প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে চুপিসাড়ে সারাদেশেই চলছে ‘বাল্য বিয়ে’। যার ফলস্বরূপ অপুষ্ট শিশুর জন্ম, বিবাহ বিচ্ছেদ কিংবা বধু নির্যাতনের মত বিষয়গুলি সামনে আসছে। ‘বাল্যবিবাহ’ নামক ভয়ংকর এই ব্যাধি উৎপাটন করতে প্রশাসনের পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছেন দেশের হাজারো তরুণ-তরুণী ও সমাজকর্মী। তেমনি একজন ফেনীর মাহবুবা তাবাচ্ছুম ইমা।
যৌতুক ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ভূমিকা রাখায় সম্প্রতি সম্মাননা প্রদান করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ‘মাদক, বাল্যবিবাহ, যৌতুক রুখবোই, আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়বই’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বিএসএল আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ইনডোর ক্রিকেট-২০২৪-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তার হাতে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও নগদ অর্থ তুলে দেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক। এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন'র মেয়র আতিকুল ইসলাম, সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তোজা প্রমুখ।
মাহবুবা তাবাচ্ছুম ইমা শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। গত বেশ কয়েকবছর ধরে বিভিন্ন সংগঠনের হয়ে এবং নিজ উদ্যোগে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়া সাইবার অপরাধের শিকার শিশুদের নিয়ে কাজ করেছেন। ইতোপূর্বে তিনি এনসিটিএফ'র হয়ে ফেনী পৌরসভার প্রতীকী মেয়র ও সদর উপজেলা পরিষদের প্রতীকী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইমা বলেন, ‘কোনো প্রাপ্তির জন্য আমি কাজ করি না। সমাজের দায়বদ্ধতা থেকেই নিজের জায়গা থেকে এসব কাজ করার চেষ্টা করি। তবে এসব স্বীকৃতি অবশ্যই আনন্দদায়ক এবং কাজ করার স্পৃহা বাড়িয়ে দেয়। আমার ইচ্ছে, আরো কাজের পরিধি বাড়ানোর এবং সমাজ থেকে এসব ভয়ংকর ব্যাধি দূর হোক, সেটাই আমার চাওয়া।
ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সঞ্চালনায় ওই অনুষ্ঠানে যৌতুক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখায় লালমনিরহাটের মো. স্বাধীন ইসলামকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মাদক প্রতিরোধে মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র ‘বাঁধন’কে সম্মাননা দেওয়া হয়।
