শেরপুরে তেলের কনটেইনার বিস্ফোরণে চার শ্রমিকের মৃত্যু

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৮:১৮

বগুড়ার শেরপুরে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে তেলের কনটেইনার বিস্ফোরণে চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও তিন শ্রমিক। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক সংলগ্ন ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা এলাকায় মজুমদার প্রোডাক্টস্ লিমিটেডে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

প্রাণ হারানো চার শ্রমিক হলেন নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর পৌরশহরের অফিসার্স কলোনি এলাকার খলিলুর রহমানের ছেলে মো. ইমরান হোসেন (৩২), একই এলাকার সোলায়মান আলীর ছেলে মোহাম্মদ আবু সাঈদ (৩৮), আব্দুস সালামের ছেলে মো. মনির হোসেন (২৮) ও রুবেল আহমেদ (৩১)। এছাড়া এই ঘটনায় আহতরা জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

মজুমদার প্রোডাক্টস্ লিমিটেডের মানব সম্পদ কর্মকর্তা রঞ্জন চক্রবর্তী জানান, ঘটনার সময় তাদের কোম্পানির ঠিকাদারের সাতজন শ্রমিক রাইচ ব্র্যান তেল উৎপাদনের কনটেইনার মেরামতের কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ কনটেইনারটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে শ্রমিকরা গুরুতর আহত হন। পরে প্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাৎক্ষনিক তাদেরকে বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

বগুড়ার উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. লালন মিয়া বলেন, বিস্ফোরণে গুরুতর আহতদের মধ্যে চারজনকে বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। পরে নিহতদের লাশ হাসপাতাল মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। আর আহতরা শহরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে শুনেছেন তিনি।

শেরপুর ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার বখতিয়ার উদ্দিন জানান, মজমুদার কোম্পানিতে আগুন লেগেছে এমন সংবাদ পেয়ে দ্রুত সেখানে যাই। কিন্তু তারা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তাই তাদের তেমন কোনো কাজ করতে হয়নি। বিস্ফোরণের কারণ নিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, উচ্চ তাপমাত্রার কারণে কনটেইনারটিতে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

শেরপুর থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা বলেন, ঘটনার খবর পেয়েই সেখানে যাই। হতাহতের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল মর্গেই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এই ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি