রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান আবাসিক হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন হলের কক্ষ ভাঙচুর ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কোটা বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়কারীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ শিক্ষার্থী ও অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কাইয়ুম মিয়া নগরীর মতিহার থানায় মামলাটি করেন।
এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন, কোটা আন্দোলনের সমন্বয়কারী ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সালাউদ্দিন আম্মার, অর্থনীতি বিভাগের তোফায়েল আহমেদ তপু, বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের ফজলে রাব্বি মো. ফাহিম রেজা, আরবি বিভাগের মাহাদী হাসান মাহির, পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের মাহাদী হাসান মারুফ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেহেদী সজিব, দর্শন বিভাগের আশিকুর রহমান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শাহ পরান, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের দেওয়ান বাধন ও সিরামিকস বিভাগের তানভীর আহম্মেদ রিদম, অর্থনীতি বিভাগের মনিমুল হক ও আল মুহি ফেরদৌস, লোকপ্রশাসন বিভাগের আব্দুল্লাহ আল মেহেদি, রসায়ন বিভাগের শাহরিয়ার পলাশ ও ফার্মেসি বিভাগের মো. আনারুল, নগরীর মির্জাপুরের মো. নাঈম ও মো. হাসিবুল, বুধপাড়ার মো. হাবিবুর রহমান ও মো. আশিকুর রহমান তুহিন এবং কাজলার শাহরিয়ার আহমেদ প্রমুখ।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত মঙ্গলবার বিকালে লাঠি হাতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে আসামিরা। তারা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ভেতরে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের কক্ষে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান হল, মাদার বখস্ হল, জিয়া হল, মতিহার হল ও শাহ মখদুম হলের অন্তত ২০টি কক্ষ ভাঙচুর করা হয়। আন্দোলনকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে কক্ষগুলোতে থাকা জিনিসপত্র বাইরে বের করে এনে পুড়িয়ে দিতে দেখা যায়। এ সময় বেশ কিছু মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগও করা হয়।
মতিহার থানার ওসি শেখ মো. মোবারক পারভেজ জানান, মামলায় ১৫ শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৭টি পুরাতন মোটরসাইকেলের আনুমানিক মূল্য ৬৪ লাখ টাকা ও ১ লাখ ৯০ টাকার মালামাল ও ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের দুইটি ল্যাপটপ চুরির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
