ঈশ্বরদীর পিয়ারাখালি জামতলা এলাকার মুরাদ হোসেন (৪০) পারিবারের অভাব দুর করতে রাজধানীতে পাড়ি জমান। সেখানে একটি চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে কাজ করতেন। স্বপ্ন ছিল ঢাকায় কাজ শিখে ঈশ্বরদীতে ফিরে নিজ এলাকায় একটি রেষ্টুরেন্ট খুলে ব্যবসা করবেন। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে তার জীবনই এখন সংকটাপন্ন। সব স্বপ্ন ভেঙে খান খান হয়ে গেছে মুরাদের।
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মুরাদ। সেরে উঠলেও আর কোনোদিন স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ অবস্থায় মুরাদের পরিবারের লোকজন চোখে অন্ধকার দেখছেন।
জানা যায়, কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে গত ১৮ জুলাই রাতে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন মুরাদ। এরপর থেকেই তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। বাবা-মা এবং স্ত্রী মহুয়া মার্জিয়া রানী (৩৬), মেয়ে আয়েশা ইসলাম (১৯) ও ছেলে মেহরাব ইসলামকে (১২) নিয়ে সুখের সংসার ছিল তার। মেয়েটি রাজধানীর মিরপুর আইডিয়াল গার্লস কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে এবং ছেলে গুলশানের একটি মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত।
মুরাদের স্ত্রী মহুয়া বলেন, 'আমরা কিভাবে বেঁচে থাকব তার কোনো উপায় দেখছি না।'
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গলা ও স্পাইনালকডে গুলিবিদ্ধ হয়ে মুরাদ এখনও অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের আইসিউ থেকে সম্প্রতি তাকে পোষ্ট অপারেটিভ-২ এর ১৮ নম্বর বেডে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই নিবিড় চিকিৎসা চলছে, তবে মুরাদের শরীর থেকে দুটি গুলি বের করার পর তার শরীর প্যারালাইজড হয়ে গেছে।
নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক রেজাউল করিম জানান, গুলিবিদ্ধ মুরাদের শরীর থেকে দুটি গুলি বের করা হয়েছে, তার স্পাইনালকড অকেজো হয়ে শরীর প্যারালাইজড হয়ে গেছে, সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে তার ফেরার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
মুরাদের বাবা আমিনুল ইসলাম বলেন, গত ১৮ জুলাই রাতে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন তার ছেলে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। রেস্টুরেন্টে চাকরি করে যা আয় হতো, তা দিয়ে মুরাদের সংসারটা চলত কোনোমতে। জমানো কোনো টাকা ছিল না। এই এক মাসে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুদের সহায়তায় চিকিৎসা চলেছে। ইতোমধ্যে প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখনও প্রতিদিন ২ থেকে ৩ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ছেলেমেয়ে দুটির পড়ালেখাও বন্ধ। মুরাদের বাবা তার সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে অন্তর্বর্তী সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন।
