চ্যাম্পিয়ন, চ্যাম্পিয়ন’ বলে রব তুলতে থাকে। এরপর শেষ বিকালে ওয়াংখেড়েতে ট্রফি নিয়ে প্রবেশ করে টিম ইন্ডিয়া। রোহিতের হাতে ছিল শিরোপা। তখন স্টেডিয়ামে থাকা সমর্থকেরা স্লোগান তোলে ‘ইন্ডিয়া কা রাজা রোহিত শর্মা’। স্টেডিয়ামে জায়গা না পেয়ে অনেকে স্টেডিয়ামের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন।

