ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের স্লোগান ঘিরে লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের একটি লেখা তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছে। ‘অসমাপ্ত’ সেই লেখাটি সামনে আসার পর তা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। লেখার একটি অংশে তিনি প্রশ্ন রাখেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী সত্যিই নিজেকে রাজাকার হিসেবে দাবি করতে পারে কিনা, শুধুমাত্র একটা সরকারি চাকরির জন্য? চাকরি অনেক দূরের ব্যাপার, তাদের যে এই দেশের মাটিতেই থাকার অধিকার নেই- বলে মনে করেন তিনি। এদিকে তার এ বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
বুধবার আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, জাফল ইকবাল স্যার সম্পর্কে আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো কথা বলতে চাই না। আমার ধারণা উনার প্রচণ্ড বুদ্ধিসুদ্ধির অভাব আছে। হয় উনার মধ্যে প্রচণ্ড অপরাধবোধ কাজ করে যে ১৯৭১ সালে উনি কী করেছেন, এই অপরাধবোধ থাকার জন্য উনি অতিরিক্ত মুক্তিযোদ্ধা সাজার চেষ্টা করেন।
আসিফ নজরুল আরও বলেন, অধ্যাপক জাফর ইকবালের কাছে তার একটাই প্রশ্ন- আপনি কী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বোঝেন? আপনি কি পড়াশোনা করেছেন? আপনি কি বাহাত্তর সনে গণপরিষদ বিতর্ক পড়েছেন?
জাফর ইকবালকে বুদ্ধিপ্রতিবদ্ধী উল্লেখ করে অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, তার তো কোনো পড়াশোনাই নাই, সে তো শিক্ষাবিদ দূরের কথা উনি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধক একজন মানুষ।
প্রসঙ্গত,অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের সমালোচিত লেখাটি সাদাসিধে কথা নামে তার নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। ‘কোটা’ শিরোনামে লেখাটা শুরু করলেও তা শেষ করেননি জাফর ইকবাল। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, লেখার মাঝেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের ‘রাজাকার’ হিসেবে দাবি করেছে বলে জানতে পারেন। তখন তিনি লেখাটি সেখানেই শেষ করে দেন।
শিক্ষার্থীরা নিজেদের রাজাকার পরিচয় দিয়ে স্লোগান দিয়েছেন জানার পর জাফর ইকবালের লেখার গতিপথও ভিন্নদিকে গেছে। সেখান থেকে নিচের অংশে তিনি লিখেছেন, ‘ঘুমানোর আগে খবরটি দেখে মাথার মাঝে একটা বিস্ফোরণ হলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের রাজাকার হিসেবে দাবী করেছে। খবরটি নিজের চোখে দেখেও বিশ্বাস হয় না। এটি কী সত্যিই সম্ভব? বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র বা ছাত্রী কি সত্যিই নিজেকে রাজাকার হিসেবে দাবী করতে পারে? শুধুমাত্র একটা সরকারি চাকরির জন্য? কোন দেশের সরকার, বাংলাদেশ নাকি পাকিস্তান?’
তিনি আরও লেখেন, ‘এই ছাত্র-ছাত্রীরা কী জানে, চাকরি অনেক দূরের ব্যাপার, তাদের যে এই দেশের মাটিতেই থাকার অধিকার নেই।’
একটু জায়গা রেখে তার নিচের প্যারা জাফর ইকবাল লেখেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার বিশ্ববিদ্যালয়, আমার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়। তবে আমি মনে হয় আর কোনোদিন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে চাইবো না। ছাত্র-ছাত্রীদের দেখলেই মনে হবে, এরাই হয়তো সেই রাজাকার। আর যে কয়দিন বেঁচে আছি, আমি কোনো রাজাকারের মুখ দেখতে চাই না। একটাই তো জীবন। সেই জীবনে আবার কেন নতুন করে রাজাকারদের দেখতে হবে?’

