প্রায় পাঁচ দিন দেশ ছিল অচল। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে সবশেষ পাঁচ দিন পুরো বাংলাদেশের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে তাতেও পরিস্থিতি শান্ত না হওয়ায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে বাধ্য হয় সরকার। সেনাবাহিনী নামার পর দেশে কারফিউ দেওয়া হয়। মাঝে তিন দিন সাধারণ ছুটিও ছিল। অবশেষে বড় পরিসরে কারফিউ শিথিল করে খুলে দেওয়া হয়েছে অফিস-আদালত। গেল ১৮ তারিখের পর কার্যত অচল অবস্থা তৈরি হয় বাংলাদেশে। তবে বর্তমানে খানিকটা গতকাল বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত খোলা ছিল অফিস।
এর আগে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গোটা দেশ হয়ে উঠে অস্থির। জায়গায় জায়গায় দেখা যায় সহিংসতা। চলতে থাকে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ। অচল হয়ে যায় গোটা দেশ। আর বাংলাদেশের এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি কড়া নজরে পর্যবেক্ষণ করেছে বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। কেননা আগামী অক্টোবর মাসে এ দেশেই ১০ দল নিয়ে বসবে নবম নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।
সম্প্রতি ক্রিকেটভিত্তিক গণমাধ্যম ক্রিকবাজ এক প্রতিবেদনে এ প্রসঙ্গে জানায়, বাংলাদেশে চলমান সহিংসতা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সদস্য ও ম্যানেজারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, তারা এ বিষয় নিয়ে কলম্বোতে তাদের বার্ষিক সম্মেলনে আলোচনা করছে। তারা সহিংসতা ও রাজপথে হওয়া বিক্ষোভের বিষয়ে উদ্বিগ্ন, এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দেখছে। গেল ১৯ থেকে ২২ জুলাই হওয়া সভায় আলোচনার একটা অংশে ছিল বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি। যদিও বিশ্বকাপ নিয়ে সেখানে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
কলম্বোতে অনুষ্ঠিত ঐ সভায় আইসিসির এক কর্মকর্তা বলেন, 'আমরা পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি। যদিও টুর্নামেন্ট শুরু হতে কিছুটা সময় বাকি আছে। এদিকে পরিস্থিতি গত ২৪ ঘণ্টায় আরও উন্নতি হয়েছে।' এদিকে ঐ সভায় উপস্থিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের বিষয়টি নজরে আনা হলেও প্রভাবশালী বোর্ডের আলোচ্য আলোচনায় এটি ছিল না। অংশ গ্রহণকারী ১০ দলকে দুই ভাগে ভাগ করে আগামী ৩ অক্টোবর শুরু হবে নারী বিশ্বকাপ। শেষ হবে ২০ অক্টোবর। সবগুলো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে সিলেট ও ঢাকায়। এ টুর্নামেন্টে 'বি' গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে সঙ্গে পাবে বাছাইপর্ব উতরে আসা স্কটল্যান্ড। তার আগে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ১০টি প্রস্তুতি ম্যাচ।
