সিএজি পদত্যাগ ও অডিটর পদকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২০:৫১

অডিট অ্যান্ড একাউন্টস বিভাগে অডিটরদের বেতন গ্রেড বৃদ্ধির চলমান আন্দোলন ঘিরে ক্যাডার-নন ক্যাডার দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে সরকারের হিসাব ও নিরীক্ষা কার্যক্রম স্থবির হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সেবা প্রার্থীরা। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) নূরুল ইসলামের পদত্যাগ ও অডিটর পদকে ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবিতে কাকরাইলে অডিট ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন নন-ক্যাডার কর্মচারীরা।

প্রত্যক্ষর্শীরা জানায়, প্রথমে মিছিল নিয়ে অডিট ভবনের সামনে আসেন অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস (নন-ক্যাডার) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর আগেথেকেই অডিট ভবনের ফটকের সামনে অবস্থান নেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা ভবনের সামনে এসে ভেতরে যাওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু তাদের ভেতরে যেতে দেওয়া হয়নি। ভেতরে ঢুকতে না পেরে অডিট ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীরা। এ সময় সিএজিকে পদত্যাগ করতে হবে, এক পদে দুই গ্রেড, মানি না, মানব না ইত্যাদি শ্লোগানে প্রকম্পিত করে ফেলে। 

ভূক্তভোগী নন-ক্যাডার কর্মচারীরা জানান, ছাত্র-জনতার গণ অভ্যূত্থানের ফলে সরকার পরিবর্তনের পর নিজ পদ হারানোর আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সিএজি নূরুল ইসলাম। অনুগত ও অন্যায় সুবিধাভোগী কতিপয় ক্যাডার কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ডিপার্টমেন্টের নন ক্যাডার কর্মচারীদের হাতে রাখতে ১১ তম গ্রেডের অডিটরদের ১০ গ্রেড, ১০ গ্রেডের সুপারদের ৯ম গ্রেড এবং ৯ম গ্রেডের নিরীক্ষা ও হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তাদের ৭ম গ্রেড উন্নীতকরণের প্রতিশ্রুতি দেন।

এর প্রতিবাদে গতকাল সোমবার বেলা ১টার দিকে নন ক্যাডার কর্মচারীরা ‘বৈষম্যবিরোধী কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ’-এর ব্যানারে ২০ দফা দাবিসংবলিত একটি লিফলেট বিলি করেন। এতে পদ্ধতিগত ও প্রশাসনিক বিভিন্ন সংস্কারের দাবি জানানো হয়। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, এখন তাদের মূল দাবি হলো, অডিটর পদকে দশম গ্রেড ঘোষণা করে সরকারি আদেশ জারি করা হোক।

অডিটর আহমেদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, অডিটর পদটি ১১তম গ্রেডের। কিন্তু এটিকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়ে আদালতের রায় আছে। ২০১৮ সালে ৬১ জনকে ১০ম গ্রেড দেওয়া হয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর আরও ৭৫২ জনের বিষয়ে সরকারি আদেশ জারি হয়েছে। একই পদে থেকে কেউ ১১তম গ্রেডে, আর কেউ ১০ম গ্রেডে, এটি বৈষম্যমূলক। তাদের মূল দাবি অডিটর পদটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করে সরকারি আদেশ জারি করতে হবে।

ডিএমপির রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ফারুক জানান, গতকাল কাকরাইল অডিট ভবনের সামনে ফুটপাতে অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিক্ষোভ করেছে। তারা পৌণে এক ঘন্টা অবস্থানের পর চলে যায়। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি