সংগীতশিল্পী তাহসান খানের মা ড. জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগম পিএসসির চেয়ারম্যান থাকাকালীন তার গাড়িচালক ছিলেন আলোচিত আবেদ আলী বলে শোনা যাচ্ছে। ড. জিনাতুন নেসার সময়ও হয়েছিল প্রশ্নফাঁসকাণ্ড। ফলে তাহসানের মায়ের নামও উঠে আসছে।
গুঞ্জন ছড়িয়েছে মা জিনাতুন নেসার চেয়ারম্যান থাকাকালীন ২৪তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হয়েছিলেন তাহসান। কিন্তু সেই পরীক্ষা বাতিল হয়। পরবর্তীতে ভাইভা থেকে বাদ পড়েন। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে গুঞ্জনটি।
তাহসানের নাম জড়াতেই নেটিজেনদের একাংশ কটাক্ষ করে যাচ্ছেন গায়ককে। যাচাই না করেই জনপ্রিয় এ গায়ককে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে যাচ্ছেন তারা। এবার বিষয়টি নিয়ে সরব হলেন জনপ্রিয় সুরকার ও সংগীত পরিচালক প্রিন্স মাহমুদ।
নিজের ফেসবুকে প্রিন্স লিখেছেন, ‘তাহসানের নামে ছড়ানো খবরটি একেবারেই মিথ্যা, সম্পূর্ণ মিথ্যা। এসব খবর নজর অন্য দিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যই। তাহসানের বাবা মা দুই জনেই অত্যন্ত সৎ মানুষ।
ছোটবেলা থেকে দেখেছি। সাধারণ সরকারি কর্মকর্তাদের বাচ্চাদের মতো বড় হয়েছে তাহসান। কোনোরকম বিলাসিতা দেখিনি। যা তাহসানের অর্জন সমস্তটা গানের জন্যই।’
তিনি আরও লেখেন, প্রকৃত অসৎদের ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এগুলো ছড়ানো হচ্ছে। তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
প্রিন্স মাহমুদ বলেন, একটু ভুল সংশোধন করে দেই। সবাই একটু যাচাই করে নিন শিল্পী তাহসান ও তার মাকে নিয়ে পোস্ট করার আগে। বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (বিপিএসসি) এর প্রথম নারী ও ৮ম চেয়ারম্যান ড. জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগম যিনি সংগীত শিল্পী তাহসানের মা এবং আবেদ আলী (প্রশ্নপুরী) জিনাতুন নেসার ড্রাইভার ছিলেন। জিনাতুন নেসা ম্যাম ২০০২-২০০৭ সাল পর্যন্ত পিএসসির চেয়ারম্যান ছিলেন। আর প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে ২০১২ থেকে মানে গত একযুগ বা ১২ বছর। তার গাড়ি চালাতো বলেই সে অপরাধী বিষয়টা কিন্তু এমন নয়। তিনি দায়িত্বে থাকার সময় প্রশ্নফাঁস হয়ে ছিলো কিনা বা প্রশ্নফাঁসের সময় থেকে তিনি কোন দায়িত্বে ছিলেন কিনা বা জড়িত ছিলেন কিনা সেটা আগে জানতে হবে। তারপর আশা করি আমরা তাকে দোষারোপ করব যদি তিনি অপরাধী হন বা তার কোন দায় থাকে।’
সম্প্রতি প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত সোমবার পিএসসির ৬ কর্মকর্তাসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরে পল্টন থানায় মামলা করে আইনশৃঙ্খলা সংস্থাটি।

