রাবিতে শিক্ষকদের মৌন মিছিলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি 

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৪, ১৬:৫০

সারাদেশে ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে মুখে লাল কাপড় বেঁধে মৌন মিছিল করছিলেন শিক্ষকদের সংগঠন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা মৌন মিছিলে অংশ নেয়। মিছিল শেষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। 

বৃহস্পতিবার (০১ আগস্ট) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে এসব ঘটনা ঘটে। এর আগে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়কে মৌনমিছিল করেন তারা। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সারাদেশে ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে লাল কাপড় মুখে বেঁধে রাবির শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বর থেকে এক মৌন মিছিল বের করেন শিক্ষক নেটওয়ার্ক। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরের সামনে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শিক্ষার্থীদের ধরতে শুরু করে। এসময় শিক্ষকরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে শিক্ষার্থীদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।  

ছাত্রদের অভিযোগ, তারা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করতে এসেছিলেন। কিন্তু মৌন মিছিল শেষে হঠাৎ করে তাদেরকে জোর করে তুলে নিতে চাইলে তারা শিক্ষকদের সহযোগিতা চান। এসময় তাদের দুজনকে আটক করা হয়েছে বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ করেন। 

জানতে চাইলে বারীন্দ্র মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী লাবণ্য বলেন, আমরা শিক্ষকদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে মৌন মিছিলে অংশ নিয়েছিলাম কিন্তু সিভিল ড্রেসে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদেরকে আঘাত করে। আমার ভাইদের বিনা-কারণে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। আমাদের অপরাধ কী? আমরা কোনো মামলার আসামি না তাহলে কেন আমাদের আটক করবে। আমরা সমন্বয়কদের সঙ্গে কথা বলে আজকের এই মৌন মিছিলে এসেছিলাম।

মৌন মিছিলে অংশ নেওয়া গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আপনাদের কাছে শিক্ষার্থীদেরকে আটক করার কোনো নথিপত্র নেই। সন্দেহের বশে কাউকে আটক করা অন্যায়। আপনারা এমনটা কখনোই করতে পারেন না। এরপরে যদি কোনো ছাত্রের গায়ে হাত পড়ে এবং আমার সহকর্মীদের গায়ে আঘাত লাগে এটা কিন্তু আমরা মেনে নেব না। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আসবে, তাই বলে পুলিশ প্রশাসন ওপেন কোনো শিক্ষার্থীকে এভাবে তুলে নিতে পারে না। তাদের নামে কোনো মামলা নেই যে তারা আসামি। আপনার আপনাদের কাজ করুন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আসাবুল হক বলেন, আমরা পুলিশ প্রশাসনকে ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করতে বলি। তবে যদি কোনো বহিরাগত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে তাহলে তারা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। বর্তমানে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় আমার শিক্ষার্থীরা বাসায় আছে। কোনো ছাত্রের হয়রানি হোক আমরা এমনটা কখনোই চাই না। আমরা জানতে পেরে সব শিক্ষার্থীকে কাজল গেইট পর্যন্ত নিয়ে তাদেরকে গাড়িতে তুলে দেই।

ইত্তেফাক/এআই