ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অলিম্পিক গেমস উদ্বোধনের প্রতীক্ষা শেষ। আজ প্যারিসের সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে, যখন বাংলাদেশের ঘড়ি বলবে রাত সাড়ে ১১টা। গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময় প্যারিসের আকাশ থাকবে ঝকঝকে। রৌদ্রজ্জোল আকাশ। এই খোলা আকাশের নিচেই আজ প্যারিস অলিম্পিকে গেমসের উদ্বোধন।
ফরাসিদের কাছে এটাই প্রথম অলিম্পিক গেমস। এর আগেও দুই বার অলিম্পিক গেমস আয়োজন করেছিল ফ্রান্স। কিন্তু নতুন প্রজন্ম কিংবা পুরোনো প্রজন্মের কাছে এটাই তাদের প্রথম অলিম্পিক। প্রথম বার অলিম্পিক হয়েছিল ১৯০০ সালে। এরপরই অলিম্পিক হয়েছিল চব্বিশ বছর বাদে। সেটি ১৯২৪ সালে। এবার তৃতীয় আয়োজন করছে ফ্রান্স। সেই হিসাবে ১০০ বছর পর অলিম্পিক গেমস হচ্ছে ফ্রান্সে। ১৯২৪ থেকে ২০২৪, মাঝে ১০০ বছর কেটে গেছে। যা দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন ফরাসিরা।
বাংলাদেশে হলে কথার ছলে বলা যেত ১০০ বছরে বুড়িগঙ্গার জল অনেক গড়িয়েছে। এই ১০০ বছরে রিভার সেইন নদীর জলও গড়িয়ে অনেক। শত বছর আগে হওয়া অলিম্পিক গেমস দেখেছেন এমন একজন সাক্ষী পাওয়া গেল না। অনেকের সঙ্গে কথা হলো কিন্তু ১০০ বছর কথাটা শুনলেই তারা কপালে ভাঁজ ফেলেন। ফরাসি ভাষায় বলেন, 'আমি দেখিনি। আমার তো জন্মই হয়নি। আমার বাবা মা এতো দিন বাঁচেননি।' তারা না দেখলেও কেউ হয়ত দেখেছেন যার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়নি। তবে এখনকার প্রজন্মের কাছে এই অলিম্পিক গেমস প্রথম অলিম্পিক আসর।
শুধুই কি তাই, ইউরোপের প্রায় সব দেশের নাগরিক এসেছেন, তাদের কাছেও অলিম্পিক দেখার ইতিহাসের গল্পটা একই রকম। ইতিহাসে এবারই প্রথমবার স্টেডিয়ামের বাইরে অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধন হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে। নদীতে পানির ওপরে গেমসের উদ্বোধন হবে। অলিম্পিক গেমস দর্শকের ভাবনায় থাকে স্টেডিয়ামের ভেতরে অ্যাথলেটিক ট্র্যাকে মার্চপাস্ট হচ্ছে। ক্রীড়াবিদরা দেশের পতাকা হাতে এগিয়ে যাচ্ছেন। পেছনে সেই দেশের ক্রীড়াবিদরা পায়ে পায়ে মঞ্চের দিকে যাচ্ছেন। ফরাসিরা মনে করছেন, চিরায়িত এই ছবিটা পুরোনো এবং স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে গেছে। যা দেখেছেন দর্শক, যা শুনেছেন, একই ছবি সাজিয়ে-গুছিয়ে দেখানোর প্রয়োজন নেই। পুরোনো ছবি বদলে দিয়েছেন প্যারিস অলিম্পিক গেমসের আয়োজকরা। মার্চপাস্ট হবে নদীর পানির ওপর। ১০০টা নৌকা দেওয়া হয়েছে। নৌকার ওপর থাকবেন ক্রীড়াবিদরা। নৌকাতেই হবে প্যারেড। পতাকা বহন করবেন নৌকায় দাঁড়িয়ে। সাড়ে ১০ হাজার ক্রীড়াবিদ নৌকায় থাকবেন। পরদিন যাদের খেলা থাকবে তারা থাকবেন না।
রিভার সেইন নদীটির মোহনা মিশেছে ইংলিশ চ্যানেলে। সেখান থেকে প্যারিসের বুক চিড়ে নদী গেছে আরো দূরে। প্যারিসের কাছে এটি হচ্ছে তাদের হৃদযন্ত্র। নদীর আয়তন অনেক, প্যারেড হবে ৬ কিলোমিটার জুড়ে। নদীর দুই পাশে দর্শক থাকবে। কিন্তু সবার সুযোগ নেই যে, আপনি চাইলেই নদীর পাশে গিয়ে বসে পড়বেন। কিউআর কোড দেওয়া হয়েছে, যাদের কাছে সেটি আছে তারাই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন নদীর পাড়ে বসে। ফ্রান্স চেষ্টা করেছে যতটা সম্ভব এবং যত বেশি দর্শককে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রত্যক্ষ সাক্ষী করা যায়। ৬ লাখ দর্শক দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ লাখ ২২ হাজার টিকিট ফ্রি দেওয়া হয়েছে। ১ লাখ ৪ হাজার দর্শককে টিকিট কিনে দেখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই দর্শকরা রিভার সেইন নদীর পাড়ে, খুব কাছ থেকে দেখবেন। আর যারা কোনোভাবেই সামনে বসে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ পাননি তাদের জন্য রাখা হয়েছে প্যারিস শহর জুড়ে ৮০টি বড়পর্দা।
শত বছর আগে হওয়া অলিম্পিক গেমস দেখেছেন এমন একজন সাক্ষী পাওয়া গেল না। অনেকের সঙ্গে কথা হলো কিন্তু ১০০ বছর কথাটা শুনলেই তারা কপালে ভাঁজ ফেলেন। ফরাসি ভাষায় বলেন, 'জ্য নে পা ভাঁ যে নেতে পা নে, মে পার ন পা ভেকো ছি লওঁ, মে পার ন পা ভেকো ছি লওঁ।' ফ্রান্সপ্রবাসী রুবেল ভূঁইয়ার ১৩ বছরের কন্যাসন্তান বাংলাদেশের খুদে শিক্ষার্থী ফাতেহা ভূঁইয়া খুব ভালো ফ্রেঞ্চ জানে। সে ভাষান্তর করে বলল, 'আমি দেখিনি। আমার তো জন্মই হয়নি। আমার বাবা-মা এত দিন বাঁচেননি।'
