অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখনই দাবা অলিম্পিয়াডে যাওয়ার সময় ঘনিয়ে আসে। কিন্তু বড় বাধা ছিল অর্থ। ফেডারেশনে বিত্তবান কর্মকর্তারা থাকার পরও কেউ সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি। বাধ্য হয়ে ধার-দেনা করে দাবা অলিম্পিয়াডে দল নিয়ে হাঙ্গেরি গিয়েছিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহবুদ্দিন শামীম। তার পকেট থেকে অর্থ খরচ করে দল নিয়ে গেলেও একাধিক খেলোয়াড় তার মান রাখতে পারেননি।
ফাহাদ রহমান জিএম (গ্র্যান্ডমাস্টার) নর্ম অর্জনের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। অলিম্পিয়াড একটি বড় মঞ্চ, এখানে একটি নর্ম পেলে দুটি নর্মের হিসাব ধরা হয়। দুইবার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি ফাহাদ। ফিদে মাস্টার মনন রেজা নীড় আইএম নর্ম পাবে, এমন আশা ছিল ফেডারেশনের। তিনিও ব্যর্থ হয়েছেন। সুযোগ ছিল মহিলা ফিদে মাস্টার ওয়াদিফা আহমেদের। তিনিও ভালো কিছু করতে পারেননি। মহিলা ক্যান্ডিডেট মাস্টার ওয়ালিজা আহমেদ এবং নুসরাত জাহান আরও হতাশ করেছেন। শাহাবুদ্দিন আহমেদ শামীম বললেন, 'অভিজ্ঞতার অভাব।'
এত হতাশার মধ্যে আলো জ্বালিয়েছেন মাস্টার রানী হামিদ। তিনি ৮ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট পেয়েছেন। ৮১ বছরের বেশি বয়স তার। এর মধ্যে রানী হামিদ যতটুকু এগিয়েছে, তা অন্যদের চেয়েও ভালো। দাবা অলিম্পিয়াডে এবার খুব বাজে রেজাল্ট হয়েছে।
এবার হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে ৪৫তম ফিদে চেস অলিম্পিয়াডে যেতে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের কাছে অর্থই ছিল না। অথচ খরচ ছিল বেশি। বিমান ভাড়া, হাত খরচ ভিসা ফি, ইনস্যুরেন্স-সহ নানা খাতে অর্থ ব্যয় হয়েছে। জানা গেছে জনপ্রতি ভিসা ফি সাড়ে ১১ হাজার টাকা, ১২ জনের ভিসা ফি, ইনস্যুরেন্সে ফি ১ লাখ টাকার বেশি, এর ফি ৫১ হাজার টাকা। খেলোয়াড়দেরকে পকেট মানি দেওয়া হয়েছে।
গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ, এনামুল হোসেন রাকিবকে ৭০০ ইউরো করে, ফাহাদকে ৬০০, মনন রেজা নীড়কে ৫০০, রানী হামিদকে ৪০০, নওশীন আঞ্জুমকে ৪০০, তাহসিন তাজওয়ার জিয়াকে ৪০০, ওয়ালিজা, ওয়াদিফা এবং আলোকে ৪০০ ইউরো করে দেওয়া হয়েছে। ১৪ লাখ টাকা বিমান ভাড়া বাকিতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা শাহাবুদ্দিন শামীম।
তিনি বলেন, 'দল পাঠানো নিয়ে আমরা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলাম। নতুন সরকার এসেছে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যদি দেখে টাকার জন্য দল যেতে পারছে না, সেটি শোভন হবে না। আমার নিজ উদ্যোগে টাকা দিয়ে দাবা অলিম্পিয়াডে দল পাঠাতে হয়েছে। বাকিতে বিমান টিকিট নিয়েছি। নিজের পকেট থেকে খেলোয়াড়দের জন্য টাকা দিয়েছি। এগুলো ফেডারেশনে ফান্ড অ্যাভেইলেভল হলে আমাকে দিয়ে দেবে। আশা করি পাব। সঙ্গে এটাও বলতে হয়, এর আগে ফেডারেশনের ফান্ডে টাকা না থাকার পরও আমার কাছ থেকে ৪৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল, যেটি আজও পাইনি আমি।'
