কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গজেরকুটি ও খলিশা কোঠাল এলাকার তিন থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কে এখনো লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। গ্রামীণ এ সড়কটি তাই শুকনো মৌসুমে থাকে ধুলোময় আর বর্ষায় কর্দমাক্ত। অসহনীয় দুর্ভোগে ক্ষুব্ধ হয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকালে সড়কে ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানায়, ৫টি গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলের একমাত্র অবলম্বন এ সড়ক। বর্ষার সময় একদমই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে সড়কটি। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানালেও তারা কোনো উদ্যোগ নেননি।
ওই এলাকার বাদশা মিয়া ও নুর মোহাম্মদ জানান, সামান্য বৃষ্টি হলে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এটি পাঁকা করার বিষয়ে মেম্বার, চেয়ারম্যান এমনকি সংসদ সদস্যকেও জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। একই এলাকার বাসিন্দা ফিরোজা বেগম ও সুফিয়া বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই বছরের বাচ্চা অসুস্থ। ডাক্তারকে ফোন দিয়েছি। সড়কের বেহাল দশা দেখে আসেনি। অটোরিকশাও চলে না। তাই বাধ্য হয়ে তিন কিলোমিটারজুড়ে হাঁটু কাঁদা মারিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে আসলাম। ছেলে-মেয়েরা স্কুল যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছে।
শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার ও আকাশ রহমান জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসা করতে খুবই কষ্ট হয়। জুতা খুলে হাতে নিয়ে রাস্তায় হাঁটতে হয়। কাদা লেগে জামা-কাপড়ও নষ্ট হয়ে যায়।
এ বিষয়ে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাছেন আলী বলেন, ওই এলাকার কিছু লোকজন আমার কাছে এসেছেন। আপাতত চলাচলের জন্য ভিটি বালুর ফেলাতে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সড়কটির পাঁকা করতে বরাদ্দ পাসের কাজ প্রক্রিয়াধীন- এমনটা শুনেছেন বলেও জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহেনুমা তারান্নুম জানান, ওই সড়কটি পাঁকা করণের বিষয়ে লটভুক্ত হয়েছে কি না, তা আগে দেখতে হবে। যদি না হয়ে থাকে তাহলে লটভুক্ত করে দ্রুত পাঁকা করণের সব ব্যবস্থা করা হবে।
