তজুমদ্দিনে বেড়িবাঁধ ভাঙনে আতঙ্কিত উপজেলাবাসী 

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৪, ১৮:৩৪

উজানের পানির চাপ ও প্রবল বৃষ্টিতে ভোলার তজুমদ্দিনে উপজেলার ৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের বিশাল একটি অংশ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এতে আতঙ্কে দিন কাটছে উপজেলার দেড় লক্ষ মানুষের। পানি বৃদ্ধির কারণে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের দড়িচাঁদপুর, কেয়ামূল্যাহ, কাঞ্চনপুর, গুরিন্দা, চাঁচড়া ও কাটাখালী এলাকায় বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙন ধরেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও শহর রক্ষা বাঁধের জন্য নিয়োগ করা ঠিকাদারের গাফিলতিতে যে কোনো মুহূর্তে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ডুকে পড়বে পানি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্লাবিত হতে পারে পুরো উপজেলা। 

সরেজমিনে ভাঙন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মেঘনা নদীর জোয়ার-ভাটায় পানির চাপ ও নিম্নচাপের প্রভাবে ঢেউ এসে আঘাত করে বেড়িবাঁধে। ফলে অধিকাংশ এলাকায় বেড়িবাঁধের দুই-তৃতীয়াংশ ভেঙে পানি ঢোকার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
 
ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-২ সূত্র জানায়, তজুমদ্দিনে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ কিলোমিটার শহররক্ষা বাঁধ এবং তীর সংরক্ষণে ব্লক ও জিও ব্যাগ নির্মাণ করা হয়। এরপর ২০২২ থেকে ২৬ অর্থবছরে তজুমদ্দিনের সোনাপুর অংশে দুই কিলোমিটার ও চাঁদপুর-চাঁচড়া অংশের ৬ কিলোমিটারসহ বেতুয়া পর্যন্ত মোট ২৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ, জিও ব্যাগ, ব্লক, ড্যাম্পিং, সুইজগেট ও রাস্তা পাকাকরণের প্রকল্পে প্রায় ১১ শত কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে কাজ শুরু হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে কাজে ধীরগতি দেখা দেয়। ফলে পানির চাপে পূর্বের বেড়িবাঁধের বেশ কিছু অংশে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া কাজের ধীরগতির কারণে ইতিমধ্যে বহু পরিবারের বাড়ি-ঘর ভেঙে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, ঠিকাদারের লোকজন মেঘনা নদী থেকে বালু তুলছে। যে কারণে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেশি। এ ছাড়া বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশে টিউব জিও ব্যাগে যে বালি দেওয়া হয়েছে তা সামনের নদী থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। তারা আরও জানান, স্থানীয় বালি হওয়ায় জোয়ারের পানির চাপে টিউব ব্যাগ থেকে বালি বের হয়ে যাচ্ছে।
 
চাঁদপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য বশিরউল্যাহ হাওলাদার বলেন, বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দ্রুত মেরামত না করলে যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

প্রকল্পের ৫ নম্বর সাইড বি.জে জিও টেক্সটাইলের সাইড ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল আহাম্মেদ বলেন, বর্ষা মৌসুমের কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। শ্রমিক ও বালি সংকট রয়েছে। তারপরও টিউব জিও ব্যাগের মাধ্যমে বাঁধ সংরক্ষণের চেষ্টা চলছে। 

ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, বেড়িবাঁধের যে অংশে ভাঙন হয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/পিও