নিজেই নিজের বেতন-ভাতা বাড়িয়ে আলোচিত চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (চমেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ইসমাইল খান পদত্যাগ করেছেন।
মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) আলাউদ্দিন স্বপন।তিনি বলেন, ‘উপাচার্য দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। চিকিৎসক পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাই গত সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মন্ত্রণালয়ের গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তার ওপর রাজনৈতিক কোনো চাপ ছিল না।’
২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি হিসেবে নিয়োগ পান ডা. ইসমাইল খান। গত বছর বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. ইসমাইল খানের নিয়োগ অনুযায়ী বেতন স্কেল তৃতীয় গ্রেডের। কিন্তু তার ব্যত্যয় ঘটিয়ে প্রথম গ্রেডের বেতন নেন তিনি। শুধু তা–ই নয়, নিজের বেতন বৃদ্ধির এই বিষয়টি সিন্ডিকেট থেকে পাস করিয়েও নিয়েছিলেন। এ ছাড়া নিজের চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজস্ব তহবিল থেকে ৩ লাখ টাকা নিয়েছেন উপাচার্য, যা সঠিক হয়নি বলে মত দিয়েছিল ইউজিসি।
চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে ইসমাইল খান প্রথম গ্রেডে মূল বেতন পান ৮৩ হাজার টাকা। আর ভাতাসহ তিনি পান মোট প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা। অথচ তাঁর তৃতীয় স্কেলে মূল বেতন হয় ৭৪ হাজার টাকা। এ অবস্থায় এলপিসি অনুযায়ী তাঁর বেতন নেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য সুপারিশ করে ইউজিসির পর্যবেক্ষণ দল।
ইউজিসির পর্যবেক্ষণে উঠে আসা চমেবির আর্থিক অনিয়মের আরেকটি হলো অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া ছয় কর্মচারীকে উচ্চতর স্কেলে বেতন দেওয়া। এতে প্রতি মাসে মূল বেতন ৫২ হাজার টাকাসহ প্রতিষ্ঠানটির প্রায় আড়াই লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউজিসি।
