সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতা ভাইরালের প্রভাব

আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৯, ২১:৪০

সোহাগ মনি

বাংলাদেশের বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে সহিংসতা হয়ে উঠেছে যেন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। পারস্পরিক দ্বন্দ্ব রূপ নিচ্ছে সংঘাতে, ব্যক্তিজীবনের ক্ষুদ্র কোনো ঘটনা সহিংসতায় রূপ নিয়ে প্রাণ যাচ্ছে অনেকের। আবার সহিংসতামূলক কর্মকাণ্ড খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইন সংবাদমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। জনমানুষের ভেতরকে খুব ভালোভাবেই আলোড়িত করে এসব সহিংসতা। গবেষণায় দেখা গেছে, সহিংস সংঘাত, মনন-মানসিকতার ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। অর্থাত্, এসব সহিংস ঘটনা যত বেশি আমাদের সামনে আসে, আমরা ততই এর প্রতি একধরনের আসক্তি কিংবা ভীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ি। সহিংসতা দেখা মানুষগুলো তাদের স্বাভাবিক কাজকর্মে এর উপস্থিতি অনুভব করে, অর্থাত্ সে মনে করতে থাকে যে গোটা সমাজ কিংবা দেশই সহিংসতার আওতায়, কোথাও কিছু বলা যাবে না, প্রতিবাদ করা যাবে না, এমনকি  রাতের অন্ধকারে পরিচিত রাস্তায় হাঁটাও সে বিপজ্জনক মনে করে। এতে সমাজজীবনের যে গতিশীলতা, তার প্রেক্ষাপট হয়ে যায় ভিন্ন, রূপ নিতে থাকে ব্যধিগ্রস্ত সমাজে।

এসব সহিংস সংঘাতের ভিডিও বার্তা সমাজের একশ্রেণির মানুষকে সাহস জোগায়, চিন্তায় আনে নেতিবাচক পরিবর্তন, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার সহজ উপায়ও পেয়ে যায়, ভেতরের ক্ষোভকে আবেগের নিঃসরণ করতে বাস্তব জীবনে সহিংসতা ঘটাতে একধরনের উত্তেজনা বিরাজ করে। মনে করতে থাকে, আমিও তো এমন করতে পারি, আর করলে কী এমন হবে! এই বোধ জন্মানোর ফলে সমাজে বেড়ে যায় আরো সহিংস সংঘাত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব সংঘাতের ভিডিও চিত্র ভাইরাল হলে আমরা ভালোই মনে করি তা দেখতে পেরে, কিন্তু সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে তা নেতিবাচক এবং সামাজিকতা-সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে তো ভয়ংকরই।

শিশুরা এসব সংঘাতের চিত্র দেখে বড় হতে থাকে, যা শিশুর সামাজিকীকরণে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। শিশুর মনে এসব ভয়ংকর সহিংসতা বিরাজ করে নেয়, সমাজ প্রেক্ষাপট সম্পর্কে শিশুরা ভাবতে শুরু করে, নিজেদের খেলায় সহপাঠীদের সঙ্গে আচরণ হয় সহিংস, পিতা-মাতার সঙ্গেও করতে থাকে বিরূপ আচরণ। সমাজের প্রতিটি জায়গাকে সহিংস মনে করতে থাকে শিশু এবং ভাবতে থাকে যে টিকে থাকতে হলে তাকে বিপজ্জনক হতে হবে, না হয় অন্য কারো সহিংসতার কবলে সে হবে ভুক্তভোগী! সমাজের আরো অন্যান্য প্রেক্ষাপটে সহিংসতা প্রচার নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এসব সহিংসতা যাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল না হয়, সে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখা সামাজিক স্বার্থে এখনই প্রয়োজন, না হয় আমাদের মনন আর মানসিকতায় তা বদ্ধমূল হয়ে আমাদেরই দুশ্চিতার কারণ হবে। সামাজিক প্রেক্ষাপট হবে সহিংসতার।

n লেখক :শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়