রাজশাহীতে আটক জামায়াত নেতাকে ছাড়াতে আওয়ামী লীগ নেতার তদবির!

রাজশাহীতে তোলপাড়

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৪, ০৪:০০

রাজশাহীতে নাশকতার মামলায় আটক জামায়াতের নেতাকে ছাড়াতে পুলিশ কমিশনারের কাছে তদবির করেছেন এক আওয়ামী লীগ ও এক ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা। এ ঘটনা জানাজানির পর রাজশাহীতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

শুধু ঐ দুই নেতাই নন, রাজশাহী বিভাগে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি নেতাদের ছাড়াতে পুলিশের কাছে আওয়ামী লীগের নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের তদবির বেড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি নেতাদের ছাড়াতে পুলিশের কাছে আওয়ামী লীগের নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের তালিকা করার জন্য আওতাধীন পুলিশ সুপারদের রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির নির্দেশে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান। 

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সদরের সাবেক এমপি ফজলে হোসেন বাদশার মাধ্যমে মহানগর আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর সরিফুল ইসলাম বাবু এই তদবির করেন।

সূত্র জানায়, গত ২৩ জুলাই দিবাগত রাতে নগরীর হড়গ্রাম মুন্সিপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে অধ্যক্ষ ও জামায়াত নেতা নুরুজ্জামান খানকে কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ আটক করে। গত বছরের ১৭ নভেম্বর কাশিয়াডাঙ্গা থানার একটি নাশকতার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরদিন ২৪ জুলাই তাকে মুক্ত করতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদারের সঙ্গে দেখা করেন কাউন্সিলর বাবু। তবে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়নি।

আওয়ামী লীগ নেতা বাবু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের অন্তত ১২ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগে থেকেই নাশকতার মামলা রয়েছে। তবে অধ্যক্ষ নুরুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। একটা পুরোনো মামলায় তাকে আটক ও গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এ জন্য আমি সাবেক এমপি বাদশা ভাইয়ের কাছে গিয়েছিলাম। বাদশা ভাই পুলিশ কমিশনারকে বলে আমাকে দেখা করার সময় নিয়ে দিয়েছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘অধ্যক্ষ নূরুজ্জামান আগে জামায়াতের রাজনীতি করলেও এখন তিনি সংগঠনটির বিরোধিতা করেন। আমি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং আমার ওয়ার্ডের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি অবস্থিত। এ কারণে অধ্যক্ষর জন্য তদবির চেষ্টা করেছি।’ তবে মতামতের জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাবেক এমপি ফজলে হোসেন বাদশাকে পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, নগরীর সাহেববাজার বড় মসজিদসংলগ্ন এলাকায় ১৯৮২ সালে জামায়াতে ইসলামী ‘মসজিদ মিশন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করে। এখানে জামায়াতের সক্রিয় নেতাকর্মীদের শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির ১২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা রয়েছে। এরমধ্যে দুই জন স্বরাষ্ট্র মণন্ত্রালয়ের ‘তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী’। এছাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজটির শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রায়ই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন।

সূত্র জানায়, ‘মসজিদ মিশন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজে’র অধ্যক্ষ নুরুজ্জামান খান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা ছিলেন। এরপর জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত।

ইত্তেফাক/এমএএম