রাষ্ট্র সংস্কারে ১১টি টাস্কফোর্স গঠনের পরামর্শ

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সংলাপ

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৪, ০৫:০০

রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য ১১টি টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে ‘সংস্কার রূপরেখা বা ফ্রেমওয়ার্ক’ তৈরি করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ‘রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন’। গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব এবং অভ্যুত্থানের স্পিরিট রক্ষায় করণীয়’ প্রসঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রস্তাব শীর্ষক ‘সংস্কার সংলাপ’-এর দ্বিতীয় পর্বে বক্তারা এই আহ্বান জানান। এর আগে গত ১২ আগস্ট একই শিরোনামে প্রথম সংলাপ করে দলটি।

দলের অর্থনৈতিক সমন্বয়ক দিদারুল ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় এবং প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূমের সভাপতিত্বে সংলাপে আলোচনা করেন, গবেষক আলতাফ পারভেজ, কবি শহীদুল্লাহ ফরায়েজি, লেখক ও অর্থনীতিবিদ জিয়া হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রুশাদ ফরীদি, ছাত্রনেতা আহমেদ ইসহাক, মাজহারুল ইসলাম, ইউল্যাবের শিক্ষার্থী আসিফ মাহামুদ, কারিকুলাম আন্দোলনের সংগঠক মুসলিম বিন হাই, সংবাদকর্মী সৈয়দ শিমুল পারভেজ, সাংবাদিক আরিফুর রহমান তুহিন, নারীনেত্রী জাকিয়া শিশির, অ্যাড. হাসিবুর রহমান হাসিবুল প্রমুখ।

সংলাপে দলের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যার মাধ্যমে এদেশের জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল আওয়ামী লীগ। এই যুদ্ধ মোকাবিলা করে বিজয় অর্জন করতে গিয়ে বাংলাদেশের জনগণ ক্রমেই ঐক্যবদ্ধ হতে হতে জাতীয় ঐক্যের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে। বাংলাদেশ এই প্রথম একটি সরকার পেয়েছে, যে সরকার ছাত্রদের নেতৃত্বে জনতার অভ্যুত্থানের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং যে সরকারে আন্দোলনকারী নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ রয়েছে। এখন সকল পক্ষের উচিত এই বিজয় ও ঐক্যকে সত্যিকারের জাতীয় ঐক্যে রূপান্তর করে অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।

লিখিত বক্তব্যে দলের সাংগঠনিক সমন্বয়ক ইমরান ইমন বলেন, শুধুমাত্র ফ্যাসিস্ট মাফিয়া শাসকদের সরানোর জন্য এত মানুষ জীবন দেয়নি। তারা জীবন দিয়েছে এমন একটি ব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে, যাতে রাষ্ট্রক্ষমতাকে ব্যবহার করে আর কোনো শাসক এমন ফ্যাসিস্ট ও মাফিয়া জুলুমবাজ হয়ে উঠতে না পারে।

রাষ্ট্রের সংস্কারের জনআকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের জন্য ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে আইন বিভাগ বা সংসদ বিভাগ; আমলাতন্ত্র বা প্রশাসন; পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনী; নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ; নির্বাচন ব্যবস্থা; রাষ্ট্র পরিচালনার আইন-কানুন; স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা; অর্থনৈতিক ব্যবস্থা; মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা এবং সংবিধানের ক্ষমতা কাঠামোসহ অন্তত ১১টি বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত সংগ্রহের জন্য ‘টাস্কফোর্স গঠন’ এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ‘গণ-আলোচনা’র উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয় লিখিত বক্তব্যে।

লেখক ও কবি শহীদুল্লাহ ফরায়েজি বলেন, সংবিধান সংস্কার করতেই হবে। পাশাপাশি সমাজকে পালটানোর জন্য আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

ইত্তেফাক/এমএএম