মো. কামাল হোসেন, হোমনা (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের ৭ বছর পরেও প্রসূতি অস্ত্রোপচার (সিজার অপারেশন) চালু হয়নি। এই সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গর্ভবতী মা-সহ সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো। এতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চার-পাঁচগুণ বেশি টাকা ব্যয় করে গর্ভবতী মায়েদের সিজার অপারেশন করাতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলার প্রত্যন্ত হোমনা উপজেলায় প্রায় আড়াই লাখ মানুষ বসবাস করছে। এসব মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় একমাত্র ভরসা হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এলাকাবাসীকে উন্নত স্বাস্থ্য সেবা দিতে ২০১১ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। গাইনি বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগে ৩০ জন চিকিত্সকের পদ থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৯ জন কর্মরত রয়েছেন। তবে গাইনি বিভাগে চিকিত্সক থাকলেও প্রয়োজনীয় এনেসথেসিয়া মেশিন না থাকায় মায়েদের সিজার করা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সরকারি হাসপাতালে সিজার হলে চার-পাঁচ হাজার টাকায় সাধারণ মানুষ চিকিত্সা সেবা পেত। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে তা না হওয়ায় কয়েকগুণ বেশি ১৫-২০ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। সরেজমিনে শনিবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ৪০-৫০ জন রোগী বহির্বিভাগে চিকিত্সা সেবা নিচ্ছেন। এসব রোগীর প্রায় ৮০ ভাগই নারী। নানা সমস্যা নিয়ে আসা রোগীর মধ্যে গর্ভবতী ৭-৮ জনকেও চিকিত্সা নিতে দেখা গেছে। নিলখী এলাকার ছালেহা বেগম (২৭) বলেন, গরীব মানুষ অইলেও সরকারি হাসপাতালে সিজার করা যাইবে না। এইখানে নাকি সিজার করা অয়না, বেশি টেকা দিয়াই সিজার করাইতে অইব, কষ্ট কইরা টেকা জোগাড় কইরা সিজার করতে অইব।
দুলালপুর ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের কৃষক মো. ইলিয়াছ হোসেন বলেন, সরকারি হাসপাতালে সিজার করাইতে পারলে অল্প টেকাতেই হইয়া যাইত। জয়পুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম বলেন, সরকারি হাসপাতালে মায়েদের সিজার করার ব্যবস্থা না থাকায় ঠিকমতো স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে না এলাকাবাসী। বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে মানুষজন বিশেষ করে এলাকার দরিদ্র মানুষ সেবার নামে প্রতারিত হচ্ছেন। আবার টাকাও চার-পাঁচগুণ বেশি গুণতে হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে মায়েদের সিজার করে দ্রুত সরকারি চিকিত্সা সেবা দেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সরফরাজ হোসেন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে আগে গাইনী বিভাগে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ছিল না, এখন আছেন একজন। তবে এনেসথেশিয়ার মেশিন না থাকায় এই মুহূর্তে কোনো সিজার করা যাচ্ছে না। হোমনা উপজেলায় সিজার চালু হলে এলাকার মানুষ বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলারা সুলভ মূল্যে সিজারের সুবিধা নিতে পারবেন। আমি এক বছরে অন্তত দুইবার চিঠি দিয়েছি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে।
কুমিল্লা সিভিল সার্জন মুজিবুর রহমান বলেন, হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গর্ভবতী মায়েদের সিজার অপারেশন করাতে একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক দেওয়া হয়েছে। এনেসথেশিয়া মেশিন না থাকায় তা চালু করা যাচ্ছে না। এক-দুই মাস আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করি অচিরেই তা পাব এবং সিজার চালু হবে।
