পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৩২টি ভারতীয় মাছ ধরা ট্রলারসহ ৫১৯ জেলেকে নিরাপত্তা হেফাজতে রেখেছে পায়রাবন্দর কোস্ট গার্ড। ট্রলার ও জেলেদের বিরুদ্ধে মামলা বা তাদের ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর বিষয়ে গতকাল সোমবার পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি কলাপাড়া প্রশাসন।
প্রশাসন জানিয়েছে, মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এসব জেলে নিরাপত্তা হেফাজতেই থাকবেন। গত রবিবার দুপুরে এসব ফিশিং ট্রলার পায়রা বন্দর রামনাবাদ চ্যানেলে প্রবেশ করলে তাদের আটক করা হয়। ভারতীয় পতাকা বহনকারী প্রত্যেকটি ট্রলারে ১৫-১৮ জন জেলে রয়েছে। এদের বাড়ি ভারতের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানা গেছে। কলাপাড়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনিবর রহমান গতকাল সোমবার রাতে জানান, ভারতীয় এসব জেলের বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত এলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পায়রা বন্দর কোস্ট গার্ড কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. রেজাউল করিম জানান, ট্রলার এবং জেলেদের নাম তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। যেহেতু অনেক ট্রলার, তাই বিষয়টি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার বলে তিনি জানান। উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মনোজ কুমার জানান, ভারতীয় জেলেরা ঝড়ের কবরে পড়ে বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ করে শনিবার রাতে রামনাবাদ চ্যানেলের গঙ্গামতি এলাকায় আবস্থান করে। ররিবার দুপুরে কোস্ট গার্ড সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে পায়রাবন্দর কোস্ট গার্ড ঘাটে নিয়ে আসে। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত সাগরে সব ধরনের মাছ ধরায় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ভারতীয় এ বিপুলসংখ্যক জেলে ও ট্রলার বাংলাদেশে আসায় জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কলাপাড়া মত্স্য আড়তদার মালিক সমিতি ও জেলেরা অভিযোগ করেন, সরকার সাগরে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা দিলেও পাশের দেশ ভারতের জেলেরা ঠিকই সাগরে মাছ ধরা অব্যাহত রেখেছে। এদিকে উদ্ধারকৃত জেলেদের ভাষ্যমতে— তারা ভারতের জলসীমায় মাছ শিকার করছিল। আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়ে দিক হারিয়ে তারা বাংলাদেশি জলসীমানায় ঢুকে পড়ে।
বাংলাদেশে নিষেধাজ্ঞায় ভারতের জেলেরা অত্যাধুনিক ফিশিং ট্রলার নিয়ে আমাদের দেশের মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে— এ নিয়ে গত ৩ জুলাই দৈনিক ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর মাত্র ৪ দিন পর রবিবার ভারতের ৫১৯ জেলেসহ ৩২টি ট্রলার পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এলে কোস্ট গার্ড হেফাজতে নেয়।
