সারাদেশে ৫০ হাজার হেক্টরে তুলা চাষের কর্মসূচি
বিমল সাহা, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
চলতি মৌসুমে (২০১৯-২০২০) তুলা উন্নয়ন বোর্ড সারাদেশে ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে তুলা চাষের কর্মসূচি নিয়েছে। তুলার উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার বেল। দেশে প্রতিবছর তুলার চাহিদা বেড়ে চলেছে। বর্তমানে দেশে তুলার বার্ষিক চাহিদা ৮০ লাখ বেল। চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তুলার উত্পাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এবার হাইব্রিড বীজের অভাবে তুলা চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত বছর সমভূমি ও পাহাড়ি মিলিয়ে ৪৩ হাজার ৫০ হেক্টরে তুলার চাষ হয়েছিল। উত্পাদন হয়েছিল ১ লাখ ৭১ হাজার বেল, যা দিয়ে দেশের তুলার চহিদার মাত্র ২ ভাগ পূরণ হয়।
তুলা উন্নয়ন বোর্ডর সূত্রে জানা যায়, এ বছর সমভূমির তুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৩১ হাজার ৫০০ হেক্টরে। সমভূমির তুলা উত্পাদনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫০০ বেল। পাহাড়ি তুলা চাষের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে সাড়ে ১৮ হাজার হেক্টরে। আর উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে সাড়ে ১০ হাজার বেল।
এবার যশোর জোনে ৪ হাজার ৫০ হেক্টরে তুলা চাষ করে ১৯ হাজার ৫০০ বেল তুলা উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। ঝিনাইদহ জোনে ৫ হাজার ২৯০ হেক্টরে তুলা চাষের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তুলার উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ২৫ হাজার ৮০০ বেল। রাজশাহী জোনে ৩ হাজার ২২০ হেক্টরে তুলা চাষ করে ১৫ হাজার বেল তুলা উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। কুষ্টিয়া জোনে ৫ হাজার ২৯০ হেক্টরে তুলা চাষের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তুলার উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ২৫ হাজার ৮০০ বেল। বগুড়া জোনে ২ হাজার ৫৮৮ হেক্টরে তুলা চাষের মাধ্যমে সাড়ে ১১ হাজার বেল তুলা উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জোনে ৫ হাজার ২৯০ হেক্টরে তুলা চাষের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তুলার উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ২৫ হাজার ৮০০ বেল। রংপুর জোনে ২ হাজার ৯৯০ হেক্টরে তুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। তুলার উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ১৪ হাজার বেল। ঠাকুরগাঁও জোনে তুলা চাষের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৯৫৫ হেক্টরে। আর উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৮ হাজার ৩০০ বেল। ময়মনসিংহ জোনে তুলা চাষ করা হবে ২ হাজার ৪১৫ হেক্টরে। এ জোনে তুলার উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ১০ হাজার ৯০০ বেল। ঢাকা জোনে তুলা চাষ করা হবে ১ হাজার ৯৫৫ হেক্টরে। তুলার উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৮ হাজার ২০০ বেল। পার্বত্য জেলা বান্দরবানে সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর, রাঙ্গামাটিতে সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর ও খাগড়াছড়িতে সাড়ে ৫ হাজার হেক্টরে পাহাড়ি জাতের তুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। এ তিন পাহাড়ি জেলায় সাড়ে ১০ হাজার বেল তুলার উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে।
গত বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় তুলার ফলন ভালো হয়। দামও ভালো ছিল। এতে এবার চাষিদের তুলা চাষে আগ্রহ বেড়েছে। কিন্তু চাহিদামতো হাইব্রিড বীজ পাওয়া যায় না। কৃষকরা জানান, হাইব্রিড বীজে ফলন বেশি হয়ে থাকে। বিঘাপ্রতি ২০ মনের ওপর ফলন হয়। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক ড. ফরিদ উদ্দিন জানান, তুলা উন্নয়ন বোর্ড তুলার উত্পাদন বাড়ানোর জন্য নানা প্রকল্প নিচ্ছে। দক্ষিণের লবণাক্ত এলাকা ও উত্তরের খরাপ্রবণ বরেন্দ্র এলাকায় তুলা চাষের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। অন্য ফলন চাষে ক্ষতি না হয়, এমন পড়ে থাকা জমিতে তুলা চাষ করা হবে। তুলা চাষযোগ্য জমি সীমিত হয়ে পড়ছে। চাষি যে ফসলে লাভ বেশি সে ফসল চাষে ঝুঁকে থাকে বলে তিনি জানান।
