বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করতে বললেন ক্রীড়া উপদেষ্টা 

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৪:৪০

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অভাব দেখেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব। তিনি ক্রীড়া সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। খেলোয়াড়রা কী খেল, কীভাবে খেল, কোথায় গেল, কীভাবে হাঁটল-এসব নিউজের চেয়ে অন্য নিউজের কথা তুলে ধরে আসিফ বলেন, 'দর্শক হিসেবে আগে দেখেছি থাম্বনাইল ও শিরোনাম একরকম আর কন্টেন্ট অন্যরকম। অনেক প্রতিবেদন দেখেছি অনুমাননির্ভর। যা খেলার আগের রাতে খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ তৈরি করে। আপনাদের কাছ থেকে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আশা করি।' 

তিনি বলেন, 'শুধু খেলোয়াড় কী করলেন, আর কী খেলেন। কীভাবে হাঁটলেন-এর বাইরেও খেলার অনিয়ম-অসংগতি অনুসন্ধান প্রতিবেদনের মাধ্যমে তুলে আনবেন। আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।' 

গতকাল দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ টাওয়ারে ক্রীড়া সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত 'ক্রীড়াঙ্গনে সার্বিক উন্নয়নে মতবিনিময়' অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব। দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে শুনতে চেয়েছিলেন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের চিত্র। সময় স্বল্পতার মধ্যেও অনেকের কথা শুনেছেন তিনি। সাংবাদিকরা খেলার দিকে নজর দিয়েছেন। বিসিবির দুর্নীতির কথা তুলেছেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে বিসিবির কোনো জবাবদিহিতা নেই। পাত্তা না দেওয়ার অভ্যাস বিসিবির। ধনাঢ্য ফেডারেশন বলে কাউকে পাত্তা দেয় না বিসিবি। বিসিবির অডিট দেখে না ক্রীড়া পরিষদ। বাফুফের কথাও উঠেছে। 

মাঠ নেই, সুইমিংপুল থাকলেও পানি নেই, খেলা নেই। স্কুল ছুটির পর গেট বন্ধ থাকে। খেলার মাঠ অলস পড়ে থাকে। খেলাধুলার চেয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অবকাঠামো নির্মাণে ব্যস্ত থাকে। গ্রামে গ্রামে স্টেডিয়াম নির্মাণের চেয়ে মাঠ দরকার, নতুন প্রজন্ম যদি খেলার মাঠে থাকে তাহলে মানুষ হওয়ার সঠিক পথেই থাকবে। খেলাধুলা করলে শুধু খেলোয়াড়ই হবে না। হারজিত মেনে নেওয়ার মানসিকতা, নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি হওয়াসহ সবাই খেলার মাঠ থেকে শেখার অভ্যাস করা যায়। সবার আগে খেলার ব্যবস্থা করতে হবে। সাংবাদিকরা খেলার সংবাদ লিখবে। 

কিন্তু ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে বিভাগ, জেলা এবং উপজেলা ক্রীড়া সংস্থায় ক্রীড়া সাংবাদিক রাখতে হবে। পৃথিবীর কোথাও এই নিয়ম নেই। সাংবাদিকদের কাজ হচ্ছে খেলাধুলা এবং খেলার সংগঠন নিয়ে রিপোর্ট করা, অসংগতি তুলে ধরা। ভালো হলে ভালো, মন্দ হলে মন্দটা নিয়ে লিখবে। বিভিন্ন স্টেডিয়ামের দোকান ভাড়া, স্টেডিয়ামের পরিবেশ নিয়েও কথা হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টার আলোচনায় সাংবাদিকরা তাদের চিন্তা-চেতনা তুলে ধরেন। কার কী বক্তব্য সবই লিখে নিয়েছেন উপদেষ্টার দুই পাশে বসা ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মহিউদ্দিন আহমেদ এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব আমিনুল ইসলাম। 

সব শেষে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, 'সবকিছু শুনলাম। নতুন কিছু পেলাম। অনেক কিছুই আমার জানা ছিল। আমি এখন গাড়িতে আসলেও এক সময় স্টেডিয়ামে এসেছি দেখেছি পরিবেশ। আপনাদের গঠনমূলক মন্তব্য আমরা পর্যালোচনা করব। ক্রীড়াঙ্গনে আপনারা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছেন। আপনাদের পর্যবেক্ষণকে আমরা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করি। এজন্য সার্চ কমিটিতে দুই জন এবং জেলা পর্যায়েও ক্রীড়া সাংবাদিক প্রতিনিধি রেখেছি।'

ইত্তেফাক/জেডএইচ