সংসদে টেবিলে উপস্থাপিত প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী

সোনার বাংলায় দারিদ্র্য হবে সুদূর অতীতের কোনো ঘটনা

আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৯, ২২:৪৫

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদকে জানিয়েছেন, সার্বিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিনিয়োগ ক্রমাগত বাড়ছে। রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে। বাজেট ঘাটতির পরিমাণ জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এমন পরিবেশে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন সামনের দিনগুলোতে আরও বেগবান হবে। সোনার বাংলায় দারিদ্র্য হবে সুদূর অতীতের কোনো ঘটনা। গতকাল বুধবার সংসদে টেবিলে উপস্থাপিত প্রশ্নোত্তরে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

একই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ শিগগিরই উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে।  এ সময়ের মধ্যে দেশের শাসনব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। সরকারি ব্যয়ের সিংহভাগ বাস্তবায়িত হবে স্থানীয় পর্যায়ে। স্থানীয় প্রশাসন এ দায়িত্ব পালন করবে। স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রের সুস্পষ্ট সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিকল্পনা করা হবে।

 শেখ হাসিনা জানান, জাতিসংঘের ‘বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা ও সম্ভাবনা, ২০১৯’ প্রতিবেদনে শীর্ষ প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে। জাতিসংঘের এ প্রতিবেদনে ২০১৮ সালে সবচেয়ে দ্রুত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। এছাড়া ‘আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক, এপ্রিল ২০১৯’ প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী তিনটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। এ প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ, যা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও ভারতের প্রবৃদ্ধির সমান। এ তালিকায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে রুয়ান্ডা, যার পরেই বাংলাদেশের অবস্থান।

১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান হবে

জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে শিল্পের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, উত্পাদন এবং রপ্তানি বৃদ্ধি ও বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে সরকার বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন সম্পন্ন হলে অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ মূল্যের পণ্য ও সেবা উত্পাদন ও রপ্তানি করা সম্ভব হবে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান হবে।