অবিন্তা কবির ফাউন্ডেশন স্কুল

পরিবারের নিম্ন আয়ই যেখানে শিশুর ভর্তি যোগ্যতা

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৯, ১৮:২৭

যদি পরিবারের মাসিক আয় মাত্র ১২ হাজার টাকা কিংবা এর নিচে হয় তাহলেই সুযোগ মিলবে শিশুর শিক্ষার। নিম্ন আয়ের মানুষের সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এমন এক মহতী উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এসেছে অবিন্তা কবির ফাউন্ডেশন।

রাজধানীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর মতো মানসম্মত শিক্ষাও যেন একটু চড়া মূল্যের বিনিময়েই মেলে। এখানে নিম্ন আয়ের অভিভাবকদের শিশুদের জন্য এই শিক্ষা যেন একটি অপূরণীয় স্বপ্ন। এই শিশুদের উন্নত শিক্ষা, চিকিত্সা ও পুষ্টি প্রদান এবং ভবিষ্যতের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে অবিন্তা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছে ‘অবিন্তা কবির ফাউন্ডেশন স্কুল’।

সম্প্রতি প্রতিষ্ঠার দ্বিতীয় বর্ষে পা রাখল ভিন্নধর্মী এ স্কুলটি। গত ৬ জুলাই রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন ইসমাইলি জামাতখানা অ্যান্ড সেন্টারে স্কুলটির দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার ও ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত জাও টাবাজারা দ্যু অলিভেরা জুনিয়র। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষিকা ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

যাত্রা শুরু :২০১৭ সালের ৫ জুলাই মেয়ে শিশুদের ভবিষ্যত্ উন্নয়নে অবিন্তার স্বপ্ন পূরণে মাত্র ৩৬ জন সুবিধাবঞ্চিত মেয়ে শিশু নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে স্কুলটি। সাফল্যের সঙ্গে দুই বছর পার করার মধ্যেই বেড়েছে স্কুলটির শিক্ষার্থীর সংখ্যা। রাজধানীর পূর্ব ভাটারায় অবস্থিত এই স্কুলের ৭ জন শিক্ষিকার নিবিড় পরিচর্যায় ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে তারা। তাদের জন্য রয়েছে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, কম্পিউটার ল্যাব, প্লেয়িং রুম বা খেলার ঘর ইত্যাদি। একই সঙ্গে পড়াশোনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘জলি ফনিক্স’ পদ্ধতি।

অভিভাবকের মাসিক আয় যাচাই-বাছাই :স্কুলের শিক্ষার্থীদের সবাই সুবিধাবঞ্চিত মেয়ে শিশু, যাদের অভিভাবকের মাসিক আয় ১২ হাজার টাকা কিংবা এর নিচে। কিন্তু দেখা যায়, অনেক পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা থাকার পরও নিম্ন আয়ের পরিবার হিসেবে ভর্তির আবেদন করেন। এক্ষেত্রে ভর্তির আবেদনের পর পরিবারের প্রকৃত আয় আর আর্থিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য রয়েছে স্কুলের আলাদা টিম। এই টিম প্রয়োজনে আবেদনকৃত শিক্ষার্থীর বাসা পরিদর্শন করে।

১৫ টাকা মাসিক বেতন জমা পড়ে শিক্ষার্থীর মাটির ব্যাংকে :প্রথমদিকে শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ অবৈতনিকভাবে পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও পরে স্কুলের মাসিক বেতন ১৫ টাকা করে ধার্য করা হয়। তবে এই টাকা স্কুলের ফান্ডে কিংবা অ্যাকাউন্টে জমা হয় না। শিক্ষার্থীরা প্রতিমাসে তাদের স্কুলের বেতনের জন্য ১৫ টাকা তাদের শ্রেণি কক্ষে রাখা মাটির ব্যাংকে জমিয়ে রাখে। এটি তাদের ভবিষ্যতে সঞ্চয়ী করে তুলবে, এমনটাই আশা করেন স্কুলটি কর্তৃপক্ষ।

এছাড়াও শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকেই নিয়মিত খাবার, পোশাক, বই-খাতা ও শিক্ষা সামগ্রী সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি প্রতি মাসে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে মেডিকেল চেকআপের ব্যবস্থাও।

অবিন্তা কবিরের ইচ্ছা ছিল সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করা। তাঁর ইচ্ছা ও স্বপ্নের ওপর ভর করেই এই শিশুদের গড়ে তোলার এই কার্যক্রম চালাচ্ছে অবিন্তা কবির ফাউন্ডেশন স্কুল, এমনটাই জানালেন অবিন্তা কবির ফাউন্ডেশনের এডুকেশন প্রোগ্রাম অফিসার ও স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মালিহা আহসান।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ইমোরি ইউনিভার্সিটির অক্সফোর্ড কলেজের শিক্ষার্থী অবিন্তা কবির। ২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকায় ফেরার তিন দিন পর গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত হন। তাঁর স্মৃতিতেই ২০১৭ সালের ৪ মার্চ প্রতিষ্ঠা করা হয় অবিন্তা কবির ফাউন্ডেশন।