বিনয়-নম্রতা আল্লাহর পছন্দনীয়

আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৯, ২১:৩৩

দাম্ভিকতা না দেখানো, দম্ভ ভরে না চলা, নিজেকেই শুধু শ্রেষ্ঠ মনে না করা, এটাই হলো বিনয়। মনীষী হাসান বসরী বলেছেন, নিজের ঘর থেকে বের হওয়ার পর যে কারো সঙ্গে সাক্ষাত্ হবে তাকে নিজের চেয়ে ভালো মনে করার নামই বিনয়। বিনয়ী ব্যক্তি সমাজে সম্মানিত হন। অহংকারী, দাম্ভিক ব্যক্তি দৃশ্যত সম্মান কিছুটা পেলেও পেতে পারে। তবে শেষঅবধি অপমানিত, লাঞ্ছিত হয়। ইহকাল এবং পরকাল দুজায়গায়ই। মূলত বিনয় নম্রতার গুণ মুমিনের জন্য আবশ্যক। এই গুণ অর্জন করতে হয়। নম্রতাকে স্বয়ং আল্লাহ ভালোবাসেন। রাসূল (স) বলেছেন, আল্লাহ স্বয়ং নম্র। তাই তিনি নম্রতাকে ভালোবাসেন। তিনি কঠোরতার জন্য যা দান করেন না, তা নম্রতার জন্য দান করেন। নম্রতা ছাড়া অন্য কিছুতেই তা দান করেন না। (মুসলিম)। অন্য হাদিসে এসেছে, আর যে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বিনয় নম্রতানীতি অবলম্বন করে, আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন (মুসলিম)। কাউকে ক্ষমা করলে আল্লাহ তার ইজ্জত ও সম্মান বৃদ্ধি করে দেন। বিশ্বনবী (স) ছিলেন পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বিনয়ী ও নম্র। অথচ শক্তি, ক্ষমতা সবই তাঁর ছিল। তবু তিনি সকলের সাথে বিনয়, নম্র আচরণ করতেন। হোক সে মুসলিম কিংবা বিধর্মী। তার আচরণের মুগ্ধতায় কাফেররা অবাক হতো। হযরত আনাস (রা) দশ বছর রাসূল (স) এর খেদমত করেছেন। আনাস (রা) বলেন, রাসূল (স) কখনো আমার জন্য উহ শব্দটি বলেননি। কোনো কাজ করে বসলে তিনি এ কথা বলেননি যে তুমি এ কাজ কেন করলে? এবং কোনো কাজ না করলে তিনি বলেননি যে তুমি কেন করলে না? (বুখারী ৬০৩৮, মুসলিম ৬১৫১) অথচ বাসার কাজের লোকের সাথে আমাদের আচরণ কেমন? ড্রাইভার, দারোয়ান, রিকশাওয়ালাদের ধমকাতে পারলেই যেন বিশ্ব জয় হলো। এমন মনোভাব আছে অনেকেরই। অথচ অহংকারী, দাম্ভিক ব্যক্তির ঠিকানা জাহান্নাম। আল্লাহ বলেন, যারা অহংকারবশত আমার গোলামি থেকে দূরে থাকে, অচিরেই তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (সুরা মুমিন, আয়াত-৬০)। পক্ষান্তরে সুরা হুদের ২৩ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে, যারা মুমিন, সত্কর্মপরায়ণ এবং তাদের প্রতিপালকের প্রতি বিনয়াবনত, তারাই জান্নাতের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। এজন্য হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি নম্রতা থেকে বঞ্চিত, বস্তুতপক্ষে সে সর্বপ্রকার কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত (মুসলিম ৬৭৬৩,৬৭৬৪)।

lলেখক : ইসলামী গবেষক ও সম্পাদক, মাহে রমজানের ডাক, বানারীপাড়া, বরিশাল