বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনার তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে গত এক মাসে বিলীন হয়েছে শিমুলতাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ শতাধিক বাড়িঘর। হুমকিতে রয়েছে সুজানুরপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। এতে আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক পরিবারসহ নদী তীরবর্তী মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, সারিয়াান্দিতে সুজানুরপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পটি যমুনার ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে। ভাঙনের হুমকিতে পাড়ায় প্রকল্পের ২০ ব্যারাকে বসবাসরত ১০০ পরিবার আতঙ্ক- উৎকণ্ঠায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।
শিমুলতাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গ্রাম রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কোটি টাকার বালুভর্তি জিওব্যাগ ডাম্পিং করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। আশ্রয়ণের বাসিন্দারা এখন বলছেন, হয়তো শেষ পর্যন্ত আশ্রয়ণের ব্যারাকগুলোও রক্ষা পাবে না।
চালুয়াবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম বাদশা বলেন, ১০-১২ বছর আগে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২০ ব্যারাক নির্মাণ করা হয়েছিল। তখন সেখানে একশটি ভূমিহীন পরিবারকে পূর্নবাসন করা হয়। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় ঐ প্রকল্প বাস্তবায়নে কেবল মাটি ভরাট কাজেই ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন গম। আর ব্যারাক নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল ২ কোটি টাকা।
সরেজমিন ভাঙনকবলিত এলাকায় গেলে দেখা গেছে, নদী পাড়ের মানুষের চোখে-মুখে আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রকল্পের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম শেখ, ইসমাইল শেখ, শহর আলী ভূঁইয়া, আবেদ আলী ও কাদের শেখ জানান, নদী ভাঙনের শিকার হয়ে বসতবাড়ি ও জমি হারিয়ে আমরা সরকারের দেওয়া এই প্রকল্পে আশ্রয় নিয়েছিলাম। কয়েক বছর ভালোই ছিল। কিন্তু নদী ভাঙতে ভাঙতে এখন আমাদের বাড়িঘর পর্যন্ত চলে এসেছে। ভাঙনে যে কোনো সময় প্রকল্প এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এই প্রকল্প নদীতে গেলে কোথায় যাব, কী করে খাব-ভেবে পাচ্ছি না।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে বিষয়টি ডিসি স্যারকে জানিয়েছি। প্রকল্প রক্ষার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দিয়েছি। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক জানান, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। প্রধান প্রকৌশলীকেও জানিয়েছি। শিগগিরই ভাঙন রোধে কাজ শুরু করা হবে।
