হঠাত্ করে মুরগির দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছে রায়পুর উপজেলার পোলট্রি খামারিরা। পাইকারি বাজারে সোনালি জাতের মুরগি কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং ব্রয়লার সাদা জাতের মুরগিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা লোকসান হচ্ছে। দাম কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে হ্যাচিং ডিম (বাচ্চা ফোটানোর) ও এক দিনের উত্পাদিত বাচ্চা বিক্রিতে। গত ১৫ দিন ধরে ক্রমাগত লোকসানের কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছে উপজেলার সাত শতাধিক পোলট্রি ব্যবসায়ী।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রায়পুর রেজিস্ট্রেশনভুক্ত পোলট্রি খামারের সংখ্যা ২২৭। আর রেজিস্ট্রেশন ছাড়া ছোটো-বড়ো খামারের সংখ্যা প্রায় ৭০০।
খামারিদের দাবি, গত মাসেও ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে একেকটি ব্রয়লারের বাচ্চা কিনেছিলেন তারা। একেকটি বাচ্চা বড়ো করতে সময় লাগে ৩০-৪০ দিন। তবে এখন মুরগির দাম বাজারে কমে যাওয়ায় বাচ্চার দামও কমেছে। এতে কিন্তু আমাদের কোনো লাভ হয়নি। কারণ এখন যে বাচ্চা আমরা ২০ থেকে ২৫ টাকায় কিনছি তা বাজারে আসতে সময় লাগে প্রায় দুই মাসের মত।
সাইফুল ইসলাম নামে এক খামারি বলেন, অনেক খামারিই বাজারে গিয়ে মুরগি বিক্রি করতে পারেন না। এক্ষেত্রে খামারের মুরগি দুই থেকে তিন হাতবদল হয়। ফলে লাভের একটি অংশ মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে যায়। বাজারে দাম পড়ে যাওয়ায় বর্তমানে খামারিরা ফড়িয়াদের কাছে পাইকারি ৮০-৮৫ টাকা কেজি দরে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। বাজারে মুরগির দাম না বাড়লে এ দফায় স্থানীয় একেকজন খামারির প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা বহু খামারির।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মুকবুল হোসেন বলেন, ডিম, বাচ্চা, ওষুধ এবং পরামর্শ সার্বিকভাবে পরিবেশ অনুকূল থাকায় উপজেলায় পোলট্রি শিল্পে ব্যাপক প্রসার ঘটেছে।
দাম কমার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্ষায় সামাজিক অনুষ্ঠান হয় না। এসব অনুষ্ঠানে মুরগির কদর রয়েছে। এ সময় বাজারে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। এতে চাহিদা কম ও আমদানি বেশি হওয়ায় বর্তমানে বাজারে মুরগির মাংসের দাম কমে গেছে। তবে কুরবানি ঈদের পর দাম বাড়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।
