শিল্প-কলকারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৪, ১৩:৪৫

সদ্য গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সম্মুখে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। ইহার মধ্যে এএফপির এক বিশ্লেষণে মোটা দাগে পাঁচটি চ্যালেঞ্জের কথা বলা হইয়াছে। তাহার মধ্যে অন্যতম অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করা। বিশেষত এই মুহূর্তে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিল্প- কলকারখানায় নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন। গত তিন সপ্তাহেরও অধিক সময় ধরিয়া চলমান সহিংসতা ও অস্থিরতায় আমাদের জাতীয় অর্থনীতি পড়িয়াছে চাপের মুখে। তিন দিন বন্ধ থাকিবার পর গত বুধবার হইতে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাককারখানা ও বস্ত্রকল খুলিলেও ব্যবসায়ীরা রহিয়াছেন আতঙ্কের মধ্যে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়াছে, যাহা দুঃখজনক। শিল্পমালিকগণ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থা লইয়া যারপরনাই উদ্বিগ্ন। কেননা গতকাল পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা পরিলক্ষিত হয় নাই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুপস্থিতিতে একধরনের অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হইয়াছে। তাই অবিলম্বে এই সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা প্রদান করা না হইলে শিল্প-কলকারাখানা চালু রাখা কঠিন হইয়া পড়িবে।

আমাদের অর্থনীতিকে এই সমুহ বিপর্যয়ের হাত হইতে উদ্ধার করিতে হইলে সমাজ ও রাষ্ট্রে যথাশীঘ্র নিয়ম-শৃঙ্খলা এবং শান্তি ও সহনশীলতা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। উল্লেখ্য, ২০০৯ সাল হইতে বাংলাদেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ শতাংশের অধিক। মাথাপিছু আয়ের দিক হইতে বাংলাদেশ ২০২১ সালে ভারতকে ছাড়াইয়া যায়: কিন্তু সাম্প্রতিক অস্থিরতা বিশেষ করিয়া গার্মেন্টসসহ অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পের ভিতকে কিছুটা হইলেও নাড়াইয়া দিয়াছে। সহিংসতার মুখে গার্মেন্টস কারখানাগুলো বন্ধ রাখিবার কারণে প্রতিনিয়ত বাড়িতেছে লোকসান। এমনকি বিদেশ হইতে ওয়ার্কঅর্ডার বাতিল হইয়া যাইতেছে। কারণ অনেকে বন্দর হইতে কাঁচামাল খালাস করিতে পারিতেছেন না। কারখানায় পড়িয়া গিয়াছে পণ্যের স্তূপ। বিদেশি ক্রেতারা তাহাদের রপ্তানি আদেশের প্রায় ৩০ শতাংশ অংশ হিসাবে অন্যত্র সরাইয়া নিতেছেন বলিয়া জানা যায়। অথচ বাংলাদেশে ৫৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের মধ্যে ৮৫ শতাংশই আসে এই খাতের প্রায় সাড়ে তিন হাজার কারখানা হইতে। লিভাইস, জারা এবং এইচঅ্যান্ডএমসহ বহু শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড বাংলাদেশ হইতে পোশাক আমদানি করে। পোশাক রপ্তানিতে চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান: কিন্তু সহিংস পরিস্থিতির কারণে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক প্রস্তুতকারক হুলা গ্লোবাল তাহাদের কিছু নতুন অর্ডার বন্ধ করিয়া দিয়াছে। এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক নিঃসন্দেহে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দেশের মানুষের জীবনজীবিকা ও অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলিতেছে, তাহা কাটাইয়া উঠিতে সর্বাত্মক উদ্যোগ লইতে হইবে।

এখনই যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হইলে সাপ্লাইচেইন ব্যাহত হইয়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও জনদুর্ভোগ আরো বাড়িবে। এই জন্য অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসাবে বিবেচিত সামগ্রিকভাবে বেসরকারি খাতকে অতি দ্রুত ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করিতে হইবে। শিল্পোদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদগণ বলিতেছেন, সহিংসতায় সকল কিছু বন্ধ থাকিবার সময় দেশের অর্থনীতিতে দৈনিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১ বিলিয়ন ডলার। সহিংসতাকে কেন্দ্র করিয়া কারফিউ ও ইন্টারনেট শাটডাউনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছেন এসএমই তথা ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের উদ্যোক্তারাও। ইহাতে বিশ্বে বাংলাদেশ একধরনের ইমেজ-সংকটেও পড়িয়াছে।

অতএব, আমরা আশা করি, নূতন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়াসহ শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করিতে শিল্পপুলিশসহ সংশ্লিষ্ট থানা ও স্থানীয়
প্রশাসনকে তৎপর হইবে। সার্বিকভাবে এই সকল এলাকায় ফিরাইয়া আনিতে হইবে কাজের সুন্দর পরিবেশ। ইহা ছাড়া শিল্পকলকারখানাগুলির উন্নয়নে বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরকেও ঘুরিয়া দাঁড়াইবার ব্যবস্থা করিতে হইবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন