চীনা ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে দূরপাল্লায় আক্রমণে সক্ষম ড্রোন উৎপাদন শুরু করেছে রাশিয়া। গার্পিয়া-এ১ মডেলের এই ড্রোনটি ইউক্রেন যুদ্ধে মোতায়েন করা হয়েছে। হাতে পাওয়া নথি ও ইউরোপীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার দুটি সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত অস্ত্র নির্মাতা আলমাজ-অ্যান্টের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইইএমজেড কুপোল ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি গার্পিয়া ড্রোন তৈরি করেছে। চীনা প্রযুক্তির সংমিশ্রণে তৈরি এই ড্রোনের অস্তিত্ব পূর্বে প্রকাশিত হয়নি।
গার্পিয়া ড্রোনটি ইরানের শাহীদ-১৩৬-এর সঙ্গে অনেকাংশে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও এতে চীনা তৈরি লিমব্যাক এল-৫৫০ ই ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, গার্পিয়া ইউক্রেনে সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবহৃত হয়েছে। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং বেসামরিকদের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এই ড্রোনগুলো রাশিয়ার দীর্ঘদিনের ইরানি ডিজাইনের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষক স্যামুয়েল বেনডেট। তিনি বলেন, যদি এটি সত্যি হয়, তবে রাশিয়া দেশীয় প্রযুক্তি ও চীনা যন্ত্রাংশের ওপর আরও নির্ভরশীল হতে পারে।
ইউক্রেনীয় সামরিক কমান্ডারদের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ১৪ হাজার ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে ইরানি শহীদ কামিকাজে ড্রোন এবং রুশ তৈরি গেরান-২ ও ল্যানসেট ড্রোনও রয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেইজিং সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সম্ভাবনাযুক্ত সামগ্রীর রপ্তানি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। তবে চীনের সঙ্গে রাশিয়ার বাণিজ্যে কোনো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা নেই।
ন্যাটো মহাসচিব জেন্স স্টলটেনবার্গ সম্প্রতি চীনকে রাশিয়ার যুদ্ধ সমর্থন বন্ধ করতে আহ্বান জানিয়েছেন। ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য চীনা যন্ত্রাংশের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাটি বলেছে, রাশিয়ায় চীনের ড্রোনের যন্ত্রাংশের রফতানি বন্ধ হওয়া উচিত।

