প্রেম ও বিয়ের ফাঁদে ফেলেও সংগঠনে সদস্য ভেড়াতে জঙ্গিরা তত্পর বলে জানিয়েছে র্যাব। বরিশাল শহরের একটি মাদ্রাসা থেকে সোমবার রাতে এক নারী এবং ঢাকার ডেমরা এলাকা থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে এক পুরুষকে গ্রেফতারের পর এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গ্রেফতার জান্নাতুল নাঈমা ও মোহাম্মদ আফজাল হোসেন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য বলে জানায় র্যাব।
বরিশালের মাদ্রাসা থেকে নাঈমার সঙ্গী এক তরুণীকেও উদ্ধার করা হয়েছে। নাঈমা ঐ তরুণীর সঙ্গে আফজালের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে দিয়ে তাকে সংগঠনে ভেড়ান বলে দাবি র্যাবের। উদ্ধার হওয়া তরুণী চট্টগ্রামের একটি কলেজে বিবিএ পড়তেন। নিখোঁজ হওয়ার পর বরিশাল থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। গতকাল বিকালে ঢাকার কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে করে জঙ্গিদের প্রেমের ফাঁদের তথ্য তুলে ধরেন বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম।
কামরুল বলেন, চট্টগ্রামের ঐ তরুণীর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় নাঈমার। নাঈমার ফেসবুক গ্রুপে থাকা সাইফ নামে একজনের সঙ্গেও পরিচয় হয় ঐ তরুণীর। তখন নাঈমা ও ঐ গ্রুপের অন্য সদস্যরা সাইফের সঙ্গে ঐ তরুণীর সম্পর্ক তৈরি করে দেন। পরে ঐ তরুণী সাইফকে বিয়ে করার জন্য ২৬ জুন চট্টগ্রাম থেকে বরিশালে যান। তখন সাইফ ঐ তরুণীকে একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। ঐ সময়ে তাকে জঙ্গিবাদে প্রলুব্ধ করা হয় বলে ঐ তরুণী র্যাবকে জানিয়েছেন।
র্যাবের কর্মকর্তা বলেন, সাইফও জঙ্গি সংগঠনটির সদস্য। নাঈমা চট্টগ্রামের একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। ২০১৬ সাল থেকে তিনি ফেসবুক একটি গ্রুপ খুলে বিভিন্ন নারীকে আনসার আল ইসলামে যুক্ত করতে তত্পর। গ্রেফতার আফজাল আনসার আল ইসলামের ঢাকার একটি এলাকার সংগঠক। র্যাব কর্মকর্তারা বলেন, আফজাল সংগঠনে নারী সদস্যদের দলে অন্তর্ভুক্তিসহ তাদের মাধ্যমে নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল। নাঈমার ফেসবুক গ্রুপের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছে র্যাব।
