মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সিনিয়র শিক্ষক
দুলালপুর এস.এম.এন্ড কে উচ্চ বিদ্যালয়, কুমিল্লা
বিজ্ঞান
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, আজকে সপ্তম অধ্যায় অর্থাত্ ‘পৃথিবী ও মহাকাশ’ থেকে সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্ন তুলে ধরা হলো।
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
আফরিন একটি বলকে উপরের দিকে ছুঁড়ে মারলে তা বার বার ভৃপৃষ্ঠে ফিরে আসে। সে একবার ২ কেজি ভরের একটি বলকে ৫ মি/সে বেগে ছুঁড়লে দেখা গেল এটি ৬ সেকেন্ড পর আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে এলো।
ক. অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কোন অঞ্চলে সবচেয়ে কম?
খ. অভিকর্ষজ ত্বরণ ও মহাকর্ষ ধ্রুবকের মধ্যে পার্থক্য লেখ।
গ. বলটির ওজন নির্ণয় করো।
ঘ. বলটি বারবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে কেন? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ক. অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সবচেয়ে কম হয় বিষুবীয় অঞ্চলে।
খ. নিচে অভিকর্ষজ ত্বরণ ও মহাকর্ষ ধ্রুবকের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করা হলো-
অভিকর্ষজ ত্বরণ
মহাকর্ষ ধ্রুবক
১.অভিকর্ষজ বলের প্রভাবে ভূপৃষ্ঠে মুক্তভাবে পড়ন্ত কোনো বস‘র বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে। এর গড় মান ৯.৮ মিটার/সেকেন্ড২
২. স্থানভেদে এর মান পরিবর্তিত হয়।
৩. এর একক মিটার/ সেকেন্ড ২
১. এক কিলোগ্রাম ভরের দুটি বস্তু এক মিটার দূরত্বে স্থাপন করলে এরা পরস্পরকে যে বল দ্বারা আকর্ষণ করে তাকে মহাকর্ষ ধ্রুবক বলে। একে এ দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
২. স্থানভেদে এর মান পরিবর্তিত হয় না।
৩. এর একক মিটার২/ কিলোগ্রাম ২
গ. উদ্দীপক হতে পাই, বলটির ভর, m = ২ কেজি
অভিকর্ষজ ত্বরণ, g= ৯.৮ মি/সে২
ধরি, বলটির ওজন W= ?
আমরা জানি, W= mg
= ২x ৯.৮ = ১৯.৬ নিউটন।
বলটির ওজন ১৯.৬ নিউটন।
ঘ. আমরা জানি যে, কোনো বস্তুকে পৃথিবী যে বল দ্বারা তার কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে তাকে বস্তুও ওজন বলে। এই ওজন হলো অভিকর্ষজ বলের একটি ফল। ভূপৃষ্ঠের উপরস্ত কিংবা তার নিকটবর্তী সকল বস্তুর ওপর এই বল কাজ করে। উদ্দীপকে আফরিন বলটিকে বারবার উপরের দিকে ছুঁড়ে মারলে তা বার বার ভূপৃষ্ঠে ফিরে এসেছিল, তা অভিকর্ষজ বলেরই একটি ফল। তাই এই বলটিকে যখন ওপরের দিকে ছুঁড়ে মারা হয় তখন এর উপর ক্রিয়ারত অভিকর্ষ বল তথা ওজন পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে ক্রিয়া করে এবং এর ফলে বলটি বারবার নিচের দিকে ফিরে আসে।
