আজ থেকে পঁচাত্তর বছর আগে সদ্য ক্ষমতা হারানো দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ আত্মপ্রকাশ করেছিল। একজন মহীয়সী নারী গোটা জীবন জনসমক্ষের আড়ালে থেকে দলটির নানা সঙ্কটে উদ্ধারকর্ত্রীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। জীবদ্দশায় দল, পরিবার আর দেশের সঙ্কটে নীরবে অনুঘটকের ভূমিকা পালনে করে গেছেন।
সেই মহিয়সী নারী আড়াল ভেঙে খ্যাতির পাদপ্রদীপে আসতে চান নাই। তার সম্পর্কে বিগত সরকারের সময় কলম ধরার চেষ্টা করেছেন অনেকে পদ্যে এবং গদ্যে। তাদের বেশিরভাগের ধান্দা ছিল ক্ষমতার কেন্দ্রের মানুষদের তুষ্টিলাভের কাঙালপনা। এই শ্রেণীর মানুষগুলোর কলমে মহীয়সী এই নারীর মহাত্ম উঠে না এলেও, যাদের লেখায় ও স্মৃতিচারণে বিরল এই মানুষটি সম্পর্কে জানা যায় তারা হচ্ছেন পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়া, বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠকন্যা শেখ হাসিনা, সাংবাদিক আমিনুল হক বাদশা, এবিএম মূসা, ফয়েজ আহমেদ, আব্দুল গাফফার চৌধুরী, বেবী মওদুদ , শিক্ষাবিদ নীলিমা ইব্রাহিম, জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, কবি সুফিয়া কামাল এবং রাজনীতিবিদ সৈয়দ আবুল হোসেন প্রমুখ।
মহীয়সী এই মানুষটির নাম ফজিলাতুন নেছা। যিনি আমাদের সকলের বঙ্গমাতা। আজ তার জন্মদিন। তিনি এই দিনে ১৯৩০ সালে টুঙ্গিপাড়ায় জন্মেছিলেন। এই মানুষটির নিরন্তর সংগ্রামের কথা সব থেকে বেশি জানা যায় তার স্বামী বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মেয়ের জামাতা এমএ ওয়াজেদ মিয়া, শেখ হাসিনা এবং নীলিমা ইব্রাহিমের লেখাজোকা থেকে। এই চারজনই বঙ্গমাতার কাছের মানুষ ছিলেন। এর মধ্যে নীলিমা ইব্রাহিম ছাড়া বাকি তিনজনই তার পরিবারের সদস্য।
নীলিমা ইব্রাহিম স্মৃতিচারণের আশ্রয় নিয়ে তার থেকে নয় বছরের কনিষ্ঠ বঙ্গমাতার অকাল শাহাদাৎবরণের পরে লিখেছিলেন। যেখানে তিনি বঙ্গমাতার ব্যক্তিত্ব, সিদ্ধান্তগ্রহণে দৃঢ়চেতা বুদ্ধিদীপ্ত দিকগুলোর নিখাদ চিত্র দরদ দিয়ে এঁকেছেন। নীলিমা ইব্রাহিমের সঙ্গে বঙ্গমাতার উল্লেখ করার মত সাক্ষাৎ ঘটে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পর। বঙ্গমাতাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য যেমন শেখ হাসিনা, নবজন্মা সজীব ওয়াজেদ জয়, শেখ রেহানা এবং শেখ রাসেল ধানমণ্ডির ১৮ নম্বর সড়কের বাড়ি থেকে দখলদার পাকিস্তানী সৈন্যদের হাত থেকে মুক্ত হয়ে ৩২ নম্বরের বাড়িতে ফিরে এসেছেন।
স্বাধীন দেশ, সময়টা উদ্বাস্তু জীবন থেকে সকলের ফেরার পালা। স্বাধীন বাংলাদেশের মুজিবনগর সরকার প্রবাস থেকে ফিরে এসেছে। বঙ্গবন্ধু তখনও পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি। গণমাধ্যমসহ নানা তরফের লোকজন ৩২ নম্বরের বাড়িতে ভিড় করছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব পর্যায়ের একেকজন এক এক রকম কথা বলছেন। বিষয়টি বিশৃঙ্খলার পর্যায়ে চলে যাচ্ছিল।
এমন অবস্থায় বঙ্গমাতা পুত্র শেখ রাসেলকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুলার রোডে নীলিমা ইব্রাহিমের বাসায় ছুটে গেলেন। কড়া নাড়তেই বাসার কাজের সহকারী মেয়েটি দরজা খুলে তো থ। তিনি দৌড়ে গিয়ে নীলিমা ইব্রাহিমের কাছে গিয়ে বলছেন, আম্মা, দেখুন কে এসেছেন। নীলিমা ইব্রাহিম তো আরো অবাক। শেখ সাহেবের স্ত্রী? বিষয়টি নীলিমা ইব্রাহিমও বিশ্বাস করতে পারছেন না। এরপর উনি তড়িঘড়ি করে বঙ্গমাতাকে সাদরে অভ্যর্থনা জানিয়ে ঘরে নিয়ে বসালেন।
এরপর বঙ্গমাতা আসার কারণটি নীলিমা ইব্রাহিমকে বুঝিয়ে বললেন। বঙ্গমাতা অনুরোধ করলেন নীলিমা ইব্রাহিমকে তার সঙ্গে ৩২ নম্বরে যেতে, তার পাশে থাকতে। সেই থেকে শেষদিন পর্যন্ত জীবনের প্রায় চার বছরের মত সময় অনেক ঘটনার সাক্ষী এবং সহযোদ্ধা হবার সৌভাগ্য লাভ করেছেন 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' বইয়ের লেখিকা খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলার এই শিক্ষিকা। এখানে উল্লেখ্য প্রচারণার আড়ালে থেকে বঙ্গমাতা স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীরঙ্গনা নারীদের পুনর্বাসন কার্যক্রমে মনোনিবেশ করেন ।
দেশে বড় একটি পরিবর্তন ঘটে গেছে। ঘটনাবহুল সময়ের নির্মোহ সত্য সামনে আসবে কালে কালে। এই ঘটনার অনুকূল এবং প্রতিকূল উভয় তরফের বাঙালির বঙ্গমাতার জীবন থেকে শিক্ষা লাভ করার কারণ রয়েছে। বঙ্গমাতা এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি কথায় বড় না হয়ে কাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
বঙ্গমাতার অবদান এবং ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীমুলক লেখালেখি থেকে আমরা কিছুটা জানতে পারি। বঙ্গবন্ধু জীবনের দীর্ঘ বছর কারাবন্দী থাকার সময় সগ্রাম মুখর দিনগুলোতে শেখ হাসিনা ছিলেন বঙ্গমাতার সঙ্গী। এমন সময় গেছে দখলদারি পাকিস্তান সরকারের গোয়েন্দাদের ভয়ে কেউ ৩২ নম্বরের দিকে যাবার সাহস করে নাই । বঙ্গবন্ধু জেলে; কৈশোর পেরোনো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ হাসিনা সবে বিশ বছরে পদার্পণ করেছেন। এমন সময়ে তরুণ বিজ্ঞানী পাকিস্তান পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তা ডক্টরেট সম্পন্ন করে ফিরেছেন; পশ্চিম করাচি থেকে বদলি হয়ে ঢাকায় পদায়ন লাভ করেছেন।
এমন সময়ে ওয়াজেদ মিয়ার এক আত্মীয়ের প্রস্তাবে শেখ হাসিনার সঙ্গে তার বিয়ের আলাপ এগোতে থাকে। বঙ্গমাতা ছুটে গেলেন জেলখানার গেটে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পরামর্শ করতে। সবকিছু শুনে বঙ্গবন্ধু আশীর্বাদ জানিয়ে বললেন ওই দিনই বিয়ের বন্দোবস্ত পাকাপাকি করে ফেলতে। এখানে উল্লেখ্য যে ওয়াজেদ মিয়া ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফজলুল হক হল ছাত্রসংসদের নির্বাচিত সহসভাপতি ছিলেন। ওয়াজেদ মিয়া সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর পূর্বধারণা ছিল।
পরিচিতি পর্ব শেষে বিয়ের ব্যাপারে সকল পক্ষের সম্মতির পর ওয়াজেদ মিয়া ভেবে রেখেছিলেন রংপুরের পীরগঞ্জে গিয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করে এসে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করবেন। ওয়াজেদ মিয়ার বাবা আগেই পরলোকগত হয়েছেন। বঙ্গমাতার কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুর ইচ্ছার কথা জানার পর, ওয়াজেদ মিয়া ওইদিনই বিয়ের সবকিছু পাকাপাকির পক্ষে সায় দিলেন। মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে বঙ্গমাতার প্রস্তুতি ছিল আগে থেকেই। ওয়াজেদ মিয়ার আত্মীয় স্থানীয় মতিউর রহমান নামের বয়োজ্যেষ্ঠ এক ভাই এবং তার সহধর্মিণী আংটিসহ বিয়ের কিছু কেনাকাটা করে রেখেছিলেন।
উল্লেখ্য, ওয়াজেদ মিয়া ধানমণ্ডিতে ঢাকা কলেজের কাছাকাছি এলাকায় দুই কক্ষের বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। বিয়ের পর ওয়াজেদ মিয়াকে নিজের ছেলে করে নিয়েছিলেন বঙ্গমাতা। নববিবাহিত মেয়ের জামাইকে বলেছিলেন, বাবা তুমি যদি আমাদের সঙ্গে এসে থাকো তাহলে ভাল হয়; তোমার শ্বশুর তো জেলে, বাসায় ছোট সন্তানগুলো আর হাসিনাকে নিয়ে আমি একাই সব সামাল দেই। কোনো আত্মীয়স্বজন পুলিশের ভয়ে আমাদের বাসায় আসতে পারে না। ওয়াজেদ মিয়া বঙ্গমাতার কথা রেখেছিলেন। সেই থেকে শেষ দিন পর্যন্ত বঙ্গমাতা আর ওয়াজেদ মিয়ার সম্পর্ক ছিল অনেকটা মা আর ছেলের।
বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে বঙ্গমাতা সংসার সামলেছেন, দল পুনর্গঠনে গ্যারিলা ভূমিকা রেখেছেন। নিজের বাড়িতে রুমে রুমে সারি সারি চৌকি আর বিছানাপত্রের ব্যবস্থা করে রাখতেন। গ্রাম গ্রামান্তর থেকে আসা ঢাকায় ঠিকানা ও আশ্রয়হীন সাক্ষাৎপ্রার্থী কর্মী সমর্থকদের জন্যে থাকা খাওয়ার বন্দোবস্ত করেছেন। এরকম চিত্র জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের একটি লেখা থেকে আমরা পাই। বঙ্গমাতার এরকম পদক্ষেপের সঙ্গে এই সময়ের নেতাদের পারিবারিক চিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে বুঝে নিতে পারবেন বঙ্গমাতার দেখানো পথের কতটা কাছে বা দূরে তারা রয়ে গেছেন।
ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটি করেছেন ধাপে ধাপে বছরের পর বছর ধরে। ২০২৪ সালে এসে বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ বাড়িটি দেশের পরিবর্তনের ডামাঢোলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। যে কাজটি ১৯৭১ এবং ১৯৭৫ সালেও এরকম ঘৃণ্য কাজটি করে নাই কেউ। আইয়ুব এর সামরিক শাসনের সময় রাজনীতি নিষিদ্ধও থাকার এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু বীমা কোম্পানিতে চাকরি নিয়েছিলেন। ওই সময়টায় টাকা জমিয়ে বাড়ির কাজ এগিয়ে নিতে সহজ হয়েছিল বঙ্গমাতার জন্যে। সংসার এবং প্রায় চব্বিশ ঘণ্টার হোটেল চলা রাজনৈতিক পারিবারটির ধকল সামলেছেন টুঙ্গিপাড়া থেকে ধান চাল শস্য এনে।
নানা সময়ে থাকা খাওয়ার বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েছেন। বাসা ভাড়া পেতে কঠিন হয়েছে। অনেক সময় পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর ভয়ে বাড়িওয়ালারা একদিনের নোটিসে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন, এমন ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু কখনোই হাল ছাড়েননি। কোনো বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি অভিযোগ করেননি। বঙ্গবন্ধুকে চাপ মুক্ত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় তার কথা ও কাজে সবসময় পরিলক্ষিত হয়েছে।
কঠিন মুহূর্তের ঠিক সিদ্ধান্তটি নেবার ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুকে বঙ্গমাতাই শেষ ইঙ্গিতটি দিতেন। তার আগ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু নিজেও স্বস্তি পেতেন না। একবার আইয়ুব খান ফজলুল কাদের চৌধুরীকে দায়িত্ব দিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে একটা অপসরফা করতে। তিনি বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে আসেন, আপ্যায়িত হন, বঙ্গবন্ধুকে অনেক প্রস্তাব দেন। বঙ্গবন্ধু মনোযোগ দিয়ে শোনেন। বঙ্গবন্ধু খুব মোলায়েম সুরে রহস্য করে বলেছেন, দেখি হাসুর মায়ের সঙ্গে কথা কইয়া দেখি, কি বলে। ফজলুল কাদের চৌধুরী তো মনে করছেন কাজ হয়ে গেছে। তিনি পশ্চিমের দরবারে খবর পাঠিয়েছেন, কাজ হয়ে গেছে, শেখ মুজিব টোপ গিলেছে।
এরপরে একদিন ফজলুল কাদের চৌধুরী সরাসরি বঙ্গমাতাকে জিজ্ঞেস করেছেন। বঙ্গমাতা সাফ সাফ বলেছেন, ভাই উনাকে জেলে নিতে পারেন, আমাকেও নিতে পারেন, আরো অনেক ক্ষমতা আপনাদের আছে। তবে কোনোভাবেই আমাদের মাথা কিনতে পারবেন না।
আরেকবার কয়েকজন সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগ এর প্রথম সারির কতিপয় নেতার পীড়াপীড়ি চলছিল প্যারোলে মুক্তি নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে আইয়ুব খানের গোলটেবিলে বৈঠকে যোগ দেবার জন্যে। আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল বঙ্গবন্ধু প্যারোলে মুক্তি নিয়ে ইসলামাবাদ যাবেন।
এই অবস্থায় বঙ্গমাতা ওয়াজেদ মিয়াকে সঙ্গে দিয়ে শেখ হাসিনার মাধ্যম সেনানিবাসে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার শুনানি চলার সময় চিরকুট লিখে পাঠালেন বঙ্গবন্ধুর কাছে। চিরকুটের কথাগুলো ছিল মোটামুটি এরকম, প্যারোলে মুক্তি নিয়ে যদি পশ্চিম পাকিস্তানে যেতে চান, তাহলে ৩২ নম্বরে আসার দরকার নাই, আমি বঁটি নিয়ে বসে আছি। এরপরের ইতিহাসের কি ঘটল তা আমরা জানি। আইয়ুব খানের বিদায় হলো। বঙ্গবন্ধুর মুক্তি হল। ১৯৭০-এর নির্বাচন এলো।
আরেকবার ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর অস্থির ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষণা দেবার না দেবার দেবার বিষয়ে। নানা দিক থেকে বিভিন্ন জনের ভিন্ন ভিন্ন পরামর্শ ছিল। শেষ মুহূর্তে বঙ্গমাতা তাকে সাহস দিয়ে বলেছিলেন, কে কি বলল, কে কি ভাবল এটা নিয়ে বিচলিত হবার দরকার নাই। আপনি দেশের মানুষকে জানেন এবং বোঝেন। তারা কি চায় সেটাও আপনি বোঝেন। আপনার মনে যা আসে, আপনার মনের কথাগুলোই বলে আসবেন। তিনি ঠিকই তাই করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর মনের কথা হয়ে গেছে জগতের বিস্ময়, ইউনেস্কোর বিবেচনায় জগৎ সেরা ভাষণ।
যতদূর জানতে পারি, তিনি জীবনে একবার বঙ্গবন্ধুর সফরসঙ্গী হয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর স্বাস্থ্যের অবনতি হলে চিকিৎসার জন্যে দিন কয়েক বিলেতে এবং সপ্তাহ দুয়েক জেনেভায় ছিলেন। জেনেভায় থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলে একদল অতি উৎসাহী নেতা ভিড় করেছিল তার জন্মদিন পালন করার জন্যে। এই উদ্যোগের পেছনে যে চামচামিই সার ছিল, তা বঙ্গমাতা উপলদ্ধি করতে পেরেছিলেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধুকে বুঝিয়ে তিনি জন্মদিন উদযাপনের এই উদ্যোগ বাতিল করিয়েছিলেন।
বঙ্গমাতাকে কখনো জনসমক্ষে আসতে চাননি। জীবনে একবার মঞ্চে উঠেছিলেন। তাও রাজি হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর অনেক আবদারের পর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইন্দিরা গান্ধীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে।
জীবনের শেষ দিনের ঘটনাটি কেমন ছিল তার? ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গমাতা যখন বুঝতে পারলেন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে, তখন তিনি খুনিদের বলেন উনাকে যেহেতু মেরে ফেলেছ, আমাকেও মেরে ফেল।
সংগ্রামমুখর প্রতিকূলতার বহর পাড়ি দেওয়া বঙ্গমাতার জীবন থেকে যা শেখার ছিল তা কি তার বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির অনুসারীরা? দেশের টালমাটাল এই সময়ের অনুকূল এবং প্রতিকূলের দুই পক্ষেরই উপলব্ধি করার দরকার কি নাই?
