বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন গত ২৯ মে জার্মানি হকি কোচ গেরহার্ড পিটারকে নিয়ে ঢাকায় হকি ফেডারেশনে বসে ঘোষণা দেয়, পিটার টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর হিসেবে কাজ করবেন। তার সঙ্গে এক বছরের চুক্তি। ইউরোপে খেলোয়াড়দের নিয়ে যাবেন, খেলানোর ব্যবস্থা করবেন। ঢাকায় কাজ করবেন তিনি। এবার যখন অনূর্ধ্ব-২১ হকি দল নিয়ে জার্মানিতে যাওয়ার ব্যাপারে সব ঠিকঠাক, তখনই দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও যাত্রা বাতিল হয়। এখন শোনা যাচ্ছে পিটারের সঙ্গে হকি ফেডারেশনের কোনো চুক্তিই হয়নি।
পিটার হকি ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর না। পিটারের কাছে জানতে চাইলে তিনিও স্বীকার করেননি, ফেডারেশনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়েছে। কাগজপত্রে চুক্তির প্রশ্নে পিটার সরাসরি জবাব দেননি। পিটার বলেন, 'এ বিষয়ে বড় একটি সংবাদ সম্মেলন হয়েছে, যেটা লিখিত চুক্তির মতোই। আমার সঙ্গে এগ্রিমেন্টের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ না।'
জার্মানিতে প্রশিক্ষণ নিতে গেলে সুইজারল্যান্ড, পোল্যান্ড, ইতালিতে প্রীতি ম্যাচ খেলতে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু হকি ফেডারেশনের সভাপতির ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, 'সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল হক সাঈদ ব্যক্তিগতভাবে পিটারকে নিয়েছিলেন। সেটি ছিল পেপারলেস। তার (গেহার্ড পিটার) কোনো পদ নেই।'
দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গা ঢাকা দিয়েছেন সাঈদসহ তার সঙ্গে হকিতে থাকা অনেকেই। ফেডারেশন সভাপতির ঘনিষ্ঠ জন কারো নাম বলতে রাজি না। গড়গড় করে নানা কথা তুলে এনে বললেন, 'ইউরোপ সফরে কেন ইসমাইল হোসেন সম্রাট দলের ম্যানেজার হিসেবে যাবেন। সাঈদ ম্যানেজার মনোনীত করেছেন তার নিজের সিদ্ধান্তে। সভাপতির অনুমতি গ্রহণ করেননি। ক্যাসিনোকাণ্ডে যারা অভিযুক্ত, তারা কীভাবে হকি দলের সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার ব্যাপারে সরকারি অনুমোদন পান।'
সভাপতির ঘনিষ্ঠ জনের কাছে প্রশ্ন ছিল-ইউরোপে কেন দল যাবে না? তার উত্তরে তিনি বলেন, 'অনূর্ধ্ব-২১ দলের সঙ্গে কত জন নির্ধারিত বয়সের ছিল, আপনি কি বলতে পারেন? এই দলের সঙ্গে বয়স্ক খেলোয়াড়ও ছিলেন। সবাই একই বয়সের ছিলেন এটা ঠিক না।'
কথা যেটাই হোক, পিটার বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ইউরোপে খেলা এবং প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। মঙ্গলের জন্যই প্রিমিয়ার হকি লিগে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে হকি খেলোয়াড়দেরকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছিল মোহামেডানের অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমিকে। ১২ ম্যাচ বহিষ্কার করা হয়। মোহামেডানের ম্যানেজার আরিফুল হক প্রিন্সকে চার বছর নিষিদ্ধ করা হয়। একই দলের উপদেষ্টা কোচ মালয়েশিয়ার গোবিনাথনকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়।
এসব সিদ্ধান্তের বিষয়ে ফেডারেশন সভাপতির সূত্র জানিয়েছে, এভাবে ঢালাওভাবে শাস্তি হয় না। এখানে মালয়েশিয়ান কোচের দোষ কোথায়। খেলোয়াড়দের শাস্তি কমাতে বলেছিলেন সভাপতি। কিন্তু সাধারণ সম্পাদক এবং তার সঙ্গের লোকজন মিলে শাস্তির মেয়াদ নির্ধারণ করেন। কারো কথাই তারা শোনেননি। তবে আশার কথা হচ্ছে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শাস্তি প্রত্যাহার করতে খেলোয়াড়দেরকে আবেদন করতে বলা হয়েছে।
