সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে এখন যে কয়েকটি বিষয় আলোচনায়, এর মধ্যে অন্যতম—‘মেট্রোসেম টু দ্য পয়েন্ট; পর্ব নং-১৮৫৩’। কোটা সংস্কার ইস্যু নিয়ে এই টক শো’টি আলোচনায় থাকার যতগুলো কারণ রয়েছে, উপস্থাপিকাই সব বিষয়কে ছাপিয়ে গেছেন। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ অনেকে। অনেক দর্শকই ‘এই উপস্থাপিকার মতো ধৈর্যশীল’ হতে চেয়েছেন।
টেলিভিশন উপস্থাপনায় তরুণ হলেও, এরই মধ্যে নজর কেড়েছেন দীপ্তি চৌধুরী। হাসিমুখ, নান্দনিক শব্দ চয়ন, বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করার সক্ষমতা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে আড্ডা জমানোর দারুণ কৌশ রপ্ত করেছেন এরইমধ্যে। সম্প্রতি অনেকে বলছেন তিনি সময়ের অন্যতম ধৈর্যশীল উপস্থাপিকা; আত্মবিশ্বাসী এবং সাহসীও বটে!
উপস্থাপনা ক্যারিয়ারের শুরু যেভাবে
দীপ্তি যখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়তেন, তখন থেকেই তার উপস্থাপনায় হাতেখড়ি। ২০১৬ সালে কিশোর-কিশোরী সুস্বাস্থ্য ভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘স্বর্ণ-কিশোরী’-এর চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। তারপর সেই অনুষ্ঠান উপস্থাপনার সুযোগ পান দীপ্তি। তিনি বলেন, ‘এইচএসসি পাশ করার পরপরই চ্যানেল আই থেকে পেশাগত উপস্থাপক হিসেবে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তখন থেকে পড়াশোনা আর লেখালেখির পাশাপাশি চলছে কথা বলার জীবন।’
বর্তমানে চ্যানেল আইয়ের নিয়মিত আয়োজন ‘গান দিয়ে শুরু’, ‘তারকা কথন’ অনুষ্ঠানে সিডিউল মাফিক সময়ে দেখা যায় দীপ্তিকে। গত কয়েক মাস ধরে প্রায়ই রাজু আলীমের প্রযোজনায় ‘মেট্রোসেম টু দ্য পয়েন্ট’ উপস্থাপনা করছেন তিনি। এছাড়া বেসরকারি চ্যানেলটির বিশেষ আয়োজনগুলোতেও দীপ্তি চৌধুরীর ওপর ভরসা করে চ্যানেল আই। বোকাবাক্সের বাইরেও বিভিন্ন মানসম্পন্ন অনুষ্ঠানে দেখা যায় তাকে।
উপস্থাপনা নিয়ে যা ভাবেন
উপস্থাপনাকে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক পেশা হিসেবেই মানেন দীপ্তি চৌধুরী। পোশাক আর রূপ সজ্জার চেয়ে প্রজ্ঞা, জ্ঞান এবং সততাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি। বিরূপ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বিষয়ে দীপ্তি বলেন, ‘আমি যা করি তা হচ্ছে, পরিস্থিতি দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া এবং বার্ড আই থেকে তাকে দেখা। আমি আমার কাজের মাধ্যমে পজটিভিটি ছড়াতে চাই। সবসময় পারি বলবো না তবে চেষ্টা করি।
সম্প্রতি আলোচিত পর্বটি প্রসঙ্গে দীপ্তি বলেন, ‘আমি চেষ্টা করি অতিথিদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান রেখে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করতে। উপস্থাপনায় আমি ব্যক্তিগত কোনো আবেগ-অনুভূতিকে স্থান দেই না। ওই সময়ে বাংলাদেশের কোটি মানুষের যে প্রশ্ন-সেটাই আমি করতে চেয়েছি। কোনো অতিথির বক্তব্যই আমাকে অনুষ্ঠানের মূলবিষয় থেকে বিচ্যুত করে না, ওই অনুষ্ঠানেও করেনি।’
দীপ্তি চৌধুরী বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন নৃবিজ্ঞান নিয়ে। উপস্থাপনা ছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে তরুণ উন্নয়নকর্মী হিসেবে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করছেন। চলতি বছরে বাংলাদেশের ১০০ সদস্যের তরুণ প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে ভারত সফরে গিয়েছিলেন এই উপস্থাপিকা। এছাড়া সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, আফ্রিকার কেনিয়াসহ নানা দেশে বাংলাদেশের তরুণ প্রতিনিধি হিসেবে ঘুরে এসেছেন।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দীপ্তি বলেন, ‘আমি উপস্থাপনাকে উপভোগ করি। এর ফলে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি, রাজনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক জগতের অনেক বড় মানুষের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে, তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখছি। তাছাড়া আমি মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই। সে বিষয়টি মাথায় রেখে আমার পড়াশোনা, লেখালাখি এবং উপস্থাপনা তথা মিডিয়া ক্যারিয়ারকে এক সুতোয় গাঁথতে চাই। বাকি অনেক কিছু তো সময় বলে দেবে।’

