মা-ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা, শেষে গণপিটুনিতে নিহত

আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৯, ২২:৩৭

কুমিল্লার দেবিদ্বারে এক রিকশাচালক ধারালো ছেনি দিয়ে  প্রকাশ্যে কুপিয়ে মা-ছেলেসহ তিনজনকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়েছে দুই নারীসহ আরো পাঁচজন। পরে এলাকার মাইকে হামলার ঘোষণা দিলে লোকজন জড়ো হয়ে ঘাতক রিকশাচালক মোখলেছুর রহমানকে পিটিয়ে মারে। গতকাল বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে  উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের রাঁধানগর গ্রামে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ পুলিশ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি। মোখলেছুর রহমান (৩৫) রাঁধানগর গ্রামের মর্তুজ আলী ওরফে মুতু মিয়ার ছেলে।          জানা গেছে, গতকাল সকাল ১০টার দিকে রিকশা চালিয়ে চান্দিনার বাগুর থেকে একটি ব্যাগে করে ধারালো লম্বা ছেনি নিয়ে প্রথমে সে প্রতিবেশী নুরুল ইসলাম, তার স্ত্রী নাজমা বেগম ও মা মাজেদা বেগমকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। এতে ঘটনাস্থলেই নাজমার মৃত্যু হয়। পরে ঘাতক একই বাড়ির মৃত শাহ আলমের শিশু পুত্র আবু হানিফকে (১০)  এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় শিশু হানিফের মা আনোয়ারা বেগম আনু ছেলেকে বাঁচাতে দৌড়ে এলে মোখলেছ তাকেও কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর মোখলেছ রক্তমাখা উন্মুক্ত ধারালো ছেনি নিয়ে বাড়িতে ও রাস্তায় জাহানারা বেগমসহ আরো অন্তত দুইজনকে কুপিয়ে আহত করে। এ সময় অবস্থা বেগতিক দেখে স্থানীয় লোকজন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করে। পরে তারা একত্র হয়ে মোখলেছকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। স্থানীয়রা মারাত্মক আহত নুরুল ইসলাম, ফাহিমা, রাবেয়া বেগম, মাজেদা বেগম ও জাহানারা বেগমকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। পুলিশ মোখলেছের স্ত্রী রাবেয়া বেগম ও ভাবি মরিয়ম আক্তারকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। 

নিহতের স্ত্রী রাবেয়া বেগম সাংবাদিকদের জানান, ‘তার তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তার স্বামী মাদকাসক্ত কিংবা মানসিক সমস্যা ছিল না, মাঝে মধ্যে তার মাথা ব্যথা করত, সে নিয়মিত মাথা ব্যথার ট্যাবলেট খেত। প্রতিদিন রিকশা চালিয়ে বিকালে বাসায় ফিরলেও বুধবার সকাল ১০টার দিকে বাসায় ফিরে ধারালো ছেনি নিয়ে সামনে যাকে পেয়েছে তাকেই কুপিয়েছে। কিন্তু কি কারণে সে বাড়ির লোকজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে তা তিনি জানেন না বলে জানিয়েছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) সাখাওয়াত্ হোসেন, দেবিদ্বার সার্কেল মো. আমিরুল্লাহ ও ওসি মো. জহিরুল আনোয়ারসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। খবর পেয়ে এলাকার হাজার হাজার লোক ঘটনাস্থলে ভিড় করে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম জানান, মোখলেছ মাদকাসক্ত কিংবা মানসিক সমস্যা ছিল এমন তথ্য তার জানা নেই।  এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।