কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ডিপার্টমেন্টের প্রফেসর ড. মো. হায়দার আলী।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাপ্লাইড ফিজিক্স অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্সে অনার্স এবং মাস্টার্স এবং জাপানের তায়োহাশি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে ইলেক্ট্রনিকস অ্যান্ড ইনফরমেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনে ১৯৯৫ সাল থেকে পাঁচ বছর সায়েন্টিফিক অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করলেও পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার পাশাপাশি বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ সরকারের আইটি সম্পর্কিত বেশকিছু প্রজেক্টে টেকনিক্যাল মেম্বার ও উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই গুণী অধ্যাপকের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৬২ টি রিসার্চ পেপার প্রকাশিত হয়েছে। যারমধ্যে রয়েছে বই, জার্নাল পেপার, কনফারেন্স পেপার।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেয়ার ভাবনা ও কর্ম পরিকল্পনার বিষয়ে দৈনিক ইত্তেফাকের সাথে কথা বলেছেন অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মানছুর আলম অন্তর।
ইত্তেফাক: ছাত্র-জনতার বিপ্লব এবং হাসিনা সরকারের পতনকে কীভাবে দেখছেন?
ভাইস-চ্যান্সেলর: যুগে যুগে আল্লাহ তা’আলা কিছু তাগুত পাঠিয়েছেন। যার অর্থ সীমালঙ্ঘনকারী। যেমন নমরুদ, ফেরাউন। আর এদেরকে ধ্বংস করেছেন খুবই তুচ্ছ জিনিস দিয়ে। যেমন বিশাল দেহের নমরুদকে ধ্বংস করেছেন মশা দিয়ে। তেমনি এই সরকারকে বড়, বড় রাজনৈতিক দল যেখানে কিছু করতে পারেনি সেখানে নিরীহ ছেলে-মেয়েরা বিজয়ী হয়ে গেল। আল্লাহর রহমত এটা।
ইত্তেফাক: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি পদে যোগদানের প্রথম সপ্তাহের অভিজ্ঞতার গল্প দিয়ে শুরু করতে চাই। এই কয়দিনে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আপনার ধারণা কি?
ভাইস-চ্যান্সেলর: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার। পাহাড়ি পরিবেশ। তবে এখানে শিক্ষক ও অফিসারের ভারসাম্য ঠিক নেই। শিক্ষক যত থাকার কথা তত নেই। অন্যদিকে অফিসার যত থাকার কথা তার চেয়ে বেশি আছে। অনেক বিভাগ খুব অল্প শিক্ষক দিয়ে চলছে যা ভাবা যায়না। এভাবে শিক্ষাদান হয়না। এছাড়া পাঁচ মাস ধরে উপাচার্য না থাকায় অনেক ধরনের জটিলতা তৈরী হয়েছে। কিছু ব্যক্তির মধ্যে শক্তি খাটিয়ে পজিশন দখল করে রাখার প্রবনতাও আছে। আমি জানিনা এসবের বিরুদ্ধে কিভাবে যুদ্ধ করবো। তবে আমি কাউকে শক্তি খাটানোর পক্ষে না। প্রসেসের মধ্য দিয়ে সংশোধনের চেষ্টা করবো।
ইত্তেফাক: বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক উন্নয়নের বিষয়ে আপনার ভাবনা কী?
ভাইস-চ্যান্সেলর: আমি শাহজালাল, ব্রাক ও ঢাবিতে পড়িয়েছি। তারা বর্তমানে অ্যাকাডেমিকালি ভালো অবস্থানে আছে। যদি আমার আইডিয়াগুলো বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা পাই। আমার বিশ্বাস আমরা তার চেয়ে উপরে যেতে পারবো। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের কোয়ালিটির ব্যাপারে নো কমপ্রোমাইজ। শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়নে সবাইকে এক থাকতে হবে।
ইত্তেফাক: বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিংয়ে যেন এগোতে পারে এই বিষয়ে কোন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন?
ভাইস-চ্যান্সেলর: বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং অনেকটা প্রদর্শনীর উপর নির্ভর করে। আমাদের ছোট-বড় যেমন কাজই হোক তা বিশ্ববাসী যেন জানতে পারে তার জন্য অনলাইনে তা সংযুক্ত করতে হবে। প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করলে শিক্ষকরাও উৎসাহ পাবে। একজনের দেখাদেখি বাকিরাও ভালো কিছু করার তাগিদ অনুভব করবেন। আর ফ্যাকাল্টি, বিভাগ তাদের মতো করে তথ্য সংযুক্ত করবেন। আর শিক্ষকদের পার্সনাল পেইজে একসেস দিয়ে দিবো। যেন সহজে তথ্য যুক্ত করতে পারে। এছাড়াও র্যাংকিং বাড়ানোর জন্য শিক্ষকদের মান উন্নয়নের পাশাপাশি যথাযথ সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করে ধাপে ধাপে এগোতে হবে।
ইত্তেফাক: বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগে কম-বেশি শিক্ষক সংকট রয়েছে সেক্ষেত্রে আপনার প্ল্যান কী? পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগে কোন বিষয়কে প্রাধান্য দিবেন?
ভাইস-চ্যান্সেলর: বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের পূর্বে যেহেতু বিশ্ব শব্দটি যুক্ত আছে তাই পৃথিবীর যে প্রান্তেরই হোক, যে কোন ধর্ম, বর্ণেরই হোকনা কেন কোয়ালিটিতে যিনি বেস্ট তাকেই আমরা প্রাধান্য দিবো। শিক্ষকের কোয়ালিটি খারাপ হলে ছাত্ররাও খারাপ হবে। অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ পেলে প্রতিনিয়ত তারা ষড়যন্ত্র করে টিকে থাকার চেষ্টা করে। একজনের জন্য একটা এনভায়রনমেন্ট নষ্ট হয়ে যায়। এটা ক্যান্সারের মতো। প্রতিষ্ঠানকে বহুবছর এই ক্ষত বয়ে বেড়াতে হয়। আমি যেখানেই দায়িত্ব পালন করেছি কোথাও সামান্য কম্প্রোমাইজ করতে দেই নি। এমনও হয়েছে আমাকে আর কাজে রাখেনি। এখানেও হয়তো আমার সাথের লোকেরা আমার উপর রেগে যাবে। যদি বেশি কঠিন সময় পার করতে হয় খোদা হাফেজ বলে চলে যাবো।
আর শিক্ষক সংকট নিরসনে আমাকে বিভাগের চাহিদা বুঝতে হবে। কম্পিউটার সায়েন্স এবং জার্নালিজমের চাহিদা ভিন্ন সেটা হিসাব করে আগাতে হবে।
ইত্তেফাক: শিক্ষকদের মান উন্নয়নে শিক্ষক মূল্যায়নের বিষয়টিকে কিভাবে দেখছেন ?
ভাইস-চ্যান্সেলর: শিক্ষক মূল্যায়ন আমরা চালু করবো। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের এটেনডেন্স প্যারামিটার সেট করবো। যাদের ক্লাসে উপস্থিতি ৮০% এর উপরে তারাই শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারবে। এতে দুইটা বিষয় হবে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য এটেনডেন্স বৃদ্ধি করার চেষ্টা করবে। পার্টিসিপেশন বাড়বে। শিক্ষকরাও এতে সচেতন হয়ে যাবেন। এছাড়াও দেরীতে ক্লাসে আসা, ক্লাস নোট না দেয়া বা অবহেলাটা কমে যাবে এতে।
ইত্তেফাক: বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট তথ্যসমৃদ্ধকরণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা ডিজিটালাইজেশনের জন্য কোন ধরনের উদ্যোগ নিবেন?
ভাইস-চ্যান্সেলর: এসব বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এগুলো বাস্তবায়ন করেছি। তাই এখানে বাস্তবায়ন করতে সমস্যা হবে না। শিগগিরই পলিসি তৈরী করা হবে। চাইলে এখনোই ছাত্রদের দিয়ে তৈরী করা যায় কিন্তু দীর্ঘসময়ের জন্য তা হয়তো টেকসই হবে না। প্রোগ্রাম রান করা ইজি কিন্তু রিয়েল লাইফের জন্য তা চ্যালেঞ্জিং। তাই ভবিষ্যতের জন্য পর্যাপ্ত সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে পারবে এমন একটা সফটওয়্যার কোম্পানিকে কাজ দিবো।
ইত্তেফাক: হল ও ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান উন্নয়নে শিক্ষার্থীরা সবসময় অভিযোগ করে আসছে। আপনি এই বিষয় কোন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন?
ভাইস-চ্যান্সেলর: হলের ডাইনিং বা ক্যাফেটেরিয়ায় যেসব সুযোগ সুবিধা সরকারি ভাবে দেয়া হয়, তা খাবারের মান উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট। যারা এগুলো পরিচালনা করেন তারা খাবারের মান বৃদ্ধি করতে পারেন; মূল্য চাইলেই কমিয়ে রাখতে পারেন। কিন্তু অনেকে তা করেননা। এজন্য তাদেরকে কাউন্সেলিং প্রয়োজন। তাতে কাজ না হলে থ্রেট করতে হবে। এজন্য ছাত্রদের এগিয়ে আসতে হবে প্রথমে। আমি ইনভলভ হওয়া মানে তো উনি শেষ।
ইত্তেফাক: বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলের সুযোগ, সুবিধা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য সেবার মআন উন্নয়নে আপনার পরিকল্পনা কী?
ভাইস-চ্যান্সেলর: আমি জানতে পেরেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য মাসে মাত্র ২৩ হাজার টাকার ওষুধ কেনা হয়। এরমধ্যে আবার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীরাও সেবা নেন। যা অমানবিক। এক্ষেত্রে বাজেট বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়াও এতদিন অফিস সময় ৫ টার পর আর কোন ডাক্তার থাকতেননা। এজন্য আমরা নতুন পাশ করা ২-৩ জন ডাক্তার নিবো। যারা অফিস সময়ের পর রাত ১০টা পর্যন্ত কাজ করবে। প্রয়োজনে তারা ১০/২০টাকা ফি নিবে।
ইত্তেফাক: আগের মতো শিক্ষার্থীদের ভাইস-চ্যান্সেলর স্কলারশিপ প্রদান চলমান রাখবেন কী?
ভাইস-চ্যান্সেলর: আমরা গরিব এবং মেধাবী এই দুইটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে স্কলারশিপ ব্যবস্থা চলমান রাখবো। তবে এখন থেকে ডিসেন্ট্রালাইজড করা হবে। স্কলারশিপের বিষয়টি দেখবেন ডিন। প্রশাসন থেকে শুধু বরাদ্দ দেয়া হবে।
ইত্তেফাক: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস ঘুরে কি দেখলেন? সেটা নিয়ে আপনার নিজস্ব কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কিনা?
ভাইস-চ্যান্সেলর: নতুন ক্যাম্পাস দেখে যা বুঝলাম সেখানে ভুলের উপরে ভুল করা হয়েছে। প্রায় ৫০০ কোটি টাকা দিয়ে পাহাড়ি জমি কেনা হয়েছে! অথচ সমতলে জমি কেনা হলে অর্ধেক খরচ কমে যেত। প্রতিটা ভূমি ব্যবহার করা যেত। এখন সব পাহাড় আর জঙ্গল। সেখানে পরিবেশ বিষয়ক এবং ডিজাইন বিষয়ক পরামর্শক দরকার ছিল। সেগুলো নেই। আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম ইউনিভার্সিটির সয়েল সিস্টেমের কোনো ডিজাইন নেই। সেন্ট্রাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো পরিকল্পনা নেই। এছাড়াও, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় তিনবার রিভাইস বাজেট দিতে হয়েছে। এতে ১৭০ কোটি টাকা বাজেট বাড়বে পূর্বের ১৬৫৫ কোটি থেকে।
তবে আশার আলো হচ্ছে কাজটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী করছে। যতটুকু কাজ হয়েছে কোয়ালিটির সাথে তারা কোনো কম্প্রোমাইজ করেননি। রাস্তাটা ১০০ বছর টেকশই হবে। তবে সেখানে কাজ যা হওয়ার হয়েছে আমি কোনো স্ট্রাকচারে হাত দিবোনা। আমরা আবাসিক হল, একাডেমিক ভবন, কর্মকর্তা-শিক্ষকদের জন্য আলাদা আলাদা সয়েলেজ সিস্টেমের ব্যবস্থা করবো।
ইত্তেফাক: বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের কাজের অগ্রগতি কতটুকু? শিক্ষার্থীদের জন্য কেমন সুযোগ সুবিধা রয়েছে?
ভাইস-চ্যান্সেলর: নতুন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য সবরকমের সুযোগ সুবিধা থাকবে।
আমি দুদিন ঘুরে ঘুরে ক্যাম্পাস দেখেছি। নতুন ক্যাম্পাসের পিডি জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারি ডেডলাইন কিন্তু ওনআরা ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চাচ্ছে। এছাড়াও, সেখানে লালমাই পাহাড় কাটা নামে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি রিট আছে। একটি আমি তাদের বলেছি, কাজ করতে গিয়ে কোনো অনুমতি নিয়ে ভয় না পেতে। কাজ শেষে যা হবে বাকিটা আমরা দেখবো।
পরিবেশের কথা মাথায় রেখে তাদের বলেছি, আগামী ৬ মাসের মধ্যে পাহাড়ের লাল অংশ যেন না দেখা যায়। এজন্য তারা অলরেডি ভিয়েতনাম থেকে একধরনের বিশেষ ঘাস নিয়ে এসেছে যার শিকড় অনেক গভীরে। যত বৃষ্টিই হোকনা কেন সমস্যা হবে না। ওখানে নার্সারি করা আছে। গাছগুলো বড় হলেই এনে লাগিয়ে দেয়া হয়।
ইত্তেফাক: দুটি ক্যাম্পাসকে যুক্ত করার জন্য একটি সংযোগ সড়কের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। এইবিষয়ে বর্তমান প্রশাসন কি ভাবছে?
ভাইস-চ্যান্সেলর: আমরা ইতোমধ্যে কোটবাড়ি বিশ্বরোড থেকে নতুন ক্যাম্পাস পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্ত করে ৪ লেন করার প্রস্তাব দিয়েছি। এতে এই ক্যাম্পাস থেকে নতুন ক্যাম্পাসের দূরত্ব হবে ১.৮ কিলোমিটার। তাই আর আলাদা সংযোগ সড়কের প্রয়োজন হবে না। আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই রাস্তার সাথে জড়িত তিনটি অথরিটির সাথে মিটিং করে একটা ডিসিশন নিয়ে তা সরকারকে জানাবো।
ইত্তেফাক: বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহিদ হওয়া শিক্ষার্থী কাইয়ুমের পরিবারকে কোন ধরনের সহায়তার কথা ভাবছেন?
ভাইস-চ্যান্সেলর: কাইউমের পরিবারকে সহায়তার জন্য ইতোমধ্যে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে সাড়ে সাত লক্ষ টাকা দিয়েছি। যারমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে প্রায় এক লক্ষ ৭০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। বাকি অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা দিয়েছেন। এই অর্থ একটি ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকে জমা রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যেন প্রতিমাসে কাইয়ুমের পরিবার মূল অর্থের বাইরে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করতে পারে।
ইত্তেফাক: দীর্ঘসময় নিয়ে সাক্ষাৎকার দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। এর বাইরে আর কিছু বলতে চান?
ভাইস-চ্যান্সেলর: আমি বেশি কথা বলার মানুষ নই। অনেক বেশি আশাও দিতে রাজি নই। যতটুকু পারি তার চেয়ে বেশি এচিভ করার চেষ্টা করি। এখানে অনেক সমস্যা। তবে সবার সহযোগিতা পেলে ভালো কিছু হবে বলে প্রত্যাশা রাখি।
ইত্তেফাক: আপনাকে ধন্যবাদ।
ভাইস-চ্যান্সেলর: দৈনিক ইত্তেফাককেও ধন্যবাদ।
