জুন ক্লোজিংয়ের নামে কাজ না করে চার প্রকল্পের টাকা উত্তোলন!

আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৯, ২১:৫৩

কোটালীপাড়ায় জুন ক্লোজিং-এর নামে চারটি প্রকল্পের কাজ না করেই ৮ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। জুলাই মাসের ১১ দিন অতিক্রান্ত হলেও এসব প্রকল্পের কাজ এখনো শুরু হয়নি। কোটালীপাড়া উপজেলার মত্স্য বিভাগের তিনটি ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের একটি প্রকল্প থেকে ৩০ জুনের আগেই এসব টাকা উত্তোলন করা হয়। উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের মত্স্য অভয়াশ্রম প্রকল্পে সাদুল্লাহপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর বিপ্লব চক্রবর্তীকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি করা হয়। প্রাণিসম্পদ অফিসের ক্ষুরারোগে ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইন প্রকল্পটি পিঞ্জুরি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাখালী ও তারাইল গ্রামে বাস্তবায়িত হওয়ার কথা। কিন্তু এ প্রকল্পে ঐ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার ইলিয়াছ খানকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরা টাকা উত্তোলনের কথা স্বীকার করে দুই/এক দিনের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শুরু করার কথা বলেছেন। তবে এসব কাজ ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা ছিল।

আমতলী ইউনিয়নের সিকির বাজার সংলগ্ন আমতলী গ্রামের মো. কবির হোসেন জানান, জুনে সিকির বাজার মত্স্য অভয়াশ্রমে কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। তাই অভয়াশ্রমটি কচুরিপানায় ভরে রয়েছে। এখানে মাছের প্রজননের কোনো পরিবেশ নেই।

একই গ্রামের নাঈম শেখ জানান, গত ২০১৮ সালে এ অভয়াশ্রমে কচুরিপানা পরিষ্কার, বাঁশ পোঁতা ও গাছের ডাল ফেলা হয়। পাশাপাশি অভয়াশ্রম সংস্কার করে মাছের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু এ বছর এখনো অভয়াশ্রমে কোনো কাজ হয়নি। তাই অযত্ন আর অবহেলায় অভয়াশ্রমটি পড়ে রয়েছে। এতে অভয়াশ্রমের উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।

পিঞ্জুরি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার নির্মল বিশ্বাস বলেন, সোনাখালী ও তারাইল গ্রামে এখনো গরুর ক্ষুরারোগের ভ্যাক্সিনেশন করা হয়নি। দুই/এক দিনের মধ্যে এটি করা হবে বলে পশু ডাক্তার জানিয়েছেন।

আমতলী সিকির বাজার মত্স্য অভয়াশ্রমের প্রকল্প সভাপতি বিপ্লব চক্রবর্তী টাকা উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, আমি সাদুল্লাহপুর ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আমাকে আমতলী ইউনিয়নের সিকির বাজার মত্স্য অভয়াশ্রমের প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে। আমি এক দিন প্রকল্প এলাকা দেখতে গিয়েছি। অন্যদিন সেখানে বাঁশসহ মালামাল নিয়েছি। এ অভয়াশ্রমের সংস্কার কাজ শুরু করেই দুই/এক দিনের মধ্যে শেষ করে ফেলব।

আমতলী ইউনিয়নের  চেয়ারম্যান হান্নান শেখ বলেন, আমার ইউনিয়নের অভয়াশ্রম প্রকল্প সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে আমি উপজেলা পরিষদের সদস্য। এ চারটি প্রকল্পের উপজেলা পরিষদের সভায় আমিসহ ১৩ জন সদস্য স্বাক্ষর করেনি। সদস্যদের স্বাক্ষর ছাড়া কীভাবে প্রকল্প পাশ হলো—তা আমার বোধগম্য নয়।

ক্ষুরারোগে ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইন প্রকল্পের সভাপতি ইলিয়াস খান বলেন,  ৩০ জুনের আগেই টাকা উত্তোলন করেছি। ভ্যাক্সিন কিনতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। দুই/এক দিনের মধ্যেই আমরা ভ্যাক্সিনেশন শুরু করব।

কোটালীপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পলাশ কুমার দাশ বলেন, আমরা ৫০ হাজার টাকা পেয়েছি। দ্রুতই এ টাকা দিয়ে ভ্যাক্সিন কিনে আমরা ভ্যাক্সিনেশনের কাজ শুরু করব।

কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, কোনো কোনো প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। কোনো কোনো প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে বলে আমাকে জানানো হয়েছে। টাকা উত্তোলনের জন্য পৃথক কমিটি রয়েছে। তারাই এ টাকা উত্তোলন করেছেন।